ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

আজকের “প্রথম আলো” শিরোনাম “ডেসটিনির সম্পদ : দ্বায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করছে পুলিশ” এই প্রতিবেদনে প্রথম আলোই বলছে ডেসটিনি বিগত ১২ বছর ধরে বাংলাদেশের সাধারন মানুষের কাছ থেকে ৫০০০ কোটির বেশি টাকা সংগ্রহ করেছে এবং ৪১১৮ কোটি টাকা আত্নসাৎ করেছে যার মধ্যে ৯৬ কোটি টাকা পাচার করেছে। এই রিপোর্টের এই অংশ পুর্যন্ত যদি আমরা সত্য হিসাবে ধরে নেই তাহলে পরবর্তী অংশে  যে বিপুল পরিমান সম্পত্তির বিবরন দেওয়া হয়েছে তা কোথা থেকে আসলো। প্রথম আলোর এই প্রতিবেদনের মধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে :

“ডেসটিনির যত সম্পদ: দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের ২২টি জেলায় ডেসটিনির সম্পদ রয়েছে। এ সম্পদ দুই ভাগে বিভক্ত, প্রতিষ্ঠানের নামে ও পরিচালকদের নামে। তবে গ্রুপভুক্ত ৩৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ডেসটিনি ২০০০, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশনের নামেই বেশি সম্পদ।
রাজধানীর বাইরে মুন্সিগঞ্জ জেলায় রয়েছে সবচেয়ে বেশি সম্পদ। জেলার সিরাজদিখানেই রয়েছে এক হাজার ৩০০ কাঠা জমি। (৬৫ বিঘা)
এদিকে, ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীনেরই ২৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে লেকসিটি কনকর্ডে তাঁর নামে রয়েছে আটটি ফ্ল্যাট। এ ছাড়া মগবাজারে একটি, ধানমন্ডিতে দুটি এবং খিলক্ষেতে রয়েছে একটি ফ্ল্যাট।

পুরান ঢাকার ২৫ নম্বর কোর্ট হাউস স্ট্রিট ভবনে আট কাঠার প্লট এবং ধানমন্ডিতে দুই হাজার ৬৩৩ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে তাঁর স্ত্রী ফারাহ দীবার নামে।

ঢাকার কল্যাণপুরের দারুসসালাম ও পুরানা পল্টন লাইনের স্থাপনাবিহীন বাড়ি এবং বাংলামোটরে নাসির ট্রেড সেন্টারের দশম তলায় রয়েছে পাঁচ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোর।

ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনের নামে সিদ্ধেশ্বরী, খিলগাঁও, গেন্ডারিয়া, ক্যান্টনমেন্ট ও ভাটারায় প্লট-ফ্ল্যাট রয়েছে।
বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে রয়েছে ২৪টি রাবার বাগান। খুলনায় সাত একর জমি, ছয় বিভাগীয় শহরে ডেসটিনি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টার নির্মাণের জমি, কক্সবাজারে জমিসহ নির্মীয়মাণ হোটেল ও গাজীপুরে ডেসটিনি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ স্থাপনের জন্য জমি রয়েছে।
ঢাকার বাইরের সম্পদ অরক্ষিত: ডেসটিনির নামে থাকা রাজধানীর বাইরের সম্পদ পুরোপুরিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে না পুলিশ। সংশ্লিষ্ট এসপিরা বলছেন, তাঁরা কিছু জানেনই না এ ব্যাপারে। ডিএমপির সঙ্গে কোনো সমন্বয়ও নেই জেলাগুলোর। ফলে সম্পদগুলো অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহীর বর্ণালী সিনেমা হলটি বন্ধ। সিনেমা হলের মাঠে মাঝেমধ্যে মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ থেকেও অবশ্য আয় হয়। প্রথম আলোর রাজশাহী কার্যালয়কে রাজশাহীর এসপি আলমগীর কবির জানান, ডেসটিনির বিষয়ে আদালতের নির্দেশ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না।
বান্দরবানের লামা থানায় রয়েছে ডেসটিনির সবচেয়ে বেশি রাবার বাগান।”

উপরোক্ত অংশে প্রথম আলোই বলছে ডেসটিনির এই বিপুল পরিমান সম্পদ আছে তাহলে ডেসটিনি টাকা আত্নসাৎ করলো কোথা থেকে?

২০১২ সালের মার্চ মাসের শেষের দিক থেকে বাংলাদেশের প্রথম সারির কয়েকটি পত্রিকা এবং পরবর্তীতে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল ডেসটিনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নিজেস্ব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করে যার ধারাবাহিকতায় দুদক ডেসটিনির বিরুদ্ধে মামলা করে এবং ডেসটিনির পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজনকে আটক করে। এখানে উল্লেখ্য ডেসটিনি-২০০০ লিঃ ছাড়া ডেসটিনি গ্রুপের বাকি ৩৬ টি প্রতিষ্ঠানের একটিরও লাইসেন্স বাতিল বা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়নি। আসলে ডেসটিনি গ্রুপের কোন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুদক এমন কোন একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে পারিনি যার ফলশ্রুতিতে কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন প্রকার শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

এখানে উল্লেখ্য ডেসটিনি গ্রুপের ৩৭ টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান থাকলেও মুল কম্পানী হল ডেসটিনি-২০০০ লিঃ। ডেসটিনি-২০০০ লিঃ ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমার জানামতে ডেসটিনির সাথে প্রতক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে ছিল সারা দেশের প্রায় ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ। ২০১২ সালের মার্চ মাসে যখন ডেসটিনির বিরুদ্ধে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় তখন সারা বাংলাদেশের মধ্যে কোথাও ডেসটিনির কোন ক্রেতা, পরিবেশক, গ্রাহক বা বিনীয়োগকারী ডেসটিনির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি। কোথাও কোন মামলা হয়নি। আচম্কা বাজ পাখির মত কয়েকটি পত্রিকায় একযোগে ডেসটিনির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে থাকে। আর তারই ধারাবাহিকতায় দুদক ডেসটিনির বিরুদ্ধে মামলা করে। এমনকি দুদকের কাছেও ডেসটিনির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ছিলনা, যা দুদকই একাধিকবার স্বীকার করেছে। তাহলে কিশের ভিত্তিতে ডেসটিনির বিরুদ্ধে এই হয়রানি?

 

শাহরিয়ার আরিফ

বিশেষ কেউ নই