ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

মাঝে মাঝে মনে হয় স্টুপিডের স্বর্গরাজ্য হল বাংলাদেশ। মাঝখানে একবার দেখলাম গুম ঠেকানোর জন্য গাড়ীর কাল গ্লাস পাল্টানোর আইন করা হল। মানুষকে বাধ্য করা হল তাদের গাড়ীর গ্লাস পরিবর্তন করতে। একবার চিন্তা করুন তো, অকারনে মানুষের কি পরিমান টাকা এবং সময় অপচয় হল। শুধু টাকা আর সময়ই নয়, সাথে সাথে একটা বাড়তি ঝামেলা মানুষকে পোহাতে হল। কোন যুক্তি আছে এটা করবার..? আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর কাজ হল অপরাধ দমন করা। সমাজে বা রাষ্ট্রে অপরাধীর সংখ্যা সত্যিই খুব নগন্য। কেউ কেউ হয়ত আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন তবে এই কথাটি সত্য এবং প্রতিষ্ঠিত সত্য যে, সমাজে খারাপ মানুষের সংখ্যা অনেক কম। রাষ্ট্রে সাধারন মানুষ বা নিরাপরাধ মানুষের সংখ্যা ৯৫% এরও বেশি। অথচ আমাদের দেশের সরকার ৯৫% এরও বেশি মানুষের কথা না ভেবে ঐ ৫% এরও কম সংখ্যক মানুষকে শায়েস্থা করতে যেয়ে বাকী ৯৫% এরও বেশি সংখ্যক মানুষকে অনর্থক বিপাকে ফেললো। যারা অপরাধ কর্মের সাথে সম্পৃক্ত তাদেরকে সনাক্ত করা এবং আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দ্বায়ীত্ব। রাষ্ট্র সে দ্বায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে না পারলেও সাধারন মানুষকে বিপাকে ফেলার কোন অধীকার রাষ্ট্র সংরক্ষন করেনা। আমাদের মাথায় রাখা উচিৎ রাষ্ট্রের জন্য মানুষ নয়, বরং মানুষের জন্য রাষ্ট্র। দেশে গুম-হত্যা বেড়ে গিয়েছে তাই রাষ্ট্রের করনীয় তা আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর সঠিক তৎপরতায় দমন করা। তারা তা না করে সাধারন মানুষের গাড়ীর গ্লাস পরিবর্তন করতে বাধ্য করলেন। একটা দেশের সরকার এবং আমলাগণ তাদের দ্বায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে এমন একটি আইন করলেন এবং তা মানুষকে মানতে বাধ্যও করলেন। ভাবতে কেমন অবাক লাগে!

এখন এসেছে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাস হচ্ছে তাই পরীক্ষার সময় ফেজবুক বন্ধ করতে! কি পরিমান স্টুপিড হলে এই ধরনের চিন্তা মানুষের মাথায় আসে? কমার্স আমার পাঠ্য ছিলনা, কিন্তু সামান্য যা পড়েছি তাতে একটা কথা এই মুহুর্তে খুব মনে পড়ছে সেটি হল “সমস্যা নির্ণয়ই অর্ধেক সমাধান”। আমার মনে হয় আমাদের সরকারের দ্বায়িত্বশীল লোকজন সমস্যাই নির্ধারন করতে পারেন না। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাস হচ্ছে। ধারাবাহিক ভাবেই তা হয়ে চলেছে। আগে কোন এক সময় শুনতাম,পরীক্ষায় নকল হয়। শুধু শুনতাম বলে কথাটার গুরুত্ব হালকা করতে চাইনা। আসলেও ২০০২-০৩ সালের আগে পাবলিক পরীক্ষা গুলোতে ব্যাপক নকল করা হতো। বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে চাই তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন’র প্রতি। ওনার নকলের বিরুদ্ধে সগ্রামই বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোকে নকলমুক্ত করেছিল, একথা নিসন্ধে সবাই স্বীকার করবেন। যাহোক নকল শব্দাটি বেশ পরিচিত হলেও প্রশ্নফাস এর আগে কখনও এত বেশি শোনা যায়নি যেমনটি যাচ্ছে গত ২-৩ বছরে। আমরা দেখেছি পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাসের বিরুদ্ধে আমাদের দেশের ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেষার মানুষ সভা-সেমিনার, মিছিল-মিটিংও করেছেন। আমি বিশেষ ভাবে বলতে চায় জাফর ইকবাল স্যারের কথা। তিনি এ বিষয়ে কয়েকটি প্রবন্ধ লিখেছেন, শহীদ মিনারে পুর্যন্ত গিয়ে মানুষের সাথে আন্দোলোনও করেছেন, কিন্তু বিশেষ কোন লাভ এখনও দৃষ্যমান নয়। আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ বারবার বলেছেন প্রশ্নফাস হচ্ছেনা। অনেকগুলো প্রমান এবং মিডিয়ার দ্বায়িত্বশীল ভূমিকার জেরধরে অবশেষে উনি একবার স্বীকারও করেছেন যে প্রশ্নফাস হয়েছে কিন্তু, প্রশ্নফাস রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে যে তিনি শতভাগই ব্যার্থ তা এখন প্রশ্নাতীত।

শুধুমাত্র একজন ব্যাক্তিকে দ্বায়ী করাটাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করিনা। কারন নিশ্চয় শিক্ষামন্ত্রী নিজে পরীক্ষার প্রশ্ন ‍চুরি করে ওনার কোন আত্নীয় বা সজনকে দিচ্ছেন না বা এমন কোন কাজে সহায়তাও করছেন না। এই গোটা ব্যবস্থার সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের মধ্যে থেকে একটা চক্র যে কাজটি করছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর এই কু-চক্রটি প্রশ্নপত্রগুলো চুরি করে টাকার বিনীময়ে হোক বা অন্য কোন উদ্দেষ্যে ‍হোক প্রশ্নগুলো পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌছে দিচ্ছে। আর পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌছানোর জন্য তারা ব্যবহার করছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেজবুক। তাহলে এখানে ফেজবুক বন্ধ করলে কি প্রশ্নপত্রফাস বন্ধ হয়ে যাবে? এটা যে পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুইনা তা বুঝতে অন্তত গবেষনা করে মাথায় টাক ফেলানোর দরকার নেই। এটা অত্যন্ত সহজেই বোঝা যায় যে, প্রশ্নফাসের জন্য ফেজবুক বা অন্যকোন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম দ্বায়ী নয়। দ্বায়ি প্রশ্নপত্রের সাথে সম্পৃক্ত কিছু মানুষ। আর এই মানুষগুলোকে নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে অন্য কোন কিছুই আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না। কারন “প্রয়োজনীতায় উদ্ভাবকের জনক”। কথাটা ঐ কু-চক্রী মহলও খুব ভাল করেই জানে।

আপনারা ফেজবুক বন্ধ করলে তারা টুইটারে প্রশ্ন ছাড়বে। আপনারা টুইটার বন্ধ করলে তারা গুগোলপ্লাসে ছাড়বে। এছাড়াও আরও অনেক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম আছে সেগুলো সব বন্ধ করতে হলে আপনাকে পুরো ইন্টারনেট বন্ধ করতে হবে। আপনারা যদি তাও করেন তাহলেও কি সেটা যৌক্তিক সমাধান? না সেটাও যৌক্তিক সমাধান নয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একজন আরেক জনের কাছে এই কয়টা প্রশ্ন বলতে খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হবেনা। এখন যদি আপনি মোবাইল ফোনও পরীক্ষা চলাকালিন সময় বন্ধ রাখতে চান তবে তা হবে পাগলামীর সর্বৎকৃষ্ট উদাহরন। আমাদের গ্রামাঞ্চলে একটা কথা প্রচলীত আছে “দাদীর কবর কোথায়?  আর কাঁদছিস কোথায়?” কথাটা খুব মানানসই মনে হচ্ছে আমাদের শিক্ষামন্ত্রীর ক্ষেত্রে।

যাহোক আমাদের দেশের বিপদ-আপদ বা বড় কোন বিপর্যে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনাটা একটা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। যে কোন ক্ষেত্রে বিশেষ কোন ঝামেলা হলেই আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি। মাঝে মাঝে বেশ সুফলতাও পায়। কিন্তু তাতে রাষ্ট্রযন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধও হয়। কারন যার যার দ্বায়িত্ব সেই সেই সঠিক ভাবে পালন করলে সকলক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন পড়েনা। কিন্তু কি বা করার আছে আমাদের? গত কয়েকবছর ধরে আমাদের শিক্ষামন্ত্রী শুধুপ্রশ্নফাস রোধে যে পরিমান ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছেন এবং সেই পর্বত পরিমান ব্যার্থতা মাথায় নিয়েও তার মধ্যে অনুসুচনার কোন লেসমাত্র দেখা যায়না। যাহোক উনি যে এই ক্ষেত্রে শতভাগই ব্যার্থ তাতে কারুর কোন সন্দেহ নেই। তাই ব্যার্থতার দ্বায় নিয়ে পদত্যাগ করুন নাহলে একজন মানুষের মত আচরন করুন, সমস্যার সমাধান করুন। নির্বোদ প্রাণীর মত আচরন কোন দ্বায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছথেকে কাম্য নয়। আর আমরা? আমার কি করতে পারি..? আমরা এখনও ঐরকম কোন জাতীতে রুপান্তর হতে পারিনি যে, অন্যায়কে অন্যায় মনে করে নিজ দ্বায়িত্বে এড়িয়ে যাব। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মত ব্যাপার মা-বাবা’রা তাদের সন্তানদের জন্য ফাস হওয়া প্রশ্ন জোগাড় করে দেন। ছি..ছি..ছি..! এরকম মা-বাবা হওয়ার চেয়ে সন্তানের গলা টিপে মেরে ফেলুন। আসলে আমাদের বিবেক এখন আর সঠিকভাবে কাজ করে বলে আমার মনে হয়না, আর তা নাহলে আমরাই হয়ত বিবেকের দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়েছি। যাতে অপরাধ করার সময় আমরা আর কারও মুখোমুখি না হয়। আসলে এই লেখাটা যখন লিখছি তখন বার বার দীর্ঘঃশ্বাষ বের হচ্ছে, কেন জানিনা। সবশেষে একটা আকূল আবেদন। কার কাছে করবো..? আল্লাহর কাছে? মহান আল্লাহই পবিত্র কোনআনের মধ্যে বলেছেন “যে জাতী বা ব্যাক্তি,নিজে তার ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট নয় আমি তার ভাগ্য পরিবর্তন করিনা।” তাহলে আমরা আমাদের এই বিপর্যয় থেকে কি ভাবে পরিত্রাণ পেতে পারি? আমার মনে হয় শুধু কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছায় যথেষ্ঠ। যারা একাধিক প্রশ্নপত্র বানানোর কথা বলেছেন আমি তাদের সাথে দ্বিমত পোষন করছি কারন আপনি চোরকে বলবেন চুরি করতে আর গৃহস্থকে বলবেন সাবধান হতে তা কখনও হয়? সঠিক সমাধান হচ্ছে চুরি যাতে নাহয় সে ব্যবস্থা করা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেই কাঙ্খিত ব্যবস্থা নিবে কে? শয়ং শিক্ষামন্ত্রীই তার দ্বায়িত্বে শতভাগ ব্যার্থ! এখন আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করার দ্বায়িত্ব বর্তায় একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উপর।

আমার জানামতে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বে এরকম অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে চমৎকার ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গোটা দেশবাশির পক্ষে আমার আকূল আবেদন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একবার চিন্তা করুন আপনার ছোট ভাই রাসেলের মত নিশ্পাপ শিশুদেরকেও আমরা অপরাধী হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারছিনা। সমাজের কিছু নোংরা মানষিকতার মানুষের জন্য আমরা আমাদের শিশুদের জন্যেও একটি সুন্দর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারছিনা। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী বিগত কয়েক বছর ধরে এই ভয়াবহ সমস্যা সমাধানে কোন যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেননি। আমরা নিরুপায়। দয়া করুন। আমাদেরকে স্বপ্নহারা করবেননা। আমরা যে স্বপ্ন বুকে লালন করে কোন অস্ত্র বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই একটি প্রশিক্ষিত স্বসস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি সেটি হল আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা। সেই স্বপ্ন আমাদেরকে দেখিয়েছিলেন আপনার বাবা জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা আমাদের সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চাই। দয়া করে আমাদেরকে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে একটা সুশিক্ষিত জাতী হিসাবে গড়ে উঠতে সহায়তা করুন। ব্যক্তিগত জীবনে আমার মনে হয়না আপনার আর কিছু চাওয়ার থাকতে পারে। আপনি বাংলাদেশের তিন বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আপনার দুটি সন্তান সুশিক্ষায় শিক্ষিত। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে যেমন আপনি সার্থক তেমনি একজন মা হিসাবেও আপনি সার্থন। আপনার কাছেই আমাদের প্রার্থনা দয়াকরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার এই কলঙ্ককে দূর করুন। আপনি চাইলে আমার বিশ্বাষ আপনি তা করতে পারবেন। দয়া করে আমাদেরকে কলঙ্কমুক্ত করুন। আমাদের শিশুদেরকে সুস্থ মানষিকতা নিয়ে,মাতৃভূমির প্রতি ভালবাসা নিয়ে, দেশকে সোনার বাংলা গড়বার স্বপ্ন নিয়ে বড় হতে দিন।”