ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

পটকাগুলোর একদমই জোর নেই। কাল রাত ১২ টায় নাকি শত শত পটকা ফুটেছে। আমি তো কিছু শুনলাম না! শীতের সকালে সূর্য প্রায়শই প্রতারণা করে। আমি বালিশের নিচে ঘড়ি বা মোবাইল রেখে ঘুমাই না। এমন কি ওয়াল ক্লকও ঘুমানোর ঘরে রাখা আমার পচ্ছন্দ না। সকালে ঘুম থেকে উঠি আদিম মানুষের মত গুহার (জানালার) বাইরে সূর্যের আলো দেখে। শীতকালে মাঝে মাঝে দেরি হয় কিন্তু এই অ্যাডভেঞ্চারটা এনজয় করি।

আজ বছরের প্রথম দিনে দেরি করা যাবে না কিছুতেই। ঠিক ৭.১৫ বাজে। হোয়াট আ টাইমিং! রেডি হতে আমার ৩০ মিনিটের বেশি লাগে না (আমার কনস্টিপেশন নেই)। বাসা থেকে মেইন রোড ১০/১২ মিনিটের পথ। অবশ্যই অন ফুট। পায়ের জুতার প্রতি একদম মায়া না করে আমি প্রতিদিন হেঁটেই রাস্তাটুকু পার হই। এই সময় আমি হাঁটতে হাঁটতে সিরিয়াস বিষয়ে চিন্তা করি। রিকশায় বসে তা সম্ভব নয়। সকালের ফাঁকা রাস্তায় রিকশা চলে তুফানের বেগে। হুডের বাতা ধরে শক্ত হয়ে বসে থাকতে হয়। মৃত্যু চিন্তা ছাড়া অন্য কোন সিরিয়াস বিষয়ে চিন্তা করার অবস্থা তখন থাকে না।

গলির মাথায় হুইল চেয়ারে ভিক্ষুকটা বসে থাকে এই ভোর থেকেই। প্রতিদিন। উচ্চকণ্ঠে সালাম দেয়। স্লা-মা-লে-কু-ম। আমি চমকে উঠি, সিরিয়াস চিন্তায় ছেদ পরে। বিরক্ত চোখে একবার তাকাই শুধু, তারপর চলে যাই। তার অসীম ধৈর্য। একটা টাকাও দেই না কোনদিন। তবুও সালামটা দেবেই। কোন ভুল হয় না।

আজ আগে থেকেই রাস্তার অন্য পাশ দিয়ে যাচ্ছি  যাতে আমাকে খেয়াল না করে। সিরিয়াস চিন্তা বন্ধ রেখেছি। ওকে আতিক্রম করে তবে শুরু করব। কিন্তু ও  ঠিক সময়ে আমাকে দেখে। উৎসাহ নিয়ে দু’হাত তুলে তারঃস্বরে চেঁচিয়ে বলল, হ্যাপি নিউ ইয়ার, স্যার! এত জোরে যে ওর পায়ের কাছে বসে থাকা কুকুরটা ভয় পেয়ে লাফিয়ে উঠে কেঁউ কেঁউ করতে করতে দূরে চলে গেল।

আগে থেকে সচেতন ছিলাম। তবুও চমকে উঠলাম। নতুন বছরের শুরুর দিনে ব্যাটা ওর কাজটা ভালভাবেই করল।