ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

khejurer+rosh+(2)

 

এই শীতে খেজুরের গুড় অতি উপাদেয় খাবার। খেজুরগাছ চেঁছে বাঁশের নল পুঁতে রস সংগ্রহ করা হয়। তার থেকে তৈরি  গুড়কে ‘নলেন গুড়’ বলা হয়।  রস সংগ্রহ করার পর সেই রস জ্বাল দিয়ে ঘন করে নলেন গুড় হয়। এগুলো হাড়িতে রেখে বিক্রি করা হয়। রস আরো বেশি জাল করে তারপর ঠাণ্ডা করে পাটার মত আকার দিয়ে পাটালী গুড় তৈরি করতে হয়যারা খেজুরগাছ কেটে রস বের করে গুড় বানায় তাদের গাছি বলে। গাছি  আর খেজুর রস নিয়ে নারায়ণ গঙ্গপাধ্যায়ের রস গল্পটি বাংলা সাহিত্যে ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে।

যাহোক, বাজারে আসল গুড় চেনা কিন্তু সহজ কাজ নয়। এ বাবদে সোনার দোকানদার আর গুড়ের দোকানদারে কোন তফাৎ নেই। জাত ব্যবসায়ী কখনো নীতিভ্রষ্ট হন না, সেটা গুড়ের ব্যবসা হলেও। আমার ধারণা কেউই গুড় কেনার পর নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবেন না তিনি আসলটাই পেয়েছেন। আমি কিছু কিনতে গেলে দোকানীর কাছে নিজেকে সঁপে দেই। কখনো আগে দাম জানতে চাই না (যদি রেগে গিয়ে খারাপ জিনিসটা গছিয়ে দেয়)। দোকানি নিজের পছন্দে জিনিস দেয়। পরে বিনয়ের সাথে দাম জানতে চাই এবং একটু কম নিতে অনুরোধ করি। তাতে মাঝে মাঝে কাজ হয়। দোকানি দয়া পরবশ হয়ে (বেকুবটাকে ঠকিয়ে মজা নেই তাই বিরক্ত হয়ে) ভাল জিনিস ভাল দামে দিয়ে দেয়। তবে মাঝে মাঝে বেরসিক দোকানদারের খপ্পরে পড়লে নির্মমভাবে ঠকি।

এসব মেনেই নিই। কিন্তু খেঁজুর গুড়ের সমস্যা হল ওতে অন্য কিছু মেশানো থাকলে দুধে দিলে দুধ ফেটে যায়। তাতে আম ছালা দুইই যায়। দোকানি কে তাই ভাল গুড় দিতে বললাম! সে বের করে বলল, ১২০ টাকা কেজি। আমি বিনয়ের সাথে বললাম, ভাই এতে চিনি ছাড়া আর কিছু মেশানো নেই তো? দোকানি মনে হয় রেগে গেল। বলল, ঠিক আছে ভালটা দিতাছি। ৪০০ টাকা কেজি, পারবেন? পারব, তবে যে খেঁজুর গাছের রস থেকে এ গুড় হয়েছে তার দেয়া “অথেনটিসিটি সার্টিফিকেট” লাগবে। বলে উল্টো দিকে হাঁটা দিলাম। একবার ফিরে দেখলাম আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। সারাদিন লোকজনকে বোকা বানায়, মজা লোটে। এমন কথা মনে হয় আগে কখন শোনেনি।