ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

১৮৬১ সনে এই বাংলায় দুটি অসাধারণ ঘটনা ঘটেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম এবং মেঘনাদ বধ কাব্য প্রকাশ। বাংলা ভাষার প্রথম এবং সম্ভবত একমাত্র সার্থক মহাকাব্য হল এই মেঘনাদ বধ। রাবনকে একজন দেশপ্রমিক এবং রামকে একজন পররাষ্ট্র আক্রমণকারী হিসাবে দেখিয়ে তিনি ভারতবাসীর চিরন্তন বিশ্বাসের ভিত্তিমূল নাড়িয়ে দেন। বাংলা সাহিত্য তিনি অনেক কিছুরই প্রথম সৃষ্টিকর্তা। প্রথম সার্থক ট্র্যাজিডি  রচনা, অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তন, সার্থক প্রহসন আর সনেট তার বহুমুখী প্রতিভার সাক্ষী।

ধনী জমিদার আর উকিল বাবা রাজনারায়ণ দত্তের অমিতব্যয়ী সন্তান তিনি। তার জন্য সাতটি পাত্রে ভাত রান্না হত। সেখান থেকে চেখে দেখে যে পাত্রের ভাত ভাল লাগত সেটাই খেতেন। কোথাও বেড়াতে গেলে জুড়ী গাডির ভাড়া মেটাতে পকেটে হাত ঢুকিয়ে যে কয় টাকা উঠত পুরোটাই দিয়ে দিতেন গাড়োয়ানকে। বন্ধুরা টাকা গুনে না দেওয়ায় ভর্ৎসনা করলে বলতেন, রাজনারায়ণ দত্তের ছেলে কাউকে গুনে টাকা দেয় না। সব সময় ফিটফাট থাকতেন। কোট টাই ব্যবহার  করতেন। টাইয়ের নট যাতে ঢাকা না পরে তাই বিশেষ শেপে দাড়ি ছাঁটতেন! বাংলা ভাষাকে তিনি বলতেন ফিশারমেনস’ ল্যাংগুয়েজ। তিনি বিশ্বাস করতেন সাহিত্য রচনার জন্য বাংলা ভাষা উপযুক্ত নয়! হিন্দু কলেজে পড়ার সময়ই লিখেছিলেন, I shall write down on paper the thoughts as they spring up in me and let the world say what it is!

ইংরেজী ভাষায় সাহিত্যে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মোহে খৃষ্টান হলেন। ফল হিসাবে পিতা তাকে ত্যাজ্য করলেন। কিন্তু তিনি হিমালয় সমান অহম নিয়ে বাবাকে অভিশাপ (!) জানালেন, একদিন রাজনারায়ণ দত্তকে সবাই মধুসূদনের বাবা হিসাবেই চিনবে। বাড়ি ছাড়ার পর মাদ্রাজ গেলেন। লিখলেন দ্য ক্যাপটিভ লেডি। কিন্তু তার গায়ে তো ফিশারমেনেরই গন্ধ লেগে আছে। তাই ভাল-মন্দ বিচার দূরে থাক, ইংরেজরা ছুঁয়েও দেখল না সে রচনা। চরম দারিদ্রের মধ্যে বিদ্যাসাগরের কৃপায় যখন ইউরোপ হয়ে দেশে ফেরেন ততদিনে ফিরে এসেছেন নিজের ভাষাতেও, যাকে তিনি জেলেদের ভাষা বলতেন। শেষ জীবনে দারিদ্র তাকে পর্যুদস্ত করে ঠিকই, কিন্তু বাবাকে বলা কথাটা তিনি ঠিকই রেখেছিলেন। মধুসূদনের বাবা না হলে জমিদার রাজনারায়ণ দত্তকে কেই বা চিনত!

আজ ২৫ শে জানুয়ারি মধুকবির জন্মদিন।