ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

 

ব্যবসার ক্ষেত্রে কারও পৌষমাস কারও সর্বনাশের হাত ধরেই আসে। কেউ যদি নিজের সর্বনাশ নিজেই ডেকে আনে তবে রাইভালকে উন্নতির জন্য বেশি কিছু করতে হয় না। সৌভাগ্য নিজেই এসে ধরা দেয়। প্রতিবছর দুই কোটি বৃদ্ধ গাভী ভারতবাসীর গোয়ালে জমা হচ্ছে। এইসব গরু নিয়ে মালিকদের কিছুই করার নেই, এদের মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া। আগে এগুলো বিক্রি করা যেত। মুসলমান আর নিম্নবর্ণের হিন্দু, যাদের মহাত্মা গান্ধী হরিজন নাম দিয়েছেন, তারা খেত। একটা বড় অংশ বাংলাদেশে যেত। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রকাশ্যে গরু জবাই করা নিষিদ্ধ করেছে, বাংলাদেশও পাঠাতে দিচ্ছে না। ইতিমধ্যেই ১১ জনের প্রাণ নিয়েছে তারা নিষেধ না শোনায়। যাদের প্রাণ গেছে তারা কিন্তু মানুষ! এই গরুগুলো মাংস এক্সপার্টাররা নিচ্ছে না কারণ এগুলোর মাংস নিম্নমানের।

 

 

এখন কি করবে এইসব গরীব মানুষেরা? বৃদ্ধ গাভী একটা বিক্রি করে তারা অনায়াসে দুইটা বাছুর কিনতে পারত। ফলে তাদের বিজনেস ডাবল হয়ে যেত। অন্য কোন বিজিনেসে স্যালভেজের এত গুরুত্ব থাকে না। এখন এসব গরুদের পালতে হচ্ছে বিনা কারণে, কোন লাভের আশা ছাড়াই। মানে তাদের কষ্টের টাকা জলে  যাচ্ছে। এরা নিজেদের ছোট ছোট বাচ্চাদেরকেই শিশু বয়সে কাজে লাগিয়ে দেয় বসে বসে খাওয়ানোর সামর্থ নেই বলে। ইতিমধ্য তারা বিকল্প হিসাবে মহিষ পালন শুরু করেছে। কিন্তু আর্থিক ভাবে মহিষ গরুর ভাল বিকল্প নয়। এর মাংস গরুর মত আদরণীয় নয়, দুধও গরুর থেকে কম হয়। এসব দেখে বলা যায় ভারত আর পৃথিবীর অন্যতম দু্ধ-মাংস উৎপাদনকারী থাকতে চাচ্ছে না।

এই সুযোগটাই বাংলাদেশকে নিতে হবে। কি করতে হবে তা সরকারের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কে ভালভাবে ভেবে দেখতে হবে। আমার কিছু সাজেশন আছে। সরকারের মন্ত্রীরা তাদের কথাবার্তায় ঘুষকে মাঝে মাঝেই এনডোর্স করেন। অর্থমন্ত্রী একে স্পীড মানি বলে থাকেন। বেশ, তবে এই টাকা দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আর একটু স্পীডআপ করা যাক না!!

২৫% সিন ট্যাক্স (!) ধরে এই টাকাগুলো সাদা করে দিন। যে টাকা সরকারের আয় হবে তা গো-পালনে বিনা সুদে ঋণ দেয়া যায়। আরও বেশি গরু পালন শুরু হলে গো-খাদ্য সংকট প্রকট হবে। তাই গো-খাদ্য আমদানিকে আরো মসৃণ করতে হবে। কোন শুল্ক নেয়া যাবে না। পারলে কিছু ভর্তুকি দিতে হবে। আমাদের দেশটা খুব ছোট। তাই বেশি করে গরুর খামার হলে জায়গার দরকার পড়বে। এতে কৃষি জমির উপর হাত পড়বে। তাতে খুব বেশি সমস্যা হবার কথা নয়। এমনিতেই আমরা খাদ্য আমদানি করিই, আর একটু বেশি করলে খুব সমস্যা হবে না, বরং লাভ হবে। যেহেতু কৃষি জমি আরো বেশি ফলপ্রসু ব্যবহার হচ্ছে। প্রোটিন কার্বোহাইড্রেড থেকে বেশি দামি।

খনার বচন আছেঃ

“গরু-জরু-ক্ষেত-পুতা
চাষীর বেটার মূল সুতা।”

 

গরু, স্ত্রী, জমি, পুত্রই একজন কৃষকের মেরুদণ্ড। কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিতে সেটাই হওয়ার কথা। বিপুল জনবহুল এ দেশের শ্রম নিবিড় কৃষি থেকে সরে আসা সহজ নয়। বিপুল জনসংখ্যার কর্মসংস্থান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে। এছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। পশুপালন কৃষি কাজ হলেও একাজে শিল্পের গুনাগুণও বিদ্যমান। একাজে জমি কর্ষণের তুলনায় ভূমির ব্যবহার কম, তুলনায় নগদ অর্থের প্রবাহ অনেক বেশি। তাই দেশের উন্নতির জন্য এর থেকে ভাল বিকল্প কি হতে পারে?