ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

আর্জেন্টাইন-স্পেনীয় নাগরিক হিসেবে ২০০৪ সালে মেসিকে স্পেনের জাতীয় অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলে খেলার জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। মেসি এটা জানেন একটা বিশ্বকাপ পাওয়া তার জন্য অনেক সহজ, যদি তিনি স্পেনের পক্ষে খেলেন। তার সময় স্পেন একটা বিশ্বকাপ পেয়েছে। যদি তিনি থাকেন তবে সংখ্যাটা একাধিক হবে কোন সন্দেহ নাই। এমন নয় যে তিনি স্পেনের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়। আসলে তো তার ফুটবলার হওয়াই হতো না যদি না তিনি স্পেনে যেতে পারতেন। ১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের (growth hormone) সমস্যা ধরা পড়ে। স্থানীয় ক্লাব মেসির প্রতি তাদের আগ্রহ দেখালেও সে সময় তারা চিকিৎসা খরচ বহন করতে অপারগ ছিল। দরিদ্র দেশের ফুটবল ক্লাবের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালান সম্ভবও নয়। বার্সেলোনা মেসির চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজী হয়। মেসি এবং তার বাবা বার্সেলোনায় পাড়ি জমান। সেখানে মেসিকে বার্সেলোনার যুব একাডেমির সভ্য করে নেয়া হয়।

গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি নিয়ে যে শিশু জন্ম নেয় তার সবচেয়ে লক্ষণীয় উপসর্গটি হল উচ্চতা সমস্যা। মেসির উচ্চতা কম। আর যে যে সমস্যা হতে পারে তা হল অগঠিত পেশি, উচ্চ কোলেস্টেরল মাত্রা বা হাড়ের কম ঘনত্ব। এসব জন্মগত সমস্যা নিয়ে যে শিশু এই ধরাধামে আসল তাকে তো শারীরিক প্রতিবন্ধী (!) বলতেই হয়, বিশেষ করে যদি সে ভবিৎষতে ফুটবল খেলতে চায়। ফুটবলে খেলার জন্য একজন এথলেটের থেকেও বেশি এথলেটিক শরীর দরকার পড়ে। তাকে পুরো ৯০ মিনিট টানা দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। কখনও আর বেশি সময়!

মেসি এ সমস্যাগুলো নিয়ে, এগুলোকে জয় করে ফুটবল খেলছেন। শুধু কি খেলছেন? আমার ধারণা পেলে আর মেরাডোনা বাদে এ গ্রহে খুব কম লোকই আছেন যিনি মেসির থেকে ভাল ফুটবলার কল্পনা করতে পারেন। অনেকেই অনেক অনেক কথা বলেছেন মেসিকে নিয়ে। আমি শুধু রোনালদিনহোরটা উল্লেখ করছি, “মেসি বিশ্বসেরা। আমার কোন কিছুর আক্ষেপ নেই কিন্তু একটা আক্ষেপ সবসময় থাকবে। আমি মেসির সাথে বেশিদিন খেলার সুযোগ পেলাম না। আমি তার সাথে আবার খেলতে চাই।”

পেলে একবার বলেছিলেন, “মেসি যদি আমার মত ১১০০ গোল করতে পারে এবং ৩ টা বিশ্বকাপ জিততে পারে তবেই আমার সাথে তুলনায় আসতে পারবেন।”

১১০০ গোল মেসি হয়ত করে ফেলবেন। কিন্তু গ্রেটেস্ট হবার পেলের তরিকা যদি মেসি মানতেন তবে অনেক আগেই স্পেন জাতীয় দলে তিনি নাম লেখাতেন। এসব কিছু তার দরকার নেই, তিনি তো মেসি। এই পৃথিবীতে আসার পর যে মাটিতে প্রথম পা পড়লো সে তো মা-সম, মাকে খুশি করতে না পারলে কি হবে সে বিশ্বকাপ দিয়ে!

এবারের বিশ্বকাপ খেলারই কথা ছিল না আর্জেন্টিনার। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। একবারে শেষ মুহূর্তে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ জিতে বিশ্বকাপের টিকেট নিতে হয়েছে। সে রাতে এ বিশ্ব স্তব্ধ হয়েছিল। যখন ফলাফল আসল সব থেকে খুশি কি ফিফাই হল? ভাবুন, ফিফা এক বিয়ের কনে। আর বিশ্বকাপ তার বিয়ের অনুষ্ঠান। কনে কি চাইবে না যে এই গ্রহের সেরা পারফরমার তার অনুষ্ঠানে থাকুন?