ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

হাজী কোরপ আলী সম্পর্কে একটা কথা আমি আমার পিতার মুখে শুনেছিলাম। উনি নিজের জমির ধান কাটার সময় জমির চারদিকের পাঁচ হাত পরিমাণ জায়গার ধান আলাদা করে রাখতেন। এ বিষয়ে ওর ব্যখ্যা হল, চারপাশের জমিগুলোর ধান বোনার সময় হয়ত কিছুটা ধান ছিটকে এসে তাঁর জমিতে পড়েছে, তাই সে বীজ থেকে যে ধান হয়েছে তা তিনি নিতে পারেন না। তিনি ওই ধানগুলো গরিব মানুষকে দিয়ে দিতেন। জ্যামিতিক হিসাবে এভাবে তিনি নিজের জমির কমপক্ষে এক – তৃতীয়াংশ ধান গরিব মানুষকে দিয়ে দিতেন। দান করার ধরণটা লক্ষণীয়। দানের গৌরব নিতে মোটেও ইচ্ছুক নন তাই অদ্ভুতভাবে নিজের দানকে দায় মেটানো হিসাবে ব্যখ্যা দিতেন!

বড় কাজের জন্য বড় মন লাগে। সেটা যে ওনাদের আছে তা বংশ পরস্পরায় দেখিয়েছেন। হাজী কোরপ আলীর ছেলেও অনেক  স্কুল-কলেজ করেছেন নিজ জেলায়। তাঁর অনেক পরিচয়ের সব থেকে বড় পরিচয় হল দানবীর আর গৌণ পরিচয় উনি সাংসদ ছিলেন।  অনেকে সাংসদ হয়ে ধনী হয় কিন্তু উনি আগে ধনী হয়েছেন পরে সাংসদ।

বড় কাজের গৌরব চলতেই থাকে। যে গৌরবের ধারাবাহিকতার এবার  কামারখন্দে প্রতিষ্ঠিত হল ৫০ শয্যার হাসপাতাল । প্রতিষ্ঠা করলেন কোরপ আলীর সুযোগ্য নাতিরা । তিন ভাই মিলে ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন। সে ব্যবসার লভ্যাংশের একটা অংশ দিয়ে অকাল প্রয়াত বড় ভাই খোকনের নামে চ্যারিটি ফান্ড করেছেন প্রথম থেকেই । এতদিন সে ফান্ড থেকে মানুষকে বিয়ে-শাদি, চিকিৎসাসহ নানা  কাজে সাহায্য করতেন । ব্যবসা অনেক বড় হয়েছে । তাই চ্যারিটি টাকা দেবার ক্ষমতা বেড়েছে । সে টাকা দিয়ে এখন গড়ে উঠেছে এমন আধুনিক এক হাসপাতাল।

যে হাসপাতাল হলো তার গুরুত্ব কি এলাকার মানুষ বুঝবে? তারা এই পরিবারের অনুগ্রহ পেতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে যা হয়, মানুষ একসময় অনুগ্রহকে অধিকার ভাবতে থাকে।  তাই এই হাসপাতাল নিয়ে ভাবতে হবে সমগ্র সিরাজগঞ্জের মানুষকেই। এটা করা হয়েছে প্রথমত তাদের কথা ভেবেই। এটা তাদেরই হাসপাতাল।

গাছ বপন করা হয়েছে । ফল আপনারা ভোগ করবেন। কিন্তু সাথে সাথে সে গাছের যত্ন আর ভালবাসার দাবি ভুলে যাবেন না। একদিন খোকন চ্যারিটেবল হাসপাতাল (কেসিএইচ) ভেলরের  সিএমএইচ’র মত হবে সেই স্বপ্ন দেখা যেতেই পারে।