ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শিক্ষকদের হাতে বন্দুক দেওয়া হলে স্কুলে বন্দুক হামলা চালিয়ে হত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় মার্জোরি স্টোনম্যান ডগলাস হাইস্কুলে বিদ্যালয়টির প্রাক্তন এক ছাত্র এলোপাতাড়ি গুলি করে ১৭ জনকে হত্যা করে। এরপরই নতুন করে আবার আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্যালেরিয়া সারাতে কুইনিন প্রেসক্রাইব তো করলেন, কিন্তু কুইনিন সারাবে কে? মানুষের হাতে অস্ত্র থাকলে ভিতরে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর ঘটে তা নিশ্চিত করে বলা যায়। বিশেষ করে মানসিকভাবে যারা দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী হয়। অর্থাৎ এই মানুষগুলোই অস্ত্র্র দ্বারা বেশি প্রভবিত হয়।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

অস্ত্র নিজে বিপদের কারণ নয়, বিপদ আসে এর পিছনের মানুষের কাছ থেকে। এ কারণে কারো হাতে অস্ত্র দেয়ার আগে সে তা হাতে নেয়ার যোগ্য কি না তা যাচাই করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদী ট্রেনিং দিয়ে তার মধ্যে নিয়মানুবরতিতা, শৃঙ্খলদবোধ, আনুগত্য সহ নানা মানবিক গুনাবলিকে শানিত করা হয়। তারপর তার হাতে অস্র তুলে দেয়া হয়। সারা পৃথিবীর সব সভ্য দেশ এভাবেই কাজটা করে, এভাবেই কিছু মানুষের দ্বারা বাকি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

যে শিক্ষক সারা জীবন ছাত্র পড়িয়ে পার করেন তার হাতে বন্দুক দিলেই তিনি তা ঠিক সময়ে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারবেন তার নিশ্চয়তা কি? আর তার দ্বারা কোন অঘটন যে ঘটবে না কে বলতে পারে? অস্ত্রের ত্রাস থেকে বাঁচতে সমাজে আরো অস্ত্র ঢুকানোর কি অদ্ভূত পরিকল্পনা! শিক্ষকের হাতে কলম রেখে বন্দুক!

যে শিক্ষক সারা জীবন কলম চালিয়ে অভ্যস্ত, তার হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া কতটা নৈতিক? ট্রাম্প কি নৈতিকতার পাঠ নেয়ার কোন সুযোগই পাননি?

আপনি স্কুলগুলোকে নিরাপদ করতে চান ভালো কথা। সেখানে প্রশিক্ষিত সশস্ত্র পুলিশ দিন, অথবা স্কুলগুলোকে নির্দেশ দিন নিজেদের জন্য সশস্ত্র প্রহরীর ব্যবস্থা করতে। তা না করে শিক্ষকের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়ার বোকামি! যার যা কাজ তাকেই সেটা করতে দেয়া উচিত।