ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আনেকদিন আগের কথা। তখনও সরকারি রেডিও ব্রাত্য হয়ে  যায়নি। লোকজন  দুপুর বেলা খাবার পর আয়েশ করে উঁচু ভলিউমে রেডিওতে সিনেমার প্রোগ্রাম শুনত। তেমনি এক দুপুরে পাশের বাসার রেডিওতে মান্নার কণ্ঠ শোনা যাচ্ছিল, “না, লজ্জা আমার নেই!” তারপরই নাজমুল হোসাইনের কণ্ঠ শোনা গেল, “যার লজ্জা নেই তাকে কি বলে?” উত্তরে, “হাঁ ভাই, যার লজ্জা নেই তাকে বলে নির্লজ্জ।”

পরশুদিন সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী তেমনি কিছু লজ্জার কথা সংসদে মান্নার মতোই চিৎকার করে বললেন। জানতে চাইলেন, তারা কি সরকারি দল নাকি বিরোধী দল? (সিনেমাতে মান্না তার মায়ের কাছে জানতে চায়, কে আমার বাবা?)। তারা দেশে-বিদেশে নিজেদের পরিচয় দিতে পারেন না। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা লাগে। কারণ সবাই জানতে চায়, জাতীয় পার্টি সরকারি দল না বিরোধী দল! প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা প্রশ্ন রাখেন, “আমরা সরকারি দল না বিরোধী দল, কোনটা আমরা?”

 

 

সংসদের শেষ বছরে এসে তাদের এই লজ্জা পাওয়া দেখে আশ্বস্ত হবার কোন কারণ দেখছি না। এ লজ্জা হল- ‘বুঝিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া যাওয়ার’ মতো ‘বুঝিয়া শুনিয়া লজ্জা পাওয়া।’ বিএনপি এবার ধনু ভাঙ্গা পণ করেছে, যা কিছুই  হোক নির্বাচনে যাবেই। কাজেই গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যে একটা গৃহপালিত বিরোধীদল দরকার ছিল, এবার আর সেটা লাগবে না মনে হচ্ছে। তাই ‘এবার আর আওয়ামী লীগের কাছে আগের আদর নাও থাকতে পারে’ এই ভয় জাতীয় পার্টির মনে চলে এসেছে। এই জন্যই সময় থাকতে থাকতেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দাবি- ‘না হয় আমাদের ৪০ জনকে সরকারে নিয়ে নেন। বিরোধী দল দরকার নেই।’

যে নির্লজ্জ, মরবার আগেও তার লজ্জা হয় না। আর যে দলের প্রধানের টাইটেল ‘বিশ্ববেহায়া’, তাদের লজ্জা আছে কি নাই সে প্রশ্ন অবান্তর। তাই সংসদে দাঁড়িয়ে যতই নিজেকে লাজুক প্রমাণ করতে চান, মানুষ আপনাদের নির্লজ্জতার অতীত রেকর্ডের কথা মনে করে স্ব-লাজ হাসি হাসবেই।