ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

ছবি: উইকিপিডিয়া

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ১৯৩৬ সালে ডা. রফিকুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে ইংল্যান্ড থেকে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঔষুধ (Tropical medicine) এবং স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নেন তিনি। পরে আইসিডিডিআরবিতে যোগ দেন ১৯৬০ সালে এবং ২০০০ সালে সেখান থেকে অবসরে যান।

ডা. রফিকুল আইসিডিডিআরবিতে থাকাকালীন সময়ে বেশ কিছু ওষুধ আবিষ্কার করেন, যার মধ্যে ওরস্যালাইন অন্যতম। যেটা আমরা সবাই হয়তো জানি, আধা লিটার পানিতে এক মুঠো চিনি বা গুড় এবং তিন আঙ্গুলের এক চিমটি লবণের মিশ্রণ। ব্যাস! ঘরে বসে ডায়রিয়ার পানিশূণ্যতা দূরীকরণের অতি সহজ উপায় তৈরি হয়ে গেল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গে অনেক বাংলাদেশি শরণার্থী কলেরা রোগে আক্রান্ত হলে ঐ রোগীদের বাঁচাতে এই স্যালাইন পদ্ধতি প্রয়োগ করেন তিনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৮০ সালে ডা. রফিকুল ইসলামের এই আবিষ্কারকে স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে এনজিও ব্র্যাক এই ওরস্যালাইনকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়ার কাজটি করে। ডায়রিয়ার হাত থেকে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশুর জীবন বাঁচানোর কৃতিত্ব পায় এই খাবার স্যালাইন (ওআরএস)। জনস্বাস্থ্যে খাবার স্যালাইনের গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যান্সেট’ এটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার আখ্যা দিয়েছিল

অবাক করার মত বিষয় হল, ডা. রফিকুল ইসলাম এবং তার দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্র আইসিডিডিআর’র  নোবেল  না পাওয়া নিয়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞান বাদ দিলাম। এত সাধারণ একটা প্রযুক্তি, তা যতই কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচাক, নোবেল কমিটির তা পছন্দ নাও হতে পারে। গরীব দেশের এক বিজ্ঞানী আমেরিকা-ইউরোপের কুলীন গবেষকদের কাছে পাত্তাই বা পাবেন কেন! কিন্তু শান্তিতে নোবেল দিতে অসুবিধা কোথায় ছিল? কত অভাজন এটা পায়! সূচি গলায় নোবেল ঝুলিয়ে মানুষ মেরে যাচ্ছেন। পুরোদস্তুর বিজনেসম্যান নোবেল মঞ্চে দাপিয়ে বেড়ায়। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এই মঞ্চের জৌলুস বাড়ায়। এমনকি ইসরায়িলের প্রধানমন্ত্রীও! হায় কপাল!

কিছু কিছু পুরষ্কার দিতে পারলে পুরষ্কার দাতারই গৌরব বাড়ে। যদি বৈশ্বিক ক্ষেত্রে  ডা. রফিকুল এর অবদান বিবেচনায় নিয়ে তাকে  শান্তিতে নোবেল দিতে পারতো, তাহলে নোবেল ফাউনডেশন নিজেই ধন্য হত।

দুঃখজনক বিষয় হলো, গত সোমবার (৫ মার্চ, ২০১৮) সকালে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে  ডা. রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন। নোবেল কমিটি চাইলেও আর তাকে সম্মানিত করে নিজের গৌরব বাড়াতে পারবে না।