ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

নাহ! একজন পুরুষের পক্ষে নারীর চোখে বিশ্ব দেখা সম্ভব নয়। প্রকৃতি তাকে সেই অনুগ্রহ করেনি। পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হলো সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তার মায়ের তাকিয়ে থাকার দৃশ্য। যে গর্ব, যে ভালোবাসা, যে হাসি তখন তার মুখে ভেসে উঠে তার সৃষ্টি অন্য ভুবনে। নয় মাস গর্ভ ধারণ এবং প্রসবকালীন যে যন্ত্রণা একজন নারী সহ্য করেন তা কোন কিছুর সাথেই তুলনীয় নয়।

প্রসবের সময় কতটা  যন্ত্রণা একজন  মাকে সহ্য করতে হয়? চিকিৎসাশাস্ত্রের মাপকাঠিতে একজন মানুষ সর্বাধিক ৪৫ ডেল (যন্ত্রণা পরিমাপের একক) যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে। কিন্তু স্বাভাবিক প্রসবের সময় একজন মাকে ৫৭ ডেল যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়, যা ২০টি হাড় একসাথে ভাঙ্গার যন্ত্রণার সমান!

গৌতম বুদ্ধ কঠিন সাধনার মাধ্যমে নির্বাণ লাভ করেছিলেন। বছরের পর বছর সে সাধনায় ঘুমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছিল। তাই তিনি নিজের চোখের পাতাগুলো কেটে ফেলেছিলেন, যাতে ঘুম না আসে। আমার মনে হয় প্রতিটি নারী সন্তান লাভে যে কষ্টকর পথ পারি দেন, তা শুধু বুদ্ধের নির্বাণ লাভের সাধনার সাথেই তুলনীয়। আর সন্তানই তার নির্বাণ যা বিধাতার সৃষ্টির ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।

বাইবেলে আছে, প্রভু যিশুর জন্মের জন্য কোন পিতার দরকার হয়নি, ঈশ্বরের বিশেষ অনুগ্রহে কুমারী মেরির গর্ভে যিশুর জন্ম হয়। ঈশ্বর তো তাকে মা ছাড়াও এই পৃথিবীতে আনতে পারতেন, কেন তা করলেন না? এতে করে ঈশ্বর কি এটা বোঝাতে চাননি যে, “আমার সৃষ্টির ধারাবাহিকতার জন্য পুরুষ তোমাকে অাবশ্যক দরকার নেই, কিন্তু নারী তোমাকে লাগবেই!”

পুরুষ এমন নির্বাণ লাভ করবে কিভাবে? আর তাই একজন পুরুষ পারে না নারীর চোখে বিশ্বটাকে দেখতে। আসলে সে যোগ্যতাই তো নেই তার!