ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

কাল রাতে যা হল তাকে শুধু খেলা বলা যায় না। এর আগে সফরে আসা শ্রীলংকা বাংলাদেশকে তিন সংস্করণে পর্যদুস্ত করে। তারও আগে চন্দ্রিকা হাতুরুসিংহে সাউথ আফ্রিকা সফরের পরাজয় মেনে নিতে না পেরে চলে যান। এমন পলায়নপর মানুষ জাতীয় দলের কোচ না থাকাই উচিত, ভালই হয়েছে। হাতুরু শ্রীলংকান এবং বাংলাদেশ থেকে শ্রীলংকা জাতীয় দলে যোগ দেন। এসব কারনে এক ধরনের মনস্তাত্বিক ব্যাপার ভিতরে ভিতরে জমাট বাঁধছিল। তাই শ্রীলংকার কাছে নিজের মাঠে এমন নাস্তানাবুদ হওয়া হজম করা দল এবং সমর্থক দুইয়ের জন্যই কঠিন হয়ে গেয়েছিল। এসব সময় সাধারণত একজনকে বলির পাঠা করা হয়। সে বলির পাঠা হলেন সুজন। সব সমালোচনার লক্ষ্যস্থল তিনি। অবস্থা এমন দাঁড়ায়, বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাঁকে আদর করে ডাকা হয় দ্য ফাইটার, সেই তাঁরই কথাবার্তায় ভেঙ্গে পড়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়।

তাঁকে কিন্তু এমনি এমনি ফাইটার ডাকা হয় না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের একের পর এক লজ্জাজনক পরাজয়ে দেশের টেষ্ট ট্যাটাস যখন প্রশ্নের মুখে ঠিক তখনই আরেক খালেদ, খালেদ মাসুদ পাইলটের কাছ থেকে তাঁর হাতে অধিনায়কত্ব আসে। রাতারাতি বদলে যায় দল। পাকিস্তান সফরে যায় দল। ২০০৩ সনের সে সফরের স্মৃতি সমর্থকদের মনে আজো অম্লান। ওয়াসিম, ইনজামাম, সাঈদ আনোয়ার, শোয়েবদের নিয়ে গড়া সে পাকিস্তান ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের ত্রাস। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে গিয়ে যে কোনো দলকে হারিয়ে দেবার ক্ষমতা রাখে তারা। নিজের মাটিতে সে দলকে টেষ্টে প্রায় হারিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। পারেনি শুধু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আম্পায়ারের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সাথে ইনজামামের অতিমানবীয় ব্যাটিং এর জন্য । এরপর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরাট বদল আসে । কেউ আর বাংলাদেশের সাথে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলতে আসার সাহস করে না । বাংলাদেশের জয়ও আর ফ্লুক মনে হয় না বড় বড় ক্রিকেট বোদ্ধাদের কাছেও ।

গতকাল রাতে অন্য কিছু হতে পারত । আর হলে তা অবশ্যই বাংলাদেশের পক্ষে যেত না। বাংলাদেশ দল কালকে শুধু যে বড় ধরনের শাস্তি এড়িয়েছে তাই না,  উল্টো জয় তুলে নিয়েছে। সবকিছু যে ঠিকভাবে শেষ হয়েছে তার কৃতিত্ব সুজনকে দিতে হবে, অন্তত টিভিতে দেখে তাই মনে হয়েছে ।

৬ বলে দরকার ছিল ১২ রান। স্ট্রাইকিং প্রান্তে বোলার মুস্তাফিজুর। তাই ফায়দা নিতে বাউন্সার দিলেন বোলার। কোনোক্রমে সেটা এড়ালেন তিনি। এবার ৫ বলে দরকার ১২। ওপাশে বাংলাদেশের সবচেয়ে  ঠাণ্ডা মাথার খেলোয়াড় মাহমুদুল্লাহ স্ট্রাইক পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। পরের বলাটাও বাউন্সার। কিন্তু ঝামেলা বাঁধালেন আম্পায়ার। তিনি মোস্তাফিজুরকে কট বিহাইন্ড ঘোষনা করলেন লেগ আম্পায়ারের নো বল কল অগ্রাহ্য করে। সমীকরণটা এখন দাঁড়ালো ৪ বলে ১২ রান।

এই পরিস্থিতিতে এটা মানা কঠিন। লেগ আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিলে বাংলাদেশ শুধু একটি বাড়তি রানই পেত না, পেত ফ্রি হিটের জন্য বাড়তি একটা বল এবং বেঁচে যেত ফিজের উইকেটটা। মাহমুদুল্লাহ তাই লেগ আম্পায়ারের কাছে জোড়ালো আপিল করলেন। কিন্তু বলটা বৈধ এই সিদ্ধান্তে অটল রইলেন আম্পায়ার। বাংলাদেশের সব খেলোয়াড় উত্তেজনায় লাইনের কাছে কাছে চলে এসেছেন। অধিনায়ক সাকিব মাহমুদুল্লাহদের মাঠ ছেড়ে চলে আসতে বললেন। কিন্তু সুজন অনড়। তিনি ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। মাহমুদুল্লাহদের নির্দেশ দিলেন খেলা শেষ করে আসতে। বাংলাদেশ নাটকীয় জয় পেল এক বল বাকি থাকতেই।

বাংলাদেশ যদি গতকাল হেরেও যেত তবুও সুজনের এই সিদ্ধান্ত এতটুকু ভুল বলা যেত না। মাঠে আম্পায়ার ভুল সিদ্ধান্ত নিলেও সেটা বহাল থাকবে। পরে হয়ত আম্পায়ারের কাছে কৈফিয়ত তলব করবে আইসিসি। কিন্তু তাতে ঐ খেলার ফল বদলাবে না। ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটে এটাই নিয়ম। খেলা বয়কটের জন্য কাল বাংলাদেশ শুধু হেরেই যেত না অধিনায়ক সাকিব নিষিদ্ধ হতে পারতেন। বাংলাদেশও বড় ধরনের শাস্তি পেতে পারত। এসব কিছুই হয়নি সুজন ছিলেন বলে। তাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে ধন্যবাদ আশা করতেই পারেন ফাইটার খালেদ মাহমুদ সুজন।