ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

যদি আজ বাংলাদেশ না জেতে তবুও কাল আমরা অফিস করব । চোট পাওয়া প্রেমিকের মত ঝিম মেরে বসে থাকব কিছুক্ষণ। তারপর শুরু হবে তুমুল আলোচনা। অনেক আফসোস নিয়ে বলব, যদি সাকিব একটু কম পাকনামি করত! মোস্তাফিজুরকে এত পরে বল দিল কেন! আম্পায়ার ইন্ডিয়াকে ’ফেভার’ না করলে …!

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, সুখের মত ব্যথা । এ অনুভূতি বালিকার কটাক্ষ বানে হয়। আবার খেলায় হারলেও হয়। যা চাই তা পেতেও পেতেও মিস করলাম, এ ব্যাথাতেও এক ধরনের সুখ আছে। সবদিন সবকিছু নিজের মন মতো হয় না। আজ হয়নি কাল নিশ্চয়ই হবে। তাই জীবনটা আবার স্বাভাবিক ভাবে চলতে শুরু করবে। তবুও মুদি দোকানিটা জিনিস ওজন করতে গিয়ে হঠাৎ আনমনা হয়ে যাবে। তপ্ত দুপুরে রিকশা টানতে টানতে রিকশাচালক আকাশ পানে তাকিয়ে বলবে ইশ…!

যে যুবক বাবা-মা- স্ত্রী- সন্তান গ্রামে রেখে ঢাকা এসেছে রুজির তাগিদে সে দিনমান শুধু তাদের কথাই ভাবে। সেই যুবাও আজ উত্তেজনা-আনন্দে সব কিছু ভুলে গেছে । চায়ের দোকানে সবার সাথে হৈ হৈ করে খেলা দেখছে । তার মাও ছেলের কথা ভুলে টিভিতে মজেছেন । মাঠে যে দুরন্ত সাহসী ছেলেগুলো দেশের হয়ে খেলছে তাদের বাহবা দেন। এক সময় ওদের মাঝে নিজের ছেলেকে খুঁজে পান।  ছেলেগুলো যেন জিতে যায়! হেরে গেলে তার মনটা বড় খারাপ হয়। আবার নিজের ছেলেটাকে মনে পড়ে । মেসের খাবার খেতে পারে না পাগল ছেলেটা ।

শত বঞ্চনার মাঝে খেলাধূলাই পারে আমাদের এভাবে আনন্দ দিতে। জিতলে তো কথাই নেই, হারলেও যে আনন্দ খেলা দেখে পেলাম তা মূল্যবানই থেকে যায়। আমাদের দেশটা বড্ড গরীব। গর্ব করবার খুব বেশি কিছু নেই আমাদের। পথে-ঘাটে আনন্দের উপকরণ ছড়িয়ে থাকে না। এর মাঝে উজ্জল ব্যতিক্রম হল ক্রিকেট। ছেলেগুলো এই খেলা দিয়ে আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়ে গেছে। ক্রিকেটই পারে ১৬ কোটি মানুষকে একসাথে আলোড়িত করতে। অন্য আর কিছু কি আছে এমন!

তাই হারলেও আমরা যেন হতাশ না হই। খেলা দেখে আনন্দ করব, খারাপ খেললে সমালোচনা করব, আফসোস করব। কিন্তু বিশ্বাস হারাব না। আজ হল না তো কি! কাল হবে । এই ছেলেগুলো জিততে পারে, তাই আগামি দিন নতুন সূর্য উঠবেই।