ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

শ্রীলংকা হারলো বাংলাদেশের কাছে। রাগ তো তাদের হবার কথা। কিন্তু ‘বাবু যত বলে পারিষদ দলে-বলে তার শতগুণ’ বাক্যের মতো ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান মিডিয়া বাংলাদেশ দলকে ধুয়ে দিল। সুনীল গাভাস্কার, যিনি ঐ খেলার টিভি ধারাভাষ্যকার ছিলেন, নিজের প্রফেশনাল এথিকস ভুলে গিয়ে বাংলাদেশের একতরফা সমালোচনা করে গেলেন। যেন তিনি ম্যাচ রেফারির ভূমিকায় আছেন, বলে দিলেন সাকিবদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে। অথচ মহেলা জয়বর্ধনা শ্রীলংকান হয়েও কতটা সংযত, ভদ্র আর গঠনমূলক কথা বললেন।

ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটে অভদ্রতা আমদানিতে ভারতের কতটা ভূমিকা সে আলোচনায় না গিয়েও এটুকু বলা যায় যে, বাণিজ্যিকীকরণ করে ইন্ডিয়া এ খেলাটির বারটা বাজিয়েছে। খেলা যে শেষ পর্যন্ত আর খেলা থাকছে না তার মূলেও আছে এই বাণিজ্য চিন্তা। ইন্ডিয়ার এক টিভি চ্যানেল বলে দিল, বেতমিজ বাংলাদেশকে ফাইনালে তমিজ শেখানো হবে। পাশাপাশি ইন্ডিয়ার খেলোয়াড়রা কিন্তু অনেক সংযত ছিল। বাংলাদেশ দল কতটা কি করতে পারে তারা তা ভালোভাবে অবগত। ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেন দুঃখ করে বললেন, যদি আমরা বাংলাদেশের কাছে জিতি তবে দেশের লোকজন চুপ থাকবে যেন এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। আর হেরে গেলে ঘরে ফেরা দায় হয়ে যাবে। ইন্ডিয়া ফাইনালে জিতে গেছে আর রোহিতরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছে শেষ পর্যন্ত।

বাংলাদেশ দল ফাইনালে তো হারল কিন্তু হারিয়েছে কি কিছু? না, ট্রফিটা হয়তো হাতছাড়া হয়েছে কিন্তু দেশের মানুষের ভালোবাসা উছলে পড়েছে তাদের জন্য। বাঙালি যে বীরের মত শেষ পর্যন্ত লড়তে জানে তা আজ বিশ্ব আবার দেখল। আর শেষ পর্যন্ত যে ক্রিকেটেরই জয় হলো তার বড় অবদান তো বাংলাদেশের। শ্রীলংকাও শেষমেষ খুশিই হল। তাদের এই নিদহাস ট্রফিটা যে এত আলোচিত হলো তা তো এই বাংলাদেশের কারণেই।

বাংলাদেশের এই লড়াকু ছেলেরা সমগ্র বিশ্বের ক্রিকেট অনুরাগীদের সহানুভূতি আর ভালোবাসা পেয়েছে। ব্রেট লি’র মত ফাস্ট বোলার রুবেলের প্রশংসা করেন আর তাকে সাহস হারাতে মানা করেন ২২ রান দিয়ে ম্যাচ থেকে দলকে ছিটকে দেবার পরেও।

আজ মুশফিকের দেখানো সর্প নৃত্য ক্রিকেটের বড় বিজ্ঞাপন। বিজীত দলের খেলোয়াড়ের বিশেষ অঙ্গভঙ্গি এভাবে ট্রেডমার্ক হয়ে গেল এ-ও এক বিরল ঘটনা। গাভাস্কারের কমেন্ট্রি বক্সে করা সর্পনৃত্য সবাই অবাক হয়ে দেখল। বাংলাদেশকে হারাতে পেরে কতটা খুশি হয়েছেন এতেই বোঝা যায়। যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়েছে। যে গাভাস্কার, যে ইন্ডিয়ান মিডিয়া আর সমর্থক বাংলাদেশকে শাস্তি দিতে চেয়েছিল, চেয়েছিল তমিজ শেখাতে তারাই আজ বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শেখানো সর্পনৃত্য নাচছে। আগামীতে ভারতজুডে ক্রিকেট মাঠে বারংবার এ নাচ দেখা যাবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

যা ছিল এ দেশের বেঁদেদের ট্রেড মার্ক, তাই ক্রিকেটারদের কল্যাণে হয়ে গেল আন্তর্জাতিক বিনোদন! ধন্যবাদ বাংলার দামাল ছেলেরা।