ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

কিছুদিন আগে এক লেখায় মটর সাইকেলে রাইড শেয়ারিং নিয়ে সমালোচনা করেছিলাম। এরপর নিজে যখন এই সার্ভিস নিলাম তারপর পজিটিভ কিছু না লিখলে অন্যায় হবে।

পাবলিক বাসের অপেক্ষায় বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েছিলাম। লাল টি-শার্ট পড়া মোবাইল হাতে এক তরুণ এগিয়ে এসে বলল আমি পাঠাও সার্ভিস নিলে ৫০ পারসেন্ট ডিসকাউন্ট দেবে। আমার ফোনে পাঠাও অ্যাপলিকেশনটা ইনস্টল করা নেই। ওকে বলতেই নিজের ফোন থেকে রাইড কল করে দিল। একটু পরে ফোন আসল আমার সেটে। ওপাশ থেকে আমার লোকেশন শুনে নিয়ে বলল, একটা ইউটার্ন নিয়ে আমি আসছি স্যার। দুই মিনিট পরই ছেলেটা আবার ফোন দিয়ে বলল, স্যার আমি এসে গেছি। মোড়ের জ্যামের জন্য সামান্য দেরি হচ্ছে। আমি বললাম, কোন ব্যাপার না, আমি অপেক্ষা করছি।

আমি সিএনজি অটো রিকশা, প্যাডেল রিকশা আর পাবলিক বাসে চড়া মানুষ। এমন ব্যবহারে অভ্যস্ত নই। সুযোগ পেলে রিকশা চালকেরা জীবনের সব বঞ্ছনার শোধ যাত্রীর উপর নেয়। বিনা কারণে ভাড়া যাওয়ার ডাক তাচ্ছিল্যভরে প্রত্যাখ্যান করে, তা যত টাকাই দিতে চাই না কেন। সিএনজি অটো কখনোই মিটারে যাবে না। ওদের চুক্তিতে হায়ার করলেন অনেক টাকায়। তারপর চড়ে বসতেই আবদার করবে ট্রাফিক জানতে চাইলে যেন বলি মিটারে যাচ্ছি।

গলির ভিতরে ঢুকবে না, মেইন রোডেই নেমে যেতে হবে। আরও কত বায়না। আপনাকে তোলার পর তার মনে হবে গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। আপনি নেমে দাঁড়াবেন পাম্পে তার গ্যাস নেয়ার প্রয়োজনে। পাবলিক বাসের কথা না বলাই ভালো। ঢাকা শহরের সব পাবলিক বাস নাকি ক্ষমতাসীনদের মালিকানায়। সার্ভিস নিয়ে কোন যাত্রী আপত্তি করলে কন্ডাক্টর এমন আচরণ করবে যেন এইমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে সাক্ষাৎ দিয়ে এসে বাস নিয়ে রাস্তায় নেমেছে!

এ সবের তুলনায় তরুণ বাইক চালকদের ব্যবহার অতি অসাধারণ।ছেলেটির পিছনে বসে যেতে যেতে ভাবছিলাম, এখনকার দরিদ্র ছাত্ররা আয়ের একটা ভাল সুযোগ পেয়েছে।

অল্প বয়সী ছেলেগুলো হয়ত সামান্য প্রশিক্ষণ পেয়েছে। আর তাতেই ব্যবহার কি আমূল বদলে গেছে। এরাই হয়ত গলির মোড়ের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকত আর মেয়েদের উত্যক্ত করত। আজ রোজগারের সামান্য সুযোগ পেয়ে কি চমৎকার ভাবেই না তা সদ্ব্যবহার করছে। পরিশ্রমী শরীরের একটা নিজস্ব সৌন্দর্য থাকে। খেয়াল করলাম এই ছেলেগুলোর চোখেমুখে তা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।