ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

এটা কোন অচেনা দৃশ্য নয়। খুব ভোরে রাজপথের ফুটপাতগুলোতে এমন দৃশ্য সব সময় দেখা যায়। কিন্তু আজ সকালে পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে এঁর নাক ডাকার শব্দ শুনলাম। বেশ জোড়ে নাক ডাকছে সে। গ্রীষ্মের এই সকালটা বেশ ঠান্ডা। ভোরের দিকে এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে। আবার যে কোন সময় শুরু হয়ে যাবে, কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না তার। এমন নাক ডাকিয়ে ঘুমানোর সুযোগ এদের জীবনে বেশি আসে না। টানা ঝড়-বৃষ্টি মশার প্রকোপও কমিয়ে দিয়েছে।

 

 

আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দৃশ্যটা দেখলাম। আচ্ছা এই লোকটার জীবনেও প্রেম এসেছিল?  ‘যুবতীর কটাক্ষ’ তার বক্ষও কি কোনো দিন বিদীর্ণ করেছে? হয়তো এর জীবনেও প্রেম ছিল, হয়তো সংসার ছিল একদিন, ছেলে-মেয়েও ছিল। এখন এই জগত সংসারের বেশিরভাগ বিষয় একে স্পর্শ করে না। চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ক্রিকেট খেলা দেখে না, মানুষের কোলাহলে গিয়ে দাঁড়ায় অর্ধেক রুটি, এক কাপ চা কিংবা কারো ফেলে দেয়া সিগারেটের শেষ অংশের জন্য।

সংসারী মানুষের নিত্যদিনের চিন্তা, জিনিসপত্রের দাম একে কখনো ভাবায় না। ছেলে-মেয়েকে ভাল স্কুলে পড়ানোর টেনশন নেই। নেই হররোজ কাজে যাবার যন্ত্রণা, রাস্তার জ্যামের বিরক্তি বা প্রতিবেশীর বিলাসী জীবনে দেখে গৃহিণীর দীর্ঘশ্বাস শোনা! ঢাকা শহরের ভাড়া বাসায় থাকার যন্ত্রণা আর একটা ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন একে তাড়িয়ে বেড়ায় না। সরকারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগও নেই। মিছিলে যায়, কিন্তু সেটা কোন প্রতিবাদ নয়, কিছু টাকা বা এক বেলা ভাল খাবারের টান তাকে মিছিলে টেনে নেয়।

পাপ মোচনের জন্য সপ্তাহান্তে উপাসনালয়ে যেতে দেখা যায় না তাকে। ছোট-খাট অসুখ ছুঁতে পারে না। হঠাৎ বড় কোন রোগে টুপ করে মরে যায় সে। হাসপাতালের লাইনে দাঁড়ায় না কখনো, তাই কেন মরে গেল সেটা জানা হয় না আর। হয়ত লাশের পোস্টমর্টেমও হয় না। বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে দেয় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম।

এক সময় সে ঘুম থেকে উঠে দাঁড়াবে। ছেঁড়া কাঁথাটা কাঁধে নিয়ে হাঁটতে শুরু করবে। যেন গন্ধমান পর্বত কাঁধে নিয়ে হনুমান চলেছে লঙ্কাপুরিতে। জগত সংসারের কোন কিছুতে তার আগ্রহ নেই। অভীষ্ট লক্ষ্যে না পৌঁছে থামা যাবে না। আশেপাশে কি ঘটছে দেখার ইচ্ছা নেই। যদিও তার লক্ষ্য হল সকালের খাবার, এক টুকরা রুটি বা হোটেলের গত রাতের বাসি ভাত। পেটের ক্ষুধা কাউকে নির্লিপ্তও থাকতে দেয় না।