ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

বেশকিছুদিন ফেইসবুকের এই দেশী বাসিন্দারা অনেক বেশী মানবিক হইয়া উঠিয়াছিলেন, মুসলমান বিষয়ে, রোহিঙ্গা বিষয়ে।তাহাদিগের বক্তব্য ছিলো বাংলাদেশের সিংহ দুয়ার রোহিঙ্গাদের জন্য খুলিয়া দেওয়াই সমীচীন হইবে কেননা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতও আমাদিগকে এইরূপ সাহায্যই করিয়াছিলো । তাহাদিগকে আশ্রয় দেবার জন্য অনেকের দিল পুড়িয়া ছাই হওয়ার যে উপক্রম হইয়াছিল সে কথা তাহারা মুখে স্বীকার না করিলেও তাহা দেশের গণ্ডি ছাড়িয়া বইদেশেও ছড়াইয়া পড়িয়াছিলো । তাহাদিগের বক্তব্য ছিলো রোহিঙ্গারা নিপীড়িত, নির্যাতিত, ঘরহারা ( অতীব সত্য কথা )।আমিও তাহাদিগের মত ওই সময়ে খানিকটা মানবিক হইয়া দু-চার কলম লিখিয়াছিলাম,রোহিঙ্গাদের দুঃখে কাতর হইয়া দু-এক ফোঁটা চোখের জলও বোধহয় ফেলিয়াছিলাম । অথচ শুনিতে কষ্ট হইলেও ইহাই সত্যি ওই সময়কালে বার্মার নোবেল পাওয়া নেত্রী অং সান সুচি দুই দশক পূর্বে পাওয়া নোবেল প্রাইজ গ্রহণের উদ্দেশ্যে পশ্চিমা বিশ্ব সফরকালে উহা লইয়া বিন্দু মাত্র কথা বলেন নাই এমনকি তাহা পশ্চিমা বিশ্বের কর্ণগোচরও করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন নাই।পর সমাচার অতঃপর যাহাই হউক না কেনো,যাহারা রোহিঙ্গাদের জন্য এতো আমার মত অতি উৎসাহী মানবিক হইয়া উঠিয়াছিলেন তাহারা বার্মায় সহিংসতা কমিয়া আসিলে আস্তে আস্তে চুপ হইতে হইতে এতোটাই চুপ হইয়া গেলেন যে, তাহাদের মানবিকবোধ বোধহয় আমার মতই পাথর হইয়া গিয়াছে। তা না হইলে নিজের দেশে এতো মানুষ মরিতেছে,এতো মানুষ পানি বন্দী হইয়া মানবেতর জীবন যাপন করিতেছে তবুও তাহাদের কোন উচ্চারণ শুনিতে পাইলাম না, কর্ণগোচরও হইলোনা কোনো হৃদয়গ্রাহী বাণী, -‘যাহারা মরিয়াছে, যাহারা মানবেতর জীবন যাপন করিতেছে তাহারা আমারি ভাই, বোন, আমারি স্বজন। আহারে বিবেক,ভিনদেশীদের বিপর্যয়ে মানবিকতার এতো দোহাই তুলে হুলুস্থুল জাগরণ তুলিয়া দিলাম অথচ নিজ দেশের মানবিক বিপর্যয়ে নিজ ভাইয়ের মানবিক বিপর্যয়ে কতোটাই নীরব রহিলাম !