ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড, হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে

 

প্রয়াত একজন মানুষ তার সব সৃষ্টিই আমাদের সামনে আজ উন্মোচিত কোন কিছুই লুকানো নাই । তার সৃষ্টি কারও ভাল লাগবে কারও হয়ত বা লাগবে না, এটাই স্বাভাবিক। তিনি তার সব সৃষ্টি্র উপাদান আমাদের এই সমাজ হতেই নেওয়া। তিনি চেষ্ঠা করেছেন সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি-অনাচারকে তার নাটক-সিনেমা-লেখনীর মধ্যে তুলে আনতে। তিনি অনেকটাই সফল এই ক্ষেত্রে। আমাদের অনেকেই আজ কেন জানি তার চরিত্রে কলঙ্কের আলপনা আঁকতে উঠে পরে লেগেছেন। জানিনা এতে তাদের কি লাভ হচ্ছে। হয়ত বা সস্তা জনপ্রিয়তা লাভের আশা ।

“ঘেঁটু পুত্র কমলা” একটা অনন্য সৃষ্টি। সিনেমার কাহিনী থেকে স্পষ্টতই বলা যায় কম বয়সী ছেলেরা যারা মেয়ে সেজে গান গেয়ে বেড়াত তাদের উপর যে যৌন নির্যাতন চলত তা নিয়ে এই ছবি। এটার মাধ্যমে তিনি সমাজের অসংগতিগুলোকে মানষের সামনে নিয়ে এসেছেন। সমাজে একটা অনৈতিক অত্যাচার হয়েই যাচ্ছে আর সেটাকে একজন মানুষ আমাদের সামনে উপস্থাপন করে, চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এটাই কি তার অপরাধ ? তিনি কি সমকামিতার সহযোগী হয়ে গেলেন? আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে অন্যায়কে লুকিয়ে রাখা।মানুষের চোখে লজ্জা ঢুকিয়ে দেওয়া। যা হচ্ছে গোপনে হচ্ছে। তুমি চোখ বন্ধ করে থাক। ঐদিকে তাকিও না। প্রতিবাদ করোনা । মনে করো কিছু হচ্ছেনা। সমাজের এই অন্যায়ের জন্য সবাই অত্যাচারীর অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছে, আর যারা অত্যাচারকারী তারা অন্ধকারে যেখানে সমাজের কেউ প্রবেশ করবেনা, প্রতিবাদ করবেনা সেখানে তাদের অত্যাচার চালিয়ে যাবে। তিনি এই অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছেন এই সিনেমার মাধ্যমে। তিনি একজন চিত্রনাট্যকার তিনি তার প্রতিবাদ করবেন তার চিত্রনাট্যের মাধ্যমে এটাই স্বাভাবিক।

আরে ভাই আপনে যদি এত বড় পণ্ডিত ব্যক্তিই হন তাহলে নিজের প্রতিভা দিয়ে প্রমান করুন তিনি ভুল করেছিলেন। লেখক প্রয়াত হয়েছেন সেই সাথে তার ব্যাক্তিগত জীবনও প্রয়াত হয়েছে। এখন আমাদের সামনে রয়েছে তার বিশাল সৃষ্টি ভাণ্ডার যেগুলি আমাদের পথ দেখাবে, সাহস দেবে সত্য বলার এবং সত্যকে প্রকাশ করার..।

[ বিঃদ্রঃ কিছু অংশ সংকলিত]