ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

প্রিয় পাঠককুল, অতি প্রাচীন কাল থেকেই আমাদের বঙ্গদেশে গুরু ও তাদের শিষ্যদের পদচারনায় মুখর হইয়া রহিয়াছে। শিষ্যরা কখনও কোন কিছু না বুঝিলে তাহার গুরুকে প্রশ্ন করিয়া জানিয়া লইত। সাম্প্রতিককালে এক শিষ্যে সংবাদপত্র মারফত জানিতে পারিল যে, দেশে বেশুমার সন্তান জন্মাইতেছে এবং উহাদের মধ্যে যে গুলি পুত্র সন্তান, উহাদের নাম আবুল রাখা হইতেছে। শিষ্যের মাথায় কিছুতেই বুঝ আসিতেছে না, কেনই বা এত শিশুদের নাম আবুল রাখা হইতেছে, কেনইবা আবুল নাম এত জনপ্রিয়? আবুল নামের কি এত মহিমা? কোন কুল কিনারা করিতে না পারিয়া অবশেষে সে তাহার গুরুর নিকট গমন করিল এবং এই ব্যাপারে বিনয়ের সহিত জানিবার আগ্রহ বর্ননা করিল। সব শুনিয়া গুরুজী চক্ষু বন্ধ করিয়া ভাবিতে লাগিলেন।

সাত দিন সাত রাত কাটিয়া গেল এবং অষ্ঠম দিন সাত সকালে হাসি মুখে চোখ খুলিয়া শিষ্যের উদ্দেশ্যে বলিলেন, বাছা আমি ধ্যানের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল জ্ঞান-তাপসদের জিগ্যাসা করিয়া জানিতে ইহাই পারিলাম যে, যুগে যুগে মানব জাতিকে সঠিক পখ দেখাইবার জন্য কিছু কিছু অতিমানবদের জন্ম হয়। বর্তমানে আবুলরাই হইতেছে সেই অতিমানব। উহারাই বিশৃঙ্খল এই ধরণীতে শান্তির বার্তাবাহক হিসাবে কাজ করিতেছে। উহাদের কল্যাণে এই বঙ্গদেশ বিশ্বে মাথা উচু করিয়া চলিতে পারিতেছে। অতএব তুমি এক্ষণি রওনা দাও এবং আবূলদের পাশাপাশি থাকিবার চেষ্টা করিতে থাক। ইহাতে তোমার ভাগ্য খুলিয়া যাইতে পারে। এই শুনিয়া শিষ্যে আবূল খুঁজতে বাহির হইল এবং আবুলদের দেখা পেল কিন্তু কিছুদিন থাকিয়া বুঝিতে পারিল গুরুর বচন বৃথা যাইতেছে। অনেক চিন্তা করিবার পার শিষ্যের মনে পরিল কখনও কখনও গুরুজি তাহার বক্তব্য উল্টা করিয়া বলিয়া থাকে। এইবার শিষ্যের ভুল ভাঙ্গিল এবং নিজের বুদ্ধিহীনতার কথা চিন্তা করিয়া মনের মধ্যে কষ্ট নিয়া তাহার একটা প্রিয় গান গাহিতে লাগিল।

“তোরা কেউ যাসনে আবুলের কাছে…!
আবুলের সঙ্গে যাবি,আবুল হবি, বঝবি শেষে…!!
তোরা কেউ যাসনে আবুলের কাছে…!
আবুলের নামটি এমন….,ইচ্ছামত বলতে বারণ
আবার দেমপ্রেমিক, কালো বিড়াল, নাম ধরে সে…।
তোরা কেউ যাসনে আবুলের কাছে…!”