ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

প্রায় সবগুলি পত্রিকাতেই এসেছে গতকালের জামাতের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের সংবাদ। এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক ট্রাইবুনাল থেকে আসামী পক্ষের দুইজন সাক্ষীকে ডিবি পরিচয়ে প্রকাশ্যে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে। বাংলাদেশের জন্মের পর থেকেই আমাদের কে অনেক হোঁচোট খাওয়ার গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই আজকের এই অবস্থার আসতে হয়েছে। জাতির একটি বিরাট অংশ আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের বিচার কাজ ও চলছে। সরকারের অবিবেচনাপূর্ণ কাজের জন্যই গতকালের এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত সত্য হাজার হাজার সাক্ষী আজও বেঁচে আছে সেখানে সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কি প্রয়োজন ছিল? তারা মানবতার বিরুদ্ধে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে, তারা মানুষ নয় জানোয়ার। কিন্তু আমরা তাদের মত না, তাই আমরা দেরিতে হলেও তাদের বিচার শুরু করেছি আর আমরা সভ্য বলেই তাদের কে ডাইরেক্ট গুলি না করে বিচারের মুখে দাঁড় করিয়েছি। ট্রাইবুনালে তাদের বিপক্ষে শত শত সাক্ষী আছে যা তাদের অপরাধকে প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট কিন্তু আমাদের সরকার কি করছে ? তাদের গুটিকয়েক অর্থলোভী সাক্ষীকে আদালতে ঢুকতে দিচ্ছে না অথচ এরা সাক্ষী দিলেও আসামীদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে না। তাহলে সরকারের উদ্দেশ্য কি ? অযথা পানি ঘোলা করার মানে কি ? আমার মনে হচ্ছে দ্রুত এই ঝামেলা শেষ হয়ে যাওয়া উচিত।

গতকালের ঘটনার পর অনেকেই জামাতের রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছে, এই দাবি শুধু আজকের নয় দীর্ঘ দিনের। কিন্তু জামাতের কিছু নেতাকে ফাঁসি ও জামাত কে নিষিদ্ধ করলেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ? আমরা আধুনিক মিডিয়ার কল্যাণে জানি ৭১ এর জামাত ও ২০১২ এর জামাত অনেক পৃথক। এখন এরা আগের চেয়েও অনেক স্বাবলম্বী। এদের ভীত অনেক শক্ত তাই এদের নিষিদ্ধ করার চেয়ে নির্মূল করা অনেক জরুরি। প্রচলিত আইনে জামাত একটি বৈধ দল। একটি দলকে অবৈধ ঘোষনা করলেই সেই দল শেষ হয়ে যায় না, এর প্রমাণ আমাদের দেশেও অনেক আছে। এই দলকে অবৈধ ঘোষনা করা মাত্র তারা অন্য নামে আবার সংঘটিত হবে তখন আবার আমরা কি করব ? আবার রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নাই, আজ এই সরকার অবৈধ ঘোষনা করল কাল আবার আর একটা বৈধতা দিয়ে দিবে। এই খেলা আওয়ামী-বিএনপি উভয় দল বেশ কিছুবার দেখিয়েছে। আর আমরা ও আমজনতা সেই খেলা দেখে হাতে তালি বাজিয়েছি, বাহবা দিয়েছি হয়ত বা ভবিষ্যতেও দিব।

আসুন আমরা যারা জামাতের নির্মূল চাচ্ছি তারা আদর্শগতভাবে তাদের নির্মূল করি। তাদের আসল চরিত্র জনতার সামনে তুলে ধরি তাদের ভন্ড প্রমাণ করি। তাহলেই জনগন এমনিতেই তাদের ছুরে ফেলে দেবে, তার আগে আমাদেরকেও নিজেদেরকে দেশপ্রেমিক প্রমাণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ধর্মের নামে রাজনীতি যেমন অনৈতিক একই ভাবে দেশ প্রেমে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে মারিং-কাটিং এর রাজনীতি ও অনৈতিক। একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন ধর্ম ব্যাবসায়ী জামাত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপব্যবহারকারী মুক্ত বাংলাদেশ। আসুন আমরা নির্মূল করি (অবশ্যই আদর্শগত ভাবে)………..জামাত সহ সকল ধর্ম ব্যবসায়ী দলকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপব্যবহারকারীদের, ভারত এবং পাকিস্তানের দালালদের।

ধন্যবাদ
পথহারা সৈকত
গাজিপুর,বাংলাদেশ