ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিজয়ের মাস আসলেই যেন আমাদের দেশপ্রেম উথলায়ে পরে। আর সামনের ১৬ তারিখ আমাদের জন্য আরও তাৎপর্যময়, কারন এই দিনেই বা তার আগেই মানবতা বিরোধী ট্রাইবুনাল হয়তবা কোন কোন আসামীর বিরোদ্ধে আনা মামলার রায় দিয়ে দিবে। এর জন্য জামাত-শিবির এবং সরকার উভয় পক্ষই বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছে। যাহওক আমি যে বিষয়টা আজ বলতে চাচ্ছি তা হল ছাত্ররা কেন শিবির করে ? এর জন্য আমাদের ফিরে তাকাতে হবে ৭১ বা তারও আগের ৫২-র আন্দোলনের দিকে। ৫২,৭১ বা ৬৯ এর আন্দোলনের শুরুটাই করেছিল ছাত্ররা,তখন যারা প্রত্যক্ষভাবে ছাত্র আন্দোলণ করত তারাই এজকের বিভিন্ন দলের কর্তা ব্যাক্তি। ৭৫ এর পরে খুব দ্রুত গতিতে ছাত্র আন্দোলনের তথা ছাত্র রাজনীতির পচন শুরু হয়। এই পচনটা শুরু করেন জনাব হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। যার কারনে মেধাবি ও দেশপ্রেমিক ছাত্ররা রাজণীতিতে আসা বন্ধ করে দেয়। ছাত্ররা যখন অস্ত্রের রাজনীতি শুরু করে, যখন তাদের নৈতিকতা নিম্নগামী হওয়া শুরু করে ঠিক তখনই জন্ম হয় বাংলাদেশ ইসলামী (??) ছাত্র শিবিরের। তারা ধর্মপ্রান ও মেধাবি ছাত্রদের টার্গেট করে, ইসলামের কথা শুনিয়ে, বিভিন্ন সহযোগীতার মাধ্যমে ছাত্রদের তাদের দলে ভেরাতে থাকে। তারা তিন শ্রেনীর ছাত্রদের টার্গেট করে এক. মেধাবি ও কর্মঠ দুই.সমাজে প্রোভাবশালী তিন.নৈতিকগুন সম্পুর্ণ । তারা বিভিন্ন কৌশলে ছাত্রদের দলে ভেরাতে থাকে এবং সেই সাথে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলস্বী হতে থাকে। আর সেই সময় অন্যন্ন দল যেমন ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈতী ইত্যাদি দলগুলি নিজেদের মধ্যে মারামারি, টেন্ডারবাজি,খুন, ধর্ষণের মত বিষয় গুলি নিয়ে ব্যস্থ থাকে যার ফলে ছাত্র সংগঠনগুলি ধিরে ধিরে মেধাহীন হতে থাকে এবং কালের ব্যাবধানে এই ছাত্র সংগঠনগুলি গুন্ডা মাস্তানদের প্রতিষ্ঠানে পরিনত হচ্ছে। মুল রাজনৈতিক দলগুলিও তাদের তাদের স্বার্থে ব্যাবহার করছে এবং তাদের কে বিভিন্ন ভাবে অপকর্মে সহায়তা দিচ্ছে।

আজ এমন একটা অবস্থা হয়েছে যেন,ছাত্র রাজনীতির কথা মনে হলেই মনের মধ্যে একদল সন্ত্রাসীদের ছবি ভেসে উঠে। তাদের না আছে আর্দশ, না আছে লেখাপড়া,না আছে দেশপ্রেম, আছে শুধু হল দখল, মারামারি আর টেন্ডারবাজির ধান্দা।শিবির এই সুযোগেই তাদের প্রচুর উন্নতি করেছে। তারা পরিকল্পনা করে সরকারের বিভিন্ন স্থানে তাদের নিজেদর লোক বসিয়েছে, দেশ বিদেশে মেধাবী ছাত্রদের পাড়াশুনা করাচ্ছে যারা আগামিতে তাদের বুদ্ধিজীবি হয়ে কাজ করবে। আমার মনে হয় এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় তাদের বুদ্ধিজীবিদের জবাব দেওয়ার মত বুদ্ধিজীবি অন্যান্ন দলে পাওয়া মস্কিল হবে। এই ব্যাপার গুলি আমাদের এখনই ভাবতে হবে। জামাত-শিবিরের প্রতি এত অভিযোগ থাকার পরেও কেন মানষ জামাত-শিবির করে ?আমার মনে হয় তিনটি কারনে ছাত্ররা শিবির কেরে

০১. আমাদের শতকরা ৯৫+ মানুষ মুসলিম ও সহজ সরল এবং একই সাথে গরিব। গরিব ও মুসলিমদের খুব সহজেই উল্টা-পাল্টা বুঝানো যায়। তাই গরিব ও মেধাবি ছাত্রদের সহজেই টার্গেট করে দলে ভেরাতে পারে।

০২. মেধাবী ছাত্রদের শিবির করার পেছনে যতটা না শিবির দায়ি তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ি আমাদের অন্যন্ন ছাত্রসংগঠনের আর্দশীক দেউলিয়াত্ব, শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাব,নৈতিক অধপতন। তাদের মুখেই শুধু দেশপ্রেম ও শুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বাস্তবে একেবারেই শুন্য। এই ব্যাপার গুলিই দেশপ্রেমিক ও মেধাবী ছাত্রদের রাজনীতিতে আসার পথে বাধা। তখন তারা নিরপেক্ষ থাকে এবং এই সুযোগে ছাত্র শিবির তাদের ধিরে ধিরে মোটিভেট করে এবং এক সময় দলের একনিষ্ঠ কর্মীতে পরিনত করে। তাছারাও শিবিরের গোপন সংগঠন আছে যেখানে শিবির কর্মীদের প্রকাশ্যে মিছিল মিটিং করতে হয় না। তারা নিরবে কাজ করে শিবিরের পক্ষে। মেধাবী ছাত্রদের সাধারনত এই সংগঠনে কাজ করানো হয় এবং দেশ বিদেশে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করিয়ে আনা হয়। আমার মনে হয় এই ধরনের শিবির প্রকাশ্য শিবির থেকে সংখ্যায় বেশি। এটা একটা ভাবনার বিষয়।

০৩. প্রতিযোগী কোন ইসলামি ছাত্রসংগঠন না থাকা আরও একটি কারন। যদি কোন শক্তিশালি ইসলামি ছাত্র সংগঠন থাকত তাহলে শিবির এত কর্মী পেতনা। আমাদের বিকল্প ইসলামি ছাত্র সংগঠনের চিন্তা করতে হবে।

সব শেষে আমি বলতে চাই, শুধুমাত্র কয়েকজন কে ঝুলিয়ে দিলেই জামাত-শিবির শেষ হয়ে যাবে না। বঙ্গবন্ধু মারা গেছেন,কিন্তু আওয়ামিলীগ শেষ হয়ে যায়নি, আজ ও আওয়ামিলীগ বহাল তবিয়তে টিকে আছে। ঠিক তেমনি গোলাম আজমরা শেষ হলেই জামাত-শিবির শেষ হবে না। জামাতে কে শেষ করতে হলে শিবির কে শেষ করতে হবে। ছাত্রলীগ বা পুলিশ দিয়ে, হল দখল করে, চিরনী অভিযান চালিয়ে শিবির কে শেষ কারা যাবে না। ছাত্রলিগ যদি নিজেদের কে শুদ্ধ করতে পারে, তারা যদি আবার পড়ার টেবিলে ফিরে আসে, নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটায়, টেন্ডারবাজি, খুন-ধর্ষণ,চাদাবাজি বাদ দিয়ে গন মানুষের জন্য, ছাত্রসমাজের প্রকৃত সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে তাহলে আসা করা যায় তখন আর শিবির কে শেষ করতে হবে না তারা এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে। জামাত-শিবির, আওয়ামিলিগ-ছাত্রলীগ, বিএনপি-ছাত্রদল সবার প্রতি অনুরোধ আসুন ধর্ম বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বিজনেস বন্ধ করি এবং সত্যিকারের মুসলিম ও দেশপ্রেমিক হই, কাজ করি দেশ ও মাবতার কল্যানে।

ধন্যবাদ
পথহারা সৈকত
গাজিপুর,বাংলাদেশ