ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

শ্রদ্ধেয় ব্লগার আইরিন সুলতানা, আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আপনি আপনার ব্লগের শুরুতেই বলেছন

ডিজিটাল জামাতি কার্যকলাপের অসংখ্য প্রমাণ পাওয়া যাবে ইন্টারনেট দুনিয়ার। বাংলা ব্লগের শুরু থেকেই ব্লগে ব্লগে জামাত-শিবির সমর্থকদের পদচারণা দেখা গেয়েছিল। মিথ্যাচার, অপপ্রচার,ইতিহাস বিকৃতির এজেন্ডা বাস্তবায়নে জামাতপন্থীদের সক্রিয় হতে দেরি হয়নি। তবে এতে একভাবে হিত সাধিত হয়েছিল। এ না হলে ব্লগে আরো দীর্ঘ সময় খোশগল্পের কেন্দ্রস্থল হয়ে থাকত। চেতনা, ইতিহাস বিস্তৃতির উপলব্ধি জাগতে সময় বয়ে যেত। ’পেইড ব্লগার’ আখ্যান শুরু হয়েছিল জামাত-শিবিরমনা ব্লগারদের কারণেই।

মিথ্যাচার কি শুধু জামাতীরাই করে? জাতি কি আওয়ামী মিথ্যাচার দেখেনি? বা দেখছে না ? মিথ্যাচারের, হত্যা, গুম, আর বাকশালী রাজনীতির জন্ম দিয়েছে তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগ। সম্ভবত জামাত পেইড ব্লগারের আইডিয়াটা পেয়েছ আওয়ামীলীগের পেইড বুদ্ধিজীবি নিয়োগ দেওয়া থেকে।

৩০ লাখ শহীদের পরিসংখ্যানকে ভ্রান্তি বলে প্রচার করার মত ধৃষ্টতাও দেখানো হয়েছে বহুবার

শহীদের সংখ্যা যে ৩০ লাখ তা আপনিও জানেন আমিও জানি। কিন্তু আমার জানা মতে কোন সরকার এখন পর্যন্ত কোন শুমারী করে নাই এমন কি আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক সংখ্যা আমরা কেউ জানি না। এটা কি আমাদের বিগত বিভিন্ন সরকার করতে পারতো না। এটা করতে পারলে আর কেও মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা ও শহীদের সংখ্যা নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানো সুযোগ পাবে না।

এর পর আপনি সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল ব্যর্থতার কথা বলেছেন। এগুলোর সাথে আমি একমত। ব্লগের শেষের দিক আপনি জামাতের ০৮ টি কার্যক্রম কে সমালোচনা করেছেন, যেমন

০১। আপনি বলেছন

জামাতের এই সাইটটি বাংলা-ইংরেজি-আরবি তিনটি ভাষাতেই প্রচার হচ্ছে। অর্থ্যাৎ দেশীয় কর্মীদের কাছে যেমন জামাত এই সাইটটি উপস্থাপন করছে, তেমনি করছে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে, একই সাথে মুসলিমদেশগুলোর কাছেও জামাত নেতাদের পক্ষে সক্রিয়তা গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে এই সাইট। এটা স্পষ্টত যে, নিয়মিতভাবে বাংলা-ইংরেজি-আরবি তিনটি ভাষাতেই প্রতিবেদন আপডেট করার জন্য জামাতের কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। বাংলা-ইংরেজি পোস্ট আমাদের মধ্যকার সাধারণ পাঠকের পক্ষে পড়ে বোঝা সম্ভব। কিন্তু আরবি পাঠ সম্ভব নয়। বাংলা-ইংরেজি প্রতিবেদনগুলো পড়লেই বোধগম্য হয়, জামাতি প্রোপাগান্ডা কাকে বলে। জামাতের মরিয়া হয়ে ওঠা কোন পর্যায়ের হতে পারে। আশংকা হচ্ছে, জামাত বরাবরই ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। এই সাইটটির আরবি অংশে যদি বাড়িয়ে-রং চড়িয়ে কোন প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়? যদি ধর্মকে আরো নগ্নভাবে ব্যবহার করা হয়, ট্রাইব্যুনালের উপর বিশ্বের চাপ তৈরীতে?

জামাতের এই সাইটটি বাংলা-ইংরেজি-আরবি তিনটি ভাষাতেই প্রচার হচ্ছে। সরকার তিনটি ভাষায় তাদের সাইট প্রচার করতে পারছে না অতছ জামাত পারছে,এটা কি তাদের অপরাধ ? তারা তাদের নিজেদের কে নিরোপরাধ প্রমান করার চেষ্টা তো করবেই। যদি ধর্মকে আরো নগ্নভাবে ব্যবহার করা হয়, ট্রাইব্যুনালের উপর বিশ্বের চাপ তৈরীতে? সরকার যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কে নগ্নভাবে ব্যবহার করতে পারে তাহলে তারা ধর্মকে নগ্নভাবে কেন ব্যবহার করবে না ? কারন সরকারের লোক ঠকানোর ব্যাবসার মুলধন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর জামাতের মুলধন হচ্ছে ধর্ম। জামাত তাদের স্বার্থ উদ্ধার করছে শুধু মাত্র মুসলমানদের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে আর সরকার প্রতারণা করছে হিন্দু-মুসলিম-আস্তিক-নাস্তিক সবার সাথে। জামাতিদের সাইট বন্ধের আগে সরকারী তথা আওয়ামী সাইট গুলি বন্ধ করা দরকার।

২। আপনি বলেছেন,

এই সাইটিতে গোলাম আযমের বক্তব্য/ভাষণ প্রচার করা হচ্ছে। গোলাম আযমের অপরাধ নিয়ে সংশয় প্রকাশের সুযোগ নেই। গোলাম আযম সর্বজনস্বীকৃত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী। এ্যই জাতি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে স্বচ্ছভাবে চায়, আগামির ইতিহাসের সঠিক লেখনীর স্বার্থেই। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, জামাতকে ছাড় দেয়া হবে, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ভাষণ প্রচারণায়। এ ধরণের কার্যকলাপ উস্কানিমূলক হয়ে উঠবে, জামাত তার কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করবে এইসব ভাষণ প্রচার করে।

এই সাইটিতে গোলাম আযমের বক্তব্য/ভাষণ প্রচার করা হচ্ছে।গোলাম আযমের অপরাধ নিয়ে সংশয় প্রকাশের সুযোগ নেই। গোলাম আযম সর্বজনস্বীকৃত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী। এখানে আমাদের মনে রাখতে হবে জামাত একটা বৈধ রাজনৈতিক দল। আমাদের অভিযোগের বিপক্ষে তাদের বক্তব্য তাদের বলতে দিতে হবে। এখন আর বাকশালী যুগ নাই (যদিও আবার বাকশালীকরণ শুরু হয়েছে ),শুনতে হবে, তারা কি বলতে চায়। আপনার মতে তারা সর্বজনস্বীকৃত শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী, তাহলে তাদের কথাবলাকে ভয় পাচ্ছেন কেন? তাদের কে কথা বলতে দিলেই কি তারা নিজেদের কে নিরোপরাধী প্রমান করতে পারবে? না কি তলের বিড়াল বের হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখতে চান ? আমরা সভ্য বলেই জামাতিদের রাস্তায় গুলি করে না মেরে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দ্বার করানো হয়েছে। সেই বিচারের সময় যে সব নাটক করা হচ্ছে তা থেকে আমরা কি দেখতে পাচ্ছি ? সকারের আচরন দেখে মনে হচ্ছে অন্তত পক্ষে আর একবার তারা ক্ষমতায় যেতে চায় এই ইস্যুকে ব্যাবহার করে। সামান্য কয়েকটা জামাতীরা (মোট জনসংখ্যার ১%) সরকার কে ন্যাকানী-চুবানী খাওয়াচ্ছে অতছ সর্বকালের সেরা জনপ্রিয় সরকার সব জায়গাতে ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

আপনি বলেছেন জামাতকে ছাড় দেয়া হবে, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ভাষণ প্রচারণায়। তাদের ভাষন প্রচারনায় কেন বাধা দিবেন? তারা কি তাদের কথা বলতে পারবে না ? তাদের কে আপনারা সমাবেশ করতে দিবেন না, তাদের নিজেদের অফিসে মিটিং করতে দিবেন না, আবার তারা তাদের কথা বলার জন্য তাদের সাইট কে বেছে নিয়েছে, আপনারা সেটাও বন্ধ করতে চান। এটা কেমন গনতন্ত্র ? আপনাদের যদি সত্যি সত্যিই জামাত কে পরাস্থ কারার ইচ্ছা থাকে তাহলে, তাদের চেয়ে ভাল প্রচার চালান, বাস্তবে ও নেটে। মাত্র ১% জামাতীরা এমনিতেই ভেঁসে যাবে, কিন্তু শর্ত হল সরকার তথা আওয়ামী লীগারদের মনের মধ্যে সত্যি সত্যিই জামাত নিপাতের ইচ্ছা থাকতে হবে। তাদেরকে সোনার ডিম পাড়া হাঁস বানিয়ে, স্বাধীনতার চেতনার অনভুতিকে কাজে লাগিয়ে বার বার ক্ষমতার বৈতরণী পার হবেন এমন ইচ্ছা থাকলে হবে না। আমার মনে হচ্ছে সরকার এটাই চাচ্ছে যে, জামাতের যুদ্ধপরাধের ইস্যু চিরকাল বেঁচে থাক এবং তারা এটা ব্যাবহার করে বার বার ক্ষমতায় যাবে। সব ক্ষেত্রে ব্যার্থ সরকারের এই ইস্যু ছারা জনগনের কাছে আসার অন্য কোন সফলতা নাই।

জামাতকে ছাড় দেয়া হবে, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের ভাষণ প্রচারণায়। এ ধরণের কার্যকলাপ উস্কানিমূলক হয়ে উঠবে, জামাত তার কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করবে এইসব ভাষণ প্রচার করে। উস্কানিমূলক ভাষনের ক্ষেত্রে জননেত্রী শেখ হাসিনা কে টাপকানোর মত নেতা-নেত্রী সারা বাংলাতে একটাও নাই। এক লাশের বদলে দশ লাশ ফেলানোর ঘোষণা দেবার মত আর কোন নেতা-নেত্রীর নাই বা হবেও না। তার এই বক্তব্যে আওয়ামী লীগারদের যে কতটুকু উদ্বুদ্ধ করেছে তা ২৮শে অক্টবরে বিশ্ববাসী দেখেছে এবং আমরা কছুদিন আগেও দেখলাম বিম্বজিৎ হত্যার ভিডিও এর মাধ্যমে।

৩ আপনি বলেছন

ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে গড়ে ওঠা জামাতকে মাদ্রাসাগুলোর মোড়ল সাজা থেকে বিরত করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এভাবে শিবির ও জামাতের প্রতি আকৃষ্ট করার কৌশল এসব।

মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষ ( ধর্মহীন ) আওয়ামীলীগ অপেক্ষা ধর্ম ব্যাবসায়ী জামাত অনেক জনপ্রিয়। তবে তাদের কে আকৃষ্ট করার কৌশল আওয়ামীলীগের নাই, তাই বলে জামাত তো আর বসে থাকবে না।

৪। আপনি বলেছন

এই সাইটের প্রথম পাতাতেই রয়েছে ভিডিও গ্যালারি। এই অংশে দেখা যাবে অপর যুদ্ধাপরাধী নিজামীর ভাষণ ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামাতের প্রচার প্রচারণা।

ভয় পাচ্ছেন কেন ? সরকার চাইলই তো তাদের সকল প্রচার যন্ত্র ব্যাবহার করতে পারে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নমুক্ত করতে। করছে না কেন ? কারন যুদ্ধাপরাধ বিচার শেষ হলেই তো তাদের খেল শেষ। তাদের সোনার ডিম পাড়া হাঁস হাতছারা হয়ে যাবে।

৫। আপনি বলেছেন

এই সাইটের প্রথম পাতায় বাংলাদেশের মানচিত্র রয়েছে। তাতে বিভাগীয় মাউস নিয়ে উক্ত বিভাগে জামাতের-শিবিরের কার্যক্রমের খরর পাওয়া যায় এবং জামাতি এই সাইটে এই প্রচারণাই চালানোর চেষ্টা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিপক্ষেই সবার অবস্থান।

আমার জানা মতে সরকারী বা আওয়ামী সাইটগুলি এখনও এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। তবে জামাতীদের কাছে শিক্ষা নিয়ে হলেও আওয়ামী সাইটগুলি এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

৬। আপনি বলেছেন,

সাম্প্রতিককালে বিরোধী দলীয় নেত্রী, যিনি ক্রমাগত জামাতের আমীর হয়ে উঠছেন, এক সমাবেশে সচিত্র বর্ণনা করেন, আওয়ামী লীগ আর জামাতের পূর্বেকার কোন যোগাযোগের কথা। জামাতও লুফে নিচ্ছে সেসব, তুলে দিচ্ছে তাদের অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে

বিরোধী দলীয় নেত্রী, যিনি ক্রমাগত জামাতের আমীর হয়ে উঠছেন, আর আমাদের সরকারীদলে নেত্রী আলরেডি বামদের নেত্রী হয়ে গেছেন। তার মন্ত্রী সভায় ৫০% + মন্ত্রীরা বাম রাজনীতির সাথে জরিত। আমার কাছে মনে হয়,

১৪ জোট, একটা জোট নয়,
যেন, একটা আম,
যার খোসাটা আওয়ামী, বিচি হল বাম।

৭ আপনি বলেছেন

এই সাইটের গ্যালারিতে আজকাল প্রকাশিত হচ্ছে মহাফেজখানা থেকে খুঁজে আনা ছবি। কে কখন জামাতে আমীরের সাথে হাত-পা-গলা মিলিয়েছিলেন, তার ছবি উপস্থাপন করে জামাতে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলে চাইছে আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে।

এতে জনগন অনেক মজা করার খোরাক পাচ্ছে অথবা যাদের বয়স খুব কম তারা ও বুঝতে পারছে জামাত শুধু বিএনপির সাথেই পরকীয়া করছে না, অতিতে আওয়ামী এবং বামদের সাথেও পরকীয়ার স্বাদ নিয়েছে।

৮ আপনি বলেছেন

তুরস্ক সরকার গোলাম আযমকে শীর্ষ ইসলামিক নেতা মান্য করে, এবং তার মৃত্যুদণ্ড হলে সামাজিক জীবনে ইসলামিক চর্চায় ভারসাম্যহীনতা আসবে এমনটাও মনে করে। সে কারণে গোলাম আযমের মত যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড না দেয়ার আবদার সাম্প্রতিক কালের আলোচিত সংবাদ-লিংক। গৌরবের কথা, বাংলাদেশ সরকার এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিবাদ এসেছে নির্মূল কমিটি থেকেও- লিংক। তুরস্কের এই আহবান জামাতের জন্য পোয়াবারো খবর, তাই জামাতি অফিসিয়াল সাইটে তড়িৎ জায়গা করে নিয়েছে এই সংবাদটি – লিংক

সরকার প্রতিবাদ করেছে, শুনে ভাল লাগল। তাহলে আমাদের সরকার ও প্রতিবাদ করতে শিখেছে!!! তুরস্কের এই আহবান জামাতের জন্য পোয়াবারো খবর, তাই জামাতি অফিসিয়াল সাইটে তড়িৎ জায়গা করে নিয়েছে এই সংবাদটি তা তো হবেই। সরকার এই ধরনের খবর পেলে কি করত ?

৯ আপনি বলেছেন,

ইনু-নিজামীর করমর্দনের ছবি প্রকাশ করেও নতুন বিতর্কের সূচনা করে দিচ্ছে এই ওয়েব সাইট।

এটা কি বিতর্কের সূচনা ? এটা তো একটা সত্য ঘটনা। ইনু-মিনুদের কথা আর কি বলব ? জামাত নিজেস্ব মার্কা নিয়ে একাধিক আসনে জয়ী হলেও এরা তো কখনও জামানত ফেরত পায়নি। এই ছবি প্রকাশ বরং ইনুর সন্মান বাড়িয়েছে, কমায়নি।

আপনি আপনার ব্লগে আরও অনেক কথা বলেছেন, তবে আপনার শেষ যে কথা ছিল, তা ছিল জামাতী সাইট গুলি বন্ধ করতে হবে। আর আপনি যুক্তি হিসাবে যা বলেছেন তা একেবারেই বাকশালী কথা। আপনে একজনকে অপরাধী বলবেন, তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন আবার তাকে তার কথা বলতে দিবেন না, তাদের মিটিং মিছিল করতে দিবেন না, মিডিয়াতে এবং আদালতে শুধু আপনারাই কথা বলবেন এটা কেমন গনতন্ত্র ? সাকা চৌধুরীর কথায় বলতে হয়

“হত্যা করা যদি উদ্দেশ্য হয়, তাহলে দেরী কেন? এখনই গুলি করে হত্যা করুন, এত নাটকের কি দরকার ? ”

আমার মতে জামাত বা জামাত সাইট বন্ধ করলেই জামাত শেষ হয়ে যাবে না। এটা অযুক্তিক, অগনতান্ত্রিক এবং একই সাথে শিশু সুলভ ছেলের হাতের মোয়া টাইপ আবদার। আজকের জামাত অনেক পথ পারি দিয়ে এখানে এসেছে। তারা জ্ঞানে- বিজ্ঞানে, অর্থ-সম্পদে বিশেষ করে পরিকল্পনায় অন্যান্য আনেক দল অপেক্ষা অনেক ভাল অবস্থায় আছে। তাই শিশু-সুলভ বাকশালী চিন্তা-ভাবনা বাদ দিয়ে আমাদের মাস্টার প্লান করতে হবে, সবাইকে সময়-অর্থ-মেধা প্রয়োগে মাধ্যমে সত্যিকারের দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে হবে। একজন জামাতীর এটা নির্দষ্ট সময় এবং অর্থ ব্যায় করে অনেক সধণার মাধ্যমে জামাতী হতে হয়। এখানে চাইলেই জামাতী হওয়া যায়না । তারা সারা জীবন আয়ের একটা নির্দষ্ট অংশ তাদের ফান্ডে জমা দেয়। তারা ব্যক্তিগত কাজে কোন নির্দষ্ট এলাকার বাহিরে গেলে তার লিডারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাদের দলীয় শৃঙ্খলা অন্য সব দল অপেক্ষা বেশি। তাই তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে হলে অনেক চিন্তা ভাবনা করেই করতে হবে। আমি আমার নিষিদ্ধ জামাত ও আমার প্রতিক্রিয়ায়া ব্লগে বলেছিলাম

একটি দলকে অবৈধ ঘোষনা করলেই সেই দল শেষ হয়ে যায় না, এর প্রমাণ আমাদের দেশেও অনেক আছে। এই দলকে অবৈধ ঘোষনা করা মাত্র তারা অন্য নামে আবার সংঘটিত হবে তখন আবার আমরা কি করব ? আবার রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নাই, আজ এই সরকার অবৈধ ঘোষনা করল কাল আবার আর একটা বৈধতা দিয়ে দিবে। এই খেলা আওয়ামী-বিএনপি উভয় দল বেশ কিছুবার দেখিয়েছে। আর আমরা ও আমজনতা সেই খেলা দেখে হাতে তালি বাজিয়েছি, বাহবা দিয়েছি হয়ত বা ভবিষ্যতেও দিব।

আমি আমার সেই নিষিদ্ধ জামাত ও আমার প্রতিক্রিয়া ব্লগের ভাষায় বলতে চাই

আসুন আমরা যারা জামাতের নির্মূল চাচ্ছি তারা আদর্শগতভাবে তাদের নির্মূল করি। তাদের আসল চরিত্র জনতার সামনে তুলে ধরি তাদের ভন্ড প্রমাণ করি। তাহলেই জনগন এমনিতেই তাদের ছুরে ফেলে দেবে, তার আগে আমাদেরকেও নিজেদেরকে দেশপ্রেমিক প্রমাণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ধর্মের নামে রাজনীতি যেমন অনৈতিক একই ভাবে দেশ প্রেমে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে মারিং-কাটিং এর রাজনীতি ও অনৈতিক। একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন ধর্ম ব্যাবসায়ী জামাত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপব্যবহারকারী মুক্ত বাংলাদেশ। আসুন আমরা নির্মূল করি (অবশ্যই আদর্শগত ভাবে)………..জামাত সহ সকল ধর্ম ব্যবসায়ী দলকে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপব্যবহারকারীদের, ভারত এবং পাকিস্তানের দালালদের।

ধন্যবাদ
পথহারা সৈকত
গাজিপুর,বাংলাদেশ