ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি


চলতি মাসের ৫ তারিখ থেকে আজকের ২৬ তারিখ পর্যন্ত অনেকগুলি ঘটনার সাক্ষী আমরা বাংলাদেশীরা। অনলাইন আর বাস্তবে ঘটে গেল যুগান্তরের ঘটনা প্রবাহ, চোখের সামনে ছিনতাই হল যুব শক্তির চেতনা। ৭১ দেখি নাই, পেটের ধান্দায় ব্যস্ত থাকি তাই শাহাবাগে ও যাওয়ার সুযোগ হল না। অনলাইনে ব্লগ, পত্রিকার মাধ্যমে জানতে চেষ্টা করি দেশের অবস্থা। অফিস থেকে যখন বাসায় যাই তখন মাঝে মাঝে পথের টং দোকানে চা খাইতে খাইতে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ গুলির সেন্টিমেন্ট জানার চেষ্টা করি। যখন খবর শুরু হয় তখন বিএনপি পন্থিরা এতিমের মত ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকে, জামাত পন্থিরা গোমড়া মুখে উসখুস করে আর সব চেয়ে সরব থাকে আওয়ামী পন্থিরা। আর আমি ? এক পথহারা পথিক। অনেক কিছুই বুঝিনা, তাই অনেক বন্ধুরা আদার করে ছাগু বলে আবার কেউবা ভাদা বলে। ভাদা বলেন আর ছাগুই বলেন এতে আমার কোন ভাবান্তর হয়না।

অনেক আশা নিয়ে শুরু হয়েছিল শাহাবাগের আন্দোলন। আমরা ভাবতে শুরু করেছিলাম এটাকে ২য় মুক্তিযুদ্ধ হিসাবে। কিন্তু কোথা থেকে কি হল, শাহাবাগের আন্দোলন দখল হল, ডা: এমরানরা কৌশলে এটাকে আওয়ামী চত্তর বানাল। শাহাবাগী বীরদের সামান্য কিছু ভুলের জন্য আজ গোটা আন্দোলন প্রশ্নের মুখে। থাবা বাবা কি এমন ব্লগার ছিল যে, তাকে শাহাবাগী ভাইরা শহীদ বানিয়ে, জানাজা পড়িয়ে জাতীয় বীর বানিয়ে দিলেন। সম্ভবত এটাকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ফলাফল কি হল ? উল্টা এই ইসুটাই বুমেরাং হয়ে আপনাদের আন্দোলনকে প্রশ্নের মুখে ছুঁড়ে দিল। বাংলার একটা বিরাট অংশ আজ আপনাদের বিপক্ষে। তারা বুঝেই হউক আর না বুঝেই হওক আপনাদেরকে ঘৃনা করতে শুরু করেছে। এরা কিন্তু সবাই জামাত না, যদিও তারা সবাই দাড়ি-টুপি পরা। অতি বিপ্লবী চিন্তার জন্যই আজ এই অবস্থা। আমাদের মনে রাখতে হবে শাহাবাগ কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা নয়। শাহাবাগ থেকে আন্দোলনের আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া যেতে পারে কিন্তু সিদ্ধান্ত আসবে গোটা দেশ থেকে। সাধারন মানুষ কে সম্পৃক্ত কারা না গেলে কোন আন্দোলন সফল হতে পারে না। আমরা যারা বড় বড় মানুষ, মুখে বড় বড় কথা বলি, কথায় কথায় মানুষকে ছাগু, ভাদা বা আবাল বানাই, ব্লগে ব্লগে দেশ প্রেমের কথা বলে মুখে ফেনা তুলি, আমরা কি পারব শাহবাগে ৪২ বছরের অপূর্ন স্বাধীনতাকে পূর্নতা দান করতে ? কিন্তু ইতিহাস বলছে আমাদের সমাজের ছোটলোক গুলি যতক্ষন না আন্দোলনে এসেছে ততক্ষন পর্যন্ত আন্দোলনের আগুন দাবানলে হয়নি। বিপ্লবের পথ কখনও শাহাবাগের মত এত সহজ ছিলনা। আজ শাহাবাগে বিরানীর প্যাকেট আসছে কাল না ও আসতে পারে। পুলিশ নিরাপত্তা না ও দিতে পারে, তাই বলে কি তোমরা থেমে যাবে? সময় থাকতেই ছরিয়ে দাও দ্রোহের সবখানে। বিপ্লবের পথ এখনও অনেক দুরে

মধ্যবিত্তের দ্রোহের আগুনে যেদিন রাজপথ পুড়বে নিশ্চিত জেনে রেখ শুধু সেদিনই বিপ্লব আসবে