ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে রেল ও নৌপথের গুরুত্ব অপরিহার্য। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এই নৌ পথ ও রেল পথের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং সঠিক পরিকল্পনা না থাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা সড়ককেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। অতিরিক্তি সড়ক নির্ভরতা দূর্ঘটনা¡, দূষণ, জ্বালানি ব্যয়, যাতায়াত খরচ, যানজট ও যানজটজনিত সময়ের অপচয়সহ নানারকম সমস্যা বেড়েছে। স্বাধীনতার পর গত ৪০ বছরে যোগাযোগ খাতে যেভাবে সড়ককে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে ঠিক তার বিপরীতে রেল ও নৌ-পথকে অবহেলা করা হয়েছে।

সড়ক নির্ভরতা বৃদ্ধিজনিত কারণে ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়া সড়ক দূর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু-পঙ্গুত্ব পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উৎপাদন ব্যহত করছে। অন্যদিকে দুর্ঘটনার কারণে উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু কিংবা পঙ্গুত্বের জন্য পারিবারিক পর্যায়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সড়ক নির্ভরতার কারণে বায়ু দূষণ, শব্দদূষণসহ নানারকম পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে, কারণ অধিকাংশ জ্বালানি দেশের বাহিরে থেকে আমদানী করতে হয়। সড়কনির্ভর যাতায়াত ব্যবস্থায় ক্রমান্বয়ে যানবাহন বেড়েছে, যেজন্য বৃদ্ধি পেয়েছে যানজট ও যাতায়াত ব্যয়। যানজট এর কারণে শুধু ঢাকায়ই বছরে জাতীয় ২০ হাজার কোটির টাকার মত ক্ষতি হয় বলে গবেষকরা বলেছেন। পরিকল্পনার সময় স্কুল-কলেজ, শিল্প-কারখানা, আবাসিক এলাকার অবস্থান নির্দিষ্ট করে দেয়া। ২০ বছর পর কোন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কতখানি চাপ পড়বে সেটি মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। আমাদের ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ আছে কিন্তু আমাদের পরিকল্পনায় ভুল থাকায় এটিকাজ করছেনা কারণ সড়ক পথ তৈরি করার সময় নদীকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি। নদীতে বাধ তৈরি করা হয়েছে, সাথে যে সেতু তৈরি করা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় উচ্চতা অনেক কম। ফলে নৌযান ঠিকমত চলাচল করতে পারেনা। সেজন্য পরিকল্পনার সময় এই বিষয় গুলোকে নজরে আনা প্রয়োজন ছিল।

ঢাকা শহরকে রক্ষা করার জন্য চারদিকে বেঁড়িবাধ তৈরি করা হচ্ছে। যদি বাঁধের উপর রাস্তা তৈরি করা হয় এবং মাজখানে রেল পথ তৈরে করা হয় এবং ঢাকার কেন্দ্র থেকে এর সাথে সংযোগ সড়ক এর ব্যবস্থা করা হয় তবে ঢাকার যানজট অনেক কমে আসবে। আর আমরা সহজেই একস্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারব। এই মুহুর্তে রেলকে যোগাযোগের মেরুদন্ড করে সমন্বিত্ব পরিবহন ব্যবস্থা করা হক।