ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

কাতারে আসার পরে ৩ বেলা খাবারই রেস্টুরেন্টে খেতে হয়েছে। রান্না করার ঝামেলা এবং রান্নায় তেমন পারদর্শী নই বলে এই ব্যবস্থা। নতুন দেশ নানান কিসিমের ভাষা। নানান দেশের মানুষের মাঝে নিজেকে ভিন গ্রহের বাসিন্দা মনে হতো। আশেপাশে সাউথ ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টই বেশি। বাঙালি রেস্টুরেন্ট একটি। ঘুরে ফিরেই খাই একেক সময় একেক রেস্টুরেন্টে। খাওয়ার সময় একটা নাম বেশ কয়েকবার মাথায় এলো- সোলায়মানি চা।

নাম শুনেই মনে হয়েছে বেশ বাদশাহি ব্যাপার স্যাপার। কয়েকবার ইচ্ছে হলো অর্ডার দেই। কিন্তু দাম বেশি হবে বলে সাহসে কুলায়নি। তাই খাওয়ার পরে একটা লিপটেন চা বা সাদা চা নিয়েই দোকানে চলে আসতাম। একদিন দোকানে ফিরছি চা আর সিগারেট খেতে খেতে। এক মিশরীয় কাস্টমারের সাথে দেখা। সে বলল, “কি সোলায়মানি চা খাচ্ছো?” বললাম, “আনা মাফি ফুলুজ জেয়াদা। হাজা টিপটেন ( আমার কাছে টাকা নেই বেশি। এটা লিপটেন)। ঐ ব্যাটা বলল, “সাদিক ইনতা আলাতুল ফি মশকারা ( বন্ধু, তুমি সবসময় মজা করো)।”  আমি হেসে হেসে সিগারেটের ধোঁয়া উড়াই। ভাব এমন যে, চাইলেই সোলায়মানি চা খেতে পারি। কিন্তু ভাল লাগে না বলে খাই না।

ঐ ব্যাটার নাম হলো আলী। এছাড়া যাকেই জিজ্ঞেস করি নাম বলে- আহম্মদ, মোহাম্মদ, মাহামুদ। সবারই নামই একই। কি জ্বালা যন্ত্রণা। অবশ্য একদিক দিয়ে সুবিধায় আছি। নিজের নাম ওদের বলতে হয়নি। ওরাই যে যার ইচ্ছেমত আমায় আহম্মদ, মোহাম্মদ, প্রিন্স বলে ডাকে। দুই একজন যাকেই বলেছি নাম শাকিল। শাকি পর্যন্ত ডাকতে পারে। কিন্তু “ল” তে গেলেই ওদের জিহ্বা আর সোজা থাকে না। স্ক্রুর মতো প্যাঁচ খেয়ে যায়। তো আলী বলল, ” তুমি সিগারেট খাও কেন? তোমার ভাই আসলে আমি বলে দিবো।” সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললাম, ” বলো সমস্যা নাই। তা তুমি সিগারেট খাও না?” সে বললা সে খায় না। একটু চোখ নাচিয়ে বললাম, “তা কি খাও? ” আলী বেশ ভাব নিয়ে বলল, “আমি হুইস্কি খাই।”

আলীর কথা শুনে হাসবো না কাঁদব বুঝতে পারছিলাম না। একটা কথা আছে বাঙালিয়ানা লুকিয়ে রাখা যায় না। আমিও সেই মুহূর্তে লুকিয়ে রাখতে পারিনি। হাসতে হাসতে সোজা বাঙলায় বললাম, “আরে বলদ হুইস্কি কি সিগারেটের চেয়ে ভাল!” আলী আমার কথা শুনে কিছু না বুঝেই হাসতে হাসতে বলে, “ইনতা আলাতুল ফি মশকারা।” বলেই ব্যাটা চলে গেল।

কাতারে আমি আসার পরে প্রায় ৫/৬ বার বৃষ্টি হয়েছে। এতো বৃষ্টি নাকি তেমন একটা হয় না। কিছুদিন আগেই দুই দিন বৃষ্টি হলো। যেন শীত নামিয়ে দিয়ে গেল। পরে গেলাম ঠান্ডা জ্বরে। সবাই বলছে সোলায়মানি চা খাও ভাল লাগবে। চিন্তা করলাম যাই একটু না হয় খরচ হলো। টিপটেন চা ১ রিয়েল দিয়ে খাই। আজ না হয় ৫ রিয়েল গেল।

রেস্টুরেন্টে গিয়ে সোলায়মানি চা দিতে বললাম। সাহস করে দামও জিজ্ঞেস করলাম- কতো? বলল, ১ রিয়েল। আমি মনে মনে নিজেকে গালি দিলাম; দামের কথা চিন্তা করেই কিনা এতোদিন সোলায়মানি চা খেলাম না।

বসে আছি চায়ের জন্য। ওয়েটার চা দিয়ে গেল। চায়ের দিকে তাকিয়ে আমি তো বেকুব বনে গেলাম। ওয়েটার কে ডাক দিয়ে বললাম আমি তো সোলায়মানি চা চাইছি এটা কি দিলে। ওয়েটার বলল এটাই সোলায়মানি চা। চায়ের লিকারে দুই একটা আদা কুচি আর এলাচ ভাসছে। বিরবির করে বললাম, শালার এইটারে তো আমরা আদা চা কই। লাল চা রে তোরা সোলায়মানি চা কইস কি জন্যি।