ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

ঈদে পছন্দের পোশাকের জন্য কেউ বাবার কাছে, আবার কেউ মায়ের কাছে আবদার করে। বাবা-মা সন্তানের সে আবদার পূরণও করেন সাধ্যমত। কিন্তু  যাদের পরিবার অনেক দরিদ্র তাদের নতুন পোশাক হবে না? যাদের বাবা-মা নেই তাদের কী অবস্থা? বাবা-মা হারা এসব শিশুদের ঈদের চিত্র কেমন হবে? আবার বাবা-মা থাকলেও দরিদ্র পরিবারের শিশু- যাদের ঠিক মতো খাবারই জোটে না, দরিদ্র পরিবারে কাছে ঈদের আনন্দটাই বা কেমন হবে?

FB_IMG_1504443149978

.

ধনী পরিবারের শিশুরা ঈদের আনন্দে বিভোর থাকলেও দরিদ্র শিশুদের সে আনন্দ থাকে না। ধনী-গরিবের অনাবিল আনন্দের একটি উৎসব। অথচ এই ঈদের আনন্দের মধ্যে ধনী-গরিবের স্পষ্ট ব্যবধান লক্ষণীয়। কেউ একটি জামার জন্য ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে না আবার কেউ ‘সোনাক্ষী’ জামা গায়ে দিয়ে ঈদের আনন্দ লুটে নেয়। ঈদের মাঠে একটি লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পড়ে ঈদের নামাজ পড়তে পারে না আবার কেউ দামী পাঞ্জাবি-স্যুট পড়ে ঈদের নামায পড়তে চলে যায়। এই হলো ঈদের আনন্দ!

অনেক পরিবার আছে ঈদের দিন সকাল দুপুরে রাতে ভালো কিছু খেতে পারে না। দরিদ্র শিশুদের সারা বছরও একটি নতুন পোশাক জোটে না। ছেঁড়া জামা- কাপড় পরেই ঈদ কাটে তাদের।

মাগুরার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অনেক শিশু। খাবারের জন্যও তাদের অন্যের বাড়ির দ্বারে ঘুরতে হয়। এমন পরিবার আছে যারা একটু সেমাই কিনতে পারে না। পোলাও-মাংস খাওয়ার কথা মুখেও নেই, কারণ কাজ করে যে টাকা পায় সেই দিয়ে চাল কিনতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। একটু খাবারের আশায় ঈদের দিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে তারা। এসময় কেউ আবার দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয় তাদের। এভাবেই মাগুরার দরিদ্র শিশুদের ‘আনন্দের ঈদ’ কেটে যায়।

মাগুরার আনাচে-কানাচে কত শিশু যে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে তার কোনো হিসাব নেই। ওদের দিকে সবার একটু সহানুভূতির দৃষ্টি পড়লে তাদের ঈদটাও আনন্দময় হতো।

মাগুরা জেলার এমন কয়েক জন শিশুর সঙ্গে কথা হয়।

ইমদাদুল মোল্লা (১২) বলে, ’আমার বাবা-মা আছে, কিন্ত বাবা আমার খোঁজ নেয় না।’ ঈদে নতুন পোশাক কেনা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে ও বলে, “ভাত পাই না, আর নতুন পোশাক। আমি নানি বাড়ি থাকি বাবা আমাদের দেখে না। নানির অনেক বয়স হয়েছে। আমি মাঠে কাজ করে যা টাকা পাই তাই দিয়ে কিছু খাই। আমাদের ভাগ্যে নতুন কাপড় নেই।”

শান্ত (৮) নামের আর একটি শিশু বলে, ’ঈদে সবাই নতুন পোশাক আমরা কিনতে পারি না, কারণ আমরা অনেক গরীব। আমরা মনে চায় মাংস খেতে, কিন্তু আমাদের চাল কিনতেই সব টাকা শেষ হয়ে যায়।’

কথা হয় কয়েক জন শিশুর অভিভাবকের সঙ্গেও। এক অভিভাবক শুকুর মোল্লা বলেন, ’প্রতিদিন মানুষের বাড়ি কাজ করে ২৫০ টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চলে না। কি দিয়ে ছেলেকে ঈদের পোশাক কিনে দিব আপনি বলেন? মনে চায় যদি আমার অনেক টাকা থাকত তাহলে অনেক খুশিতে ঈদ কাটাতে পারতাম।’

আরেক অভিভাবক মনিরুল মিয়া বলেন, ’যে টাকা কামাই করি তা দিয়ে ঠিক মতো খেতে পারি না, আবার ঈদের কাপড়! ঈদের সময় শুনি সরকার অনেক কিছু দেয় আমি তো কখনো পাইনি। কখনও গরীবের কাপড় বড়লোকরা নিয়ে যায়। চেয়ারম্যানের কথা কি বলব, ভোটের সময় এসে হয়তো কথা হবে, আর কখনো তাকে দেখা যায় না। আমার ছেলে-মেয়ে ঈদের পোশাকের জন্য প্রতিদিন কান্নাকাটি করে। এসব দেখে কোনো বাবার ভালো লাগে বলেন? কী দিয়ে কিনে দিব?’