ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

ভালো ছাত্রের সংজ্ঞা কী? বছর শেষে মার্কশিটে জিপিএ-৫ থাকা মানেই কী ভালো ছাত্র? যদি তাই হয় তাহলে তথাকথিত ভালো ছাত্র কখনোই আমি ছিলাম না। কেন ছিলাম না,এই বয়ান দেওয়ার জন্য শুধু এই লেখার অবতারণা করছিনা না পাশাপাশি এই শিক্ষা ব্যবস্থায় আমার মত খারাপ ছাত্র কে যে কখনো ভালো ছাত্র হয়ে উঠতে দেয় না, সেই বয়ান আশা করি উঠে আসবে এই লেখায়।

সব পাশ পদ্ধতি
নবীগঞ্জ আর্দশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৫ সালে আমি প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। তখন আমাদের স্কুলে প্রচলিত একটি নিয়ম ছিল সব পাশ পদ্ধতি অর্থাৎ ক্লাসে কেউ ফেল করবে না। কোন ধরণের যোগ্যতা ছাড়াই আমি চতুর্থ শ্রেণীতে উঠে পড়ি বিশ্বাস করুণ তখন পর্যন্ত আমি ঠিকমত বাংলা রিডিং টুকু পড়তে পারি না। তারপরেও আমি চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র! আর যোগ্যতা বা কীভাবে অর্জন করবো ক্লাসে আমাদের থেকে; মহামান্য শিক্ষক মহাশয় উনার মাথার উকুন নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতেন।

সিলেবাসে নেই তো জানার প্রয়োজন নাই
ষষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হলাম নবীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় নবীগঞ্জ জে কে উচ্চ বিদ্যালয়ে তখন আমাদের প্রশ্ন পদ্ধতি ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে ঁহংববহ ঢ়ধংংধমব ছিল,সরাসরি গ্রামার থেকে কোন প্রশ্ন ছিল না। ক্লাসে নিয়মিত যেতাম কিন্তু কখনো গ্রামার পড়ানো হত না। একদিন স্যার কে প্রশ্ন করলাম ”স্যার গ্রামার পড়াবেন না” স্যারের উওর ছিল ” গ্রামারের প্রশ্ন পরিক্ষায় আসলে না পড়াবো ” ইংরেজি গ্রামার কী তা না শেখে নবম শ্রেণীতে আমরা….হুঠ করেই নবম শ্রেণীতে প্রশ্ন পদ্ধতি পরিবর্তন এবার গ্রামার না জানায় বিদ্যালয়ের এস এস সিতে পাশের হার ২২%

সৃজনশীলতা আবার কী?
দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ক্লাসে একবার প্যারাগ্রাফ লেখতে বলা হল। সবাই বই থেকে মুখস্থ করে বমি করলো, আমি বমি না করে নিজের মত করে লেখার অপরাধে আমার খাতা দ্বিতীয় তলা হতে এক পলকে নিচ তলায় এসে পড়ে।আর কখনো সৃজনশীলতা চেষ্টা করার দুঃস সাহসটুকু করা হয়ে উঠেনি। প্রশ্ন করা যেখানে অপরাধ! একজন ভাল শিক্ষকের কাজ হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানার আগ্রহ তৈরি করে দেওয়া কিন্তু আমার এমন পুড়া কপাল এমন শিক্ষকের দেখা কখনো পাইনি আমি বরং জানার আগ্রহ ধ্বংস করে দেওয়ার কাজটি খুব ভালভাবে করেছেন আমার শিক্ষক মহাশয়গণ।তখন নবম শ্রেণীতে পড়ি ক্লাসে প্রশ্ন করার অপরাধে!পাক্কা ২০ মিনিট বেঞ্চের উপর দাড়িয়ে ছিলাম আমি…… তারপর থেকে স্কুল জীবনে কখনো প্রশ্ন করা হয়ে উঠেনি আমার, পড়া না বুঝলে মাথা নাড়িয়ে হুম হুম বুঝেছি বলে সারা স্কুল জীবন কাটিয়ে দিলাম।

পরীক্ষা বীমা করলেই চলবে:

এই যে এত সমস্যা তারপরেও আমি ভালো ছাত্র হতে পারতাম। যদি প্রতি মাসের দশ তারিখের মধ্যে স্যারের বাসায় পরীক্ষা বীমার কিস্তির টাকা ঠিকমত দিতে পারতাম কিন্তু এই কিস্তির টাকা দেওয়ার সামর্থ্য কিংবা ইচ্ছা কোনটায় আমার ছিল না। এই কিস্তির জোরে আমার সহপাঠিদের কিছু না জেনেই তথাকথিত ভালো ছাত্র হতে দেখেছি। আর আমি সেই খারাপ ছাত্র রয়ে গেলাম আজীবন।

শিক্ষক যখন মার্কসবাদী!
এ দেশে আমার মত এত খারাপ ছাত্র থাকলে তো হবে না।দেশের উন্নয়ন বাধাঁ গ্রস্ত হবে। মাননীয় জননেত্রী রুপকল্প ২০৪১ স্বপ্ন তো স্বপ্ন থেকে যাবে।সবাই কে ভালো ছাত্র করতে হবে।কিন্তু একদিনে কী আর ব্যবস্থা পরিবর্তন করা যায়? তখনই দৃশ্যপটে হাজির আমাদের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মহাশয়! বাতলে দিলেন অভিনব এক উপায় সব শিক্ষক কে হয়ে যেত হবে মার্কসবাদী (বেশি করে খাতায় মার্ক দেওয়া অর্থে) তবেই সব খারাপ ছাত্র হয়ে যাবে ভালো ছাত্র!

প্রশ্ন পাওয়া সবার অধিকার!
শিক্ষকরা সবাই মার্কসবাদী হয়ে যাবার পরেও যখন সরকারের মিশন ভালো ছাত্র ! সফলতার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না তখণ পরিক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন পাওয়া সবার অধিকার নামক ফেসবুক ভিত্তিক একটি আন্দোলন গড়ে তুলে! এই আন্দোলনের বিজয়ের মধ্যে দিয়ে সরকারের মিশন ভালো ছাত্র সফলতার মুখ দেখে।

সতর্কীকরণ
এই ভালো ছাত্রদের কখনো সাধারণ জ্ঞান হতে কোন প্রশ্ন করবেন না, করলে উত্তর শুনে লজ্জা পেলে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী কিংবা এই লেখার লেখক দায়ী থাকবেন না।