ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

রাত ১১:১২
শুক্রবার।

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করতে হবে কি-না, এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গিয়েছিল ১৯৭১ সালে।

সে উত্তর রক্ষা করা হয়নি বলে ঝরে গেল অনেক প্রাণ। ছিঁড়ে গেল মানচিত্র। মানচিত্র আজ আমার রক্তে আমার ভাইয়ের রক্তে ভেজা। আমার শহীদ মিনারে আজ শকুনের পদচারণা। আর ছোট বেলায় যে শান্তির ধর্মের মিষ্টি আওয়াজ শুনে ঘুম ভাঙত আর জেগে উঠতাম, আর যেতাম, সে শান্তির উপর কলঙ্ক।

কারা সেই দুষ্কৃতকারী? কে সেই ঘাতক? কোন সে দূরাচার? পাপাত্মা?

আমার প্রশ্ন এই দেশের সরকারের কাছে। এই দেশের সংসদের কাছে। এই দেশের জন প্রতিনিধির কাছে।

যাদেরকে আমরা, জনগণ ক্ষমতায় পাঠিয়েছি। আমরা যাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছি। যাদেরেক নির্বাচন করেছি/ আইন তৈরি করার জন্য।

আজ বাইশে ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালের পর, উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিগণ, উত্তর দিন, জামায়াত-শিবির কি এদেশের মানুষের জীবন নিয়ে খেলতে থাকবে, না নিষিদ্ধ হবে?

আপনারা ভাল জানেন দেশের সম্মানিত উপর তলার এরিস্টোক্র্যাট এলিট মানবগণ, আমরা আমাদের ১৭ দিনের আন্দোলনে একবারো আপনাদের অসম্মান করিনি। আমরা অহিংস থেকেছি। আমরা দেশকে নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাই নি।

আমারা, জনতা, দুইটা দাবি নিয়ে এসেছি। এক, রাজাকারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি- তাদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি; দুই, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধে আইন করার দাবি।

আপনারা জানেন আজ সারাদেশে কি হয়েছে। আপনারা এও জানেন আমরা আবারো রাজপথে ফিরেছি। আপনারাও মননীয় মহোদয়গণ প্রতিশ্রুতি দেয়ার চেষ্টা করছেন!

আজ আমার শহীদ মিনার ভেঙেছে একাত্তরের পরাজিত দেশবিরোধী ভণ্ডগুলো। আজ আমার পুলিশ ভাই, আমার সাংবাদিক ভাই, আমার চেতনাকে আবারো রক্তাক্ত করেছে নরকের কীটগুলো।

যেমনটি করেছিল একাত্তরে।

একাত্তরে ওদের একটি সুসজ্জিত সশস্ত্র সেনাবহিনী ছিল, ছিল আমেরিকা-বিলাতের সমর্থন। ছিল কিছু নিমকহারামের দল।

আমাদের দৃশ্যমান বলতে ছিল পাজরের ক’খানা হাড়। আর দেশপ্রেম। সে যুদ্ধে আমরা জিতেছিলাম।

আজ স্বাধীন দেশে আমরা আগের চেয়ে শক্তিশালী, মাননীয় কর্ণধারবৃন্দ। আমাদের চেতনা উজ্জীবিত। আমাদের কাছে নিজেদের পতাকা। আমাদের অন্তরে প্রিয় শহীদ মিনার।

কিভাবে রক্ষা করতে হবে আমরা জানি।

আপনারা কি তা জানেন? জানলে আওয়াজ তুলুন সজোরে। আমাদের দাবি মানার প্রক্রিয়া শুরু করুন, এখনই। আপনাদের অবস্থান আমাদের কাছে পরিষ্কার করুন।

চেতনা প্রবহমান। জনতা আজ কোন কাতারে দাঁড়ানো আপনি দেখতে পাচ্ছেন। ভোট আজ কোন দিকে আপনি দেখতে পাচ্ছেন (জানি, ভোট না থাকলে, মাননীয় মহোদয়গণ, আপনারা এক বিন্দু বিচলিত হতে পছন্দ করেন না)। আমি না বললেও আপনি বুঝতে পারছেন, কয়েকটি নিমকহারাম ছাড়া দেশের পুরো তরুণ সমাজ কোনদিকে।

ভোটের শপথ, আমার চেতনার শপথ, আমার পতাকা / আমার মায়ের শপথ, আমার প্রিয় ভাই আর বোনের শপথ- আপনার কানে কি পৌঁছাচ্ছে মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ?

ভাববেন না, আপনাদের কাছে ভিক্ষা চাচ্ছি। আমাদের দাবির কথা জানালাম, সঙ্গে দাবি আদায়ের দৃপ্ত উচ্চারণ। রাজাকারের ফাঁসি চাই। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি বন্ধ কর।

আমাদের উচ্চারণ কিভাবে রাখতে হয়, তা আমরা ইতিহাস থেকে শিখেছি। সেই ইতিহাসের কোন অংশে আপনি আপনার নাম লেখাতে চান, তা ঠিক করতে হবে এখনই।
জয় বাংলা। জয় তারুণ্য। জয় শাহবাগ।