ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

ভারত-পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে বিপর্যস্ত। চীন, তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর আর সাবধানি। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন ইসলামি জঙ্গী ইস্যুতে পর্যুদস্ত। বাংলাদেশেও চেষ্টা করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে নানান অরাজকতা উস্কে দেয়ার। এখনও পর্যন্ত সফল হয়নি তা। তাতে অসুবিধাই হয়েছে বিশ্ব পঞ্চায়েতদের। তারা কত কিছু ঠেকানোর জন্য ফোন করে। বাংলাদেশ মাথা নত করে না। কত কী দেয়ার জন্য ফোন করে, বাংলাদেশ নেয় না। এত সাহস বাংলাদেশের!

myanmarrohingya

এখন যদি রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের মধ্যেই এক জায়গায় জড়ো করা যায় এবং তাদেরকে খাদ্য-বস্ত্র-অস্ত্র আর মানসিক চিকিত্সা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে বাংলাদেশকেও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হাসিল হয়। কী আনন্দ!!

আজকে যারা রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশেই আশ্রয় দেয়ায় পক্ষে তারা একটু কষ্ট করে খুঁজে দেখেবেন, মায়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত সংযোগ আছে এমন দেশগুলো হল বাংলাদেশ, ভারত, চীন, লাওস এবং থাইল্যান্ড। এর মধ্যে সবচেয়ে কম সীমান্ত সংযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে। চীন আর থাইল্যান্ডের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি, ভারতের সঙ্গেও কম নয়। খালি চোখে দেখলেও ম্যাপ থেকে দেশগুলোর আয়তন দেখে বুঝতে পারা যায় এর মধ্যে লাওস আর বাংলাদেশ ছাড়া সবগুলো দেশের আয়তন বলতে গেলে জাইগ্যান্টিক। খোদ মায়ানমারের আয়তন দেখেন। তারপর দেখেন কোন দেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব কত। নিজেই খুঁজে দেখেন। একটু কষ্ট করেন! শুধু রোহিঙ্গাদের জন্য চোখের পানিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ভাসাবেন আর এইটুকু কষ্ট করতে পারবেন না?

তাহলে সীমান্ত এলাকার আয়তন, দেশের আয়তন এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব এই তিনটির বিচারে আপনি বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয়দানকারী দেশ হিসাবে এগিয়ে রাখতে পারেন না। এবার আসেন, কোন দেশ কত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে? বাংলাদেশ ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিয়ে বিপদগ্রস্ত। অন্যান্য দেশগুলোতে মাত্র যেখানে কয়েক হাজার আশ্রয় পেয়েছে বাংলাদেশে সেখানে আট লাখের মত। এর পরেও বাংলাদেশ?

আপনি বলতেই পারেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশই সবচেয়ে কাছে (থাইল্যান্ডও কিন্তু কম কাছে নয়)। তাই বাংলাদেশেরই ওদেরকে নেয়া উচিত। কারণ কী? কারণ মানবতা! কোন মানবতা? বাংলাদেশের মানুষের জন্য কোন মানবতা দেখানোর দরকার নাই? নাই মানে, আছে তো? ৭১ এ . . . . দেখুন আমরা নিজেদের জনসংখ্যা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। তার চেয়েও বড় কথা, আজকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার আগে আপনি কি নিশ্চয়তা দিতে পারবেন তারা এক/দুই বছর বা তারও পরে কোনোদিন নিজের দেশে ফিরে যাবে? পারেন না। আগামি একশ বছরেও তাদেরকে আপনি ফিরাতে পারবেন না। কারণ সেখানে গেলেই তাদেরকে হত্যা করা হবে!

এই লেখার উদ্দেশ্য এই নয় যে, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে না’ ধরনের কথা বলা। এই উদ্দেশ্যও নয় যে তাদের জন্য মানবতা নয়। স্পষ্টই আমিও চাই, এই অত্যাচারের বিচার হোক। এই অত্যাচার বন্ধ হোক। তাদেরকে তাদের জমি ফিরিয়ে দেয়া হোক। তাদের দেশ ফিরিয়ে দেয়া হোক। সেই জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কাজ করুক। মায়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক তারা। দেশটাকে বাধ্য করেন রোহিঙ্গা হনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

একটি সম্পূরক প্রশ্ন এসে যায়, মায়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমেরিকার খুব একটা আগ্রহ দেখিনি কখনো। এর একটা দুইটা কারণ বলতে পারেন? বাদ দেন এ প্রসঙ্গ। আসল কথায় আসি, আপনারা ইসলামিক স্টেটের উপর বোমা মারতে পারেন, আর মায়ানমারের সাথে আলোচনার পথ সৃষ্টি করতে পারেন না?

আসলে চাচ্ছে না। তারা চায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন হোক। এর কোনো স্থায়ী সমাধান না হোক। এবং তারা সবাই বাংলাদেশে চলে আসুক। আপনি মানবতার খাতিরে তাদেরকে জায়গা দিতে চাচ্ছেন এ নিয়ে সন্দেহ না করেও আমি বলতে পারি, এরপরে তাদেরকে অন্ন-বস্ত্র-অস্ত্র-বাসস্থান দিয়ে ওই মোড়লগণ একটা সম্প্রদায় তৈরি করার সুযোগ হাতছাড়া করবে না যাতে বাংলাদেশেও ভারত-পাকিস্তানের মত জম্মু কাশ্মীর; বা চীন-তাইওয়ান সম্পর্কের বিষফোঁড়া বা আফগান্তিান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেনের ইসলামি জঙ্গী ইস্যুর মত একটা চিরস্থায়ী ইস্যু তৈরি হোক যার নাম রোহিঙ্গা। তাতে একমাত্র বাংলাদেশ বাদে সকলেরই ফায়দা! বাংলাদেশে একটা শক্ত ঘাঁটি তাদের খুব দরকার।

 

***
ছবিসূত্র: বিডিনিউজ২৪ডটকম