ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

আমার দেখা পাকিস্তান-২য় পর্ব ।

ভেবেছিলাম পাকিস্তান নিয়ে শুধু একটি লেখাই লিখবো । কিন্তু অনেকের অনুরোধে আবারও লিখতে বসলাম ।পাকিস্তানে আমাদের থাকার কথা ছিল মাত্র ১০ ঘণ্টা। কিন্তু হরতালের কারনে প্রায় ৮০ ঘণ্টা থাকতে হয়েছিল । আর যেহেতু ইন্ডিয়ানদের বাইরে বেড়ানো অনুমতি নাই আমরা দুজন মনের শুখে ঘুরে বেরিয়েছি।(যারা আমার প্রথম লেখাটি পড়েননি তাদের জন্য নীচে লিংক দেয়া হয়েছে )পাকিস্তানিরা খাওয়া দাওয়ায় ওস্তাদ ।এখানে রয়েছে প্রচুর ফুড কোর্ট । আপনি চাইলে অল্প খরচে বেশ ভাল খবার পাবেন ।টিক্কা , কাবাব , জিলাপি চোখ বন্ধ করলে এখন জিভে স্বাদ পাই । আজ পর্যন্ত কোথাও ঐ রকম স্বাদ পাইনি । আদমজী দাউদ রোডে বিশ্বের বড় বড় খাবারের নামকরা দোকান গুলো আছে । আমার দেখা বড় খাবারের একটি মেলা ! এর কাছেই আছে বড় বড় হোটেল গুলো ।অবাক করা ব্যাপার হল এখানের বার গুলো অনেক ওপেন ।সাথে আছে ডিস্কো ! যদিও পাকিস্তানিদের যাওয়া নিষেধ । কিন্তু ভিতরে গেলে দেখবেন ওদের সংখ্যাই বেশি ।সি বীচেও গিয়েছিলাম । অবস্থা খুবই করুন । প্রচুর লোকের সমাগম হলেও নেই কোন সুযোগ সুবিধা । মাঝে মধ্যে কিছু ঝুপড়ি পাবেন !( এরকম একটি ঝুপড়ির ছবি দিলাম) তবে সাবধান ! ওখানে পাওয়া যায় ড্রাগস/আর্মস ।বড় বড় হোটেল গুলো নিজস্ব ভাবে কিছু ব্যাবস্থা নিয়েছে। সুন্দর সুন্দর টেবিল / চেয়ার / ছাতা সহ খাবার ও পানীয় জলের আয়োজন। তবে তা সন্ধার পর এবং প্রচুর নিরাপত্তাসহ । চাইলেই ঢুকতে পারবেন না । আমার খুব শখ ছিল করাচী ন্যাশনাল স্টেডিয়ামটা দেখার (যে মাঠের অনেক ক্রিকেট খেলা দেখেছিলাম টিভিতে)। সে আশাও পূর্ণ হয়েছিল ।স্টেডিয়াম যাওয়ার পথে দেখেছিলাম পাকিস্তানের তখন পর্যন্ত সবচেয়ে উচু বিল্ডিং এমসিবি টাওয়ার (১১৬ বা ১১৮ মিটার )। এরই মাঝে দেখা পড়েছিল কায়েদ-এ-আজম বিমান বন্দর । সত্যিই বলতে গেলে এটা দেখে খুব ভাল লেগেছিল ।না এটি খুব ভাল কোন বিমান বন্দর নয় । ভাল লেগেছিল এই কারনে , ওটা দেখার আগ পর্যন্ত আমার মনে হত আমাদের বিমান বন্দরটাই সবচেয়ে খারাপ।

পাকিস্তান থেকে প্রচুর শার্ট , বেড কাভার ও একটি লেদার জ্যাকেট এনেছিলাম । জ্যাকেটটা কোন দিন পড়তে পারিনি ।কারন ঐ রকম শীত কখনো পাইনি । বছর দুই হল ফেলে দিয়েছি । আমাদের দেশে প্রচুর পাকিস্তানিরা টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিতে কাজ করে।বড় বড় টেক্সটাইল গুলো সব ওদের দখলে । ওরা আসে একটি টিম হিসাবে ।প্রচুর টাকা নেয়।আমাদের শিল্পপতিরা বেজায় খোশ থাকে ওদের নিয়ে । আমি প্রায় দু’বছর টেক্সটাইল কনসালটেন্ট হিসাবে কাজ করেছিলাম।তখন দেখছি ওদের কাছে কত অসহায় আমাদের শিল্পপতিরা।ওরা যা বলবে তাই হবে । ওরা কখনো আমাদের কর্মীদের কাজ শিখায় না । এবং খুব খারাপ ব্যাবহার করে ।

আমাদের অনেকই বাংলাদেশকে পাকিস্তানের আদলে দেখতে চায় । আবার অনেকেই বলে থাকেন এদেশকে কোন ভাবেই পাকিস্থান বানাতে দিবেন না । এই দুই শ্রেণীর লোকদের প্রতি আমার করুনা হয় । কারন এর কোনটিই সম্ভব না । আমার দেখা সবচেয়ে অরাজকতার দেশ হল পাকিস্থান ।ব্যর্থ রাষ্ট্রের জলজ্যান্ত উদাহরন পাকিস্তান।অনেকে বলে থাকেন পাকিস্থান পারমাণবিক বোমা বানায় । মিসাইল বানায় । আসল খবর এগুলোতে ওদের কোন কৃতিত্ব নেই।ইন্ডিয়াকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে চীন সবধরনের সহযোগিতা করে । আর কোরিয়া পারমাণবিক বোমার তথ্যের বিনিময় মিসাইল টেকনোলজি শেয়ার করে । আর ইন্ডিয়ায় যত সন্ত্রাসী কাজ হয় পাকিস্তানের আই এস আইয়ের উপর দোষ চাপিয়ে ওরা নিজেদের রক্ষা করে । সিঙ্গাপুরে আমাদের সাথে ৭/৮ জন পাকি ছিল । প্রায় এক বছর আমরা একসাথে পড়াশুনা করেছি ।ওদের কাছ থেকে জেনেছি পাকিদের করুন কাহিনী। যাদের একটু সমর্থ আছে তারা তাদের সব টাকা পয়সা দুবাই রাখে । সুযোগ পেলেই চলে যায় ইংল্যান্ড । পাকিদের দ্বিতীয় হোম হচ্ছে ইংল্যান্ড কেন জানিনা (ব্লগের কার জানা থাকলে একটু জানাবেন)। পাকিরা খুব সহজেই ওখানে চলে যেতে পারে । যেখানে ইউরোপের অন্যান্য দেশে ওরা অঘোষিত নিষিদ্ধ।এমনকি সিঙ্গাপুরেও ভিসার জন্য অনেক ঝামেলা হয়।

পাকিস্তান থেকে আমরা গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে। পৌঁছানোর সাথে সাথে কোস্ট গার্ড আমাদের ঘিরে ফেলল । প্রায় ৩০ জন সেনা মিলে পুড় জাহাজ সার্চ করল কুকুর দিয়ে। বেশ অবাক হয়েছিলাম । কারন জীবনে এতবার সিংগাপুর গিয়েছি কোন দিন এমন হয়নি ।পড়ে জানলাম পাকিস্তান থেকে ড্রাগস আসে জাহাজে করে । ওরা লুকিয়ে জাহাজে রেখে দেয়। ওদের লোক ওখান থেকে নিয়ে নেয়। বহির্বিশ্বে এটাই হল পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ।