ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

একটি দেশের বর্তমান এবং সাবেক প্রধান মন্ত্রীর সাথে তুলনা করা হল আরেক একটি দেশের মুখ্যমন্ত্রীর সাথে ।দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘ভাবনায় ভোট’ নামের এক কলামে তসলিমা নাসরিন এসব কথা লিখেছেন ।বাংলাদেশের প্রবাসী লেখিকা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন শুরুর প্রাক্কালে সেদেশের রাজনীতিক মমতা ব্যানার্জির ভূয়সী প্রশংসা করে মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের নেত্রীদের মতো মমতা ব্যানার্জি বাবা বা স্বামীর মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেননি।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট গ্রহণের আগে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলে এগিয়ে রাখার ভাবনা থেকেই পুরো লেখাটি তিনি মমতা ব্যানার্জির স্তুতিবাক্যে ভরিয়ে তুলেছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করার জন্য ‘আগামী মূখ্যমন্ত্রী’ মমতার কাছে আবেদনও জানান।

শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার নাম না উল্লেখ করলেও তিনি মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে হাসিনা ও খালেদার তুলনা করেছেন। যদিও এ তুলনায় মমতাকেই এগিয়ে রেখেছেন তিনি।এসব স্তুতির কারণ অবশ্য তার নিজের লেখাতেই পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আশা করব তিনি আমাকে, এই বাঙালি লেখককে বাংলায় ঠাঁই দেবেন।’’নাসরিন লিখেছেন, ‘ভারতীয় উপমহাদেশে আমি নারী রাজনীতিক আরও অনেককে দেখেছি, আমার দেশেও দেখেছি। তাঁদের কারও সাফল্য আমাকে এত বেশি অভিভূত করেনি।’তিনি আরও লিখেছেন, ‘বাবা কিংবা স্বামীর পরিচয়ে তারা রাজনীতিতে এসেছেন এবং সাত তাড়াতাড়ি ক্ষমতার দেখাও পেয়েছেন।’

‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও আত্মীয় বা স্বজনের হাত ধরে মাঠে নামেননি। তিনি একাই লড়েছেন দীর্ঘ দিন। দু’হাতে একাই পাহাড় সরিয়েছেন। দুর্যোগের রাতে একাই সমুদ্র পাড়ি দিয়েছেন, দুর্গম অরণ্যে একাই হেঁটেছেন।

এবার দেখুন আগাচৌ(আবদুল গাফফার চৌধুরী) দেশের একটি পত্রিকায় কি লিখেছেন।

“মমতা ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জেনেছি, বাংলাদেশের বাঙালিদের প্রতিও তাঁর অসীম মমতা। শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এবং মনে করেন রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে তাঁর দল বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের সঙ্গে এক স্পেশাল রিলেশনশিপ গড়ে তোলার উদ্যোগ তিনি নেবেন। বাংলাদেশে তাঁর সোনার তরী ট্রেন যাত্রাই শেষ কথা নয়, দুই বাংলার সম্পর্ক ও সহযোগিতাকে তিনি আরো সুদৃঢ় করে তুলতে চান” ।নির্বাচনে জেতার জন্য সিপিএম ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকে পর্যন্ত তোল্লা দিয়েছে। তাদের কৃষক দমন আন্দোলনে সমর্থন জানাতে দিল্লীর জামে মসজিদের খতিবকে কলকাতায় এনেছে। তসলিমা নাসরিনের বই শুধু পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা নয়, তাকে পুলিশ দিয়ে জোরপূর্বক পশ্চিমবঙ্গ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

আগাচৌর তসলিমা প্রীতি এবং দু জনের লেখার ভিতর যদি কোন অদৃশ্য মিল খুজে পাই তাহলে কি দোষের কিছু আছে ।

ইসলামের ইতিহাসে এম এ এবং চিরকুমারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমদের প্রধান মন্ত্রী আমাদের তরফ থেকে সবার আগে অভিনন্দন জানিয়েছেন (সম্ভবত বিশ্ব রেকর্ড কারন কোন দেশের রাজ্য নির্বাচনে জয়লাভের ঘটনায় অন্য দেশের প্রধান মন্ত্রীর এভাবে অভিনন্দন জানানোর রেকর্ড আছে কিনা আমার জানা নেই) । তাই আমদের আর অভিনন্দন জানানোর দরকার নেই । তবে একটি কথা বলতে পারি রাজপথে আন্দোলন এবং সরকার পরিচালনা এককথা নয় । লড়াকু নেত্রী হিসাবে সফল মমতা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কেমন করেন সেটাই দেখার বিষয় ।

***
সূত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, উইকিপিডিয়া, এবং বাংলানিউজ২৪.কম, কালের কণ্ঠ ।