ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমরা বিগত সময়ে দেখেছি যে চার দলীয়রা সব সময় ভারত বিরোধিতাকে তাদের বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করেছে । ১৯৭১- জামাত-পাকিস্তানের ভারত বিরোধিতা যেই ধরণের ছিল বিএনপিকে আমরা ঠিক সেই ধরণের ভারত বিরোধিতা করতে দেখেছি যদিও মুক্তি যুদ্ধকে বুকে লালনকারী বিএনপির কাছ থেকে এটা প্রত্যাশিত নয় । শুধু ভোটের জন্য স্বাধীনতা বিরোধী জামাতের ভাষায় মুক্তিযোদ্ধা জিয়ার দল কথা বলে ।

আওয়ামী লীগ ও ভারত বাংলাদেশের মুক্ত যুদ্ধের পক্ষে সব চেয়ে বড় অংশিদার ছিল যেই কারণে আওয়ামী লীগ ও ভারত জামাতের গা জ্বালার কারণ হয়ে দাঁড়ায় । পাকিস্তান ও জামাতীদের হারের মাধ্যমে আমাদের যুদ্ধ শেষ হয়েছে কিন্তু জামাত পাকিস্তানের ইন্ধনে এখনো সেই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে । আর তাদের এই যুদ্ধের মোহরা বানিয়েছে বিএনপিকে ।

আর মাত্র এক বছর পরই নির্বচন । গত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা বিএনপি ভুলে যায়নি । অনেকের মতে যুদ্ধাপরাধীদের সাথে জোটই নাকি গত নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির প্রধান একটি কারণ ছিল । বর্তমান অবস্থা আরো ভয়াবহ; দেশের জনগনের কাছে যুদ্ধাপরাধীরা বিষ ফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে । এমতাবস্থায় জামাতকে সাথে নিয়ে নির্বাচন করে বিএনপি কতখানি সফল হতে পারবে তা নিয়ে দলটি একাংশের কাছে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।

বিশেষ করে বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনেক বেশি প্রভাবিত, তাঁরা আর স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে নিয়ে এগোতে চায় না । এই ব্যাপারটি সভা নেত্রী খালেদা জিয়ার অজানা নয় । তাহলে কি খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধী জামাত ঘেঁষা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন ? এই প্রশ্নের উত্তর তো সময়ই বলে দেবে; তবে খালেদা জিয়ার ভারত সফর এবং দেশটির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব পূর্ণ সফল আলোচনা সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে ।

ভারত আমাদের মুক্তি যুদ্ধের সাথী এবং দেশটি আমাদের সব চেয়ে বড় প্রতিবেশি । শুধু তাই নয় আমাদের দেশ প্রায় চতুর দিক দিয়ে ভারত দ্বারা ঘেরা, এমতাবস্থায় দেশটির সাথে বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক রাখার মধ্যে বাংলাদেশের স্বার্থ জড়িয়ে আছে । আর কিছু নাই হোক অন্তত আমাদের জাতীয় স্বার্থে ভারতে সাথে বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্কের বিকল্প নেই, খালেদা জিয়াও যে তা উপলব্ধি করেছেন ভারতীয় নেতাদের সাথে তাঁর আলোচনা থেকে সেই আভাসই পাওয়া যায় ।

ভারতের সাথে আলোচনায় বিএনপি ও সরকারের একই সুর হওয়াতে সরকার বেশ স্বস্তিতে আছে । তবে খালেদা জিয়ার এই পন্থা জামাতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । কারণ, জামাত কখনো চায়না যে ভারতের সাথে বিএনপির ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠুক । কেননা, জামাতের মতো একটি পঙ্গু গ্রুপ বিএনপির ওপর ভর না করে যে চলতে পারবে না দলটি সেটা ভালো করেই জানে, তাই জামাতীরা তাদের সব রকমের কৌশল দিয়ে চেষ্টা করবে যাতে ভারতের সাথে বিএনপির ভালো সম্পর্ক না হয়।

বিএনপির উচিৎ হবে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ও দেশের স্বার্থের কথা ভেবে নতুন করে কিছু ভাবা । জামাত ৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে বিএনপিকে আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে সেটা দলটিকে বুঝতে হবে । বিরোধী দলীয় নেত্রী দেশের পক্ষে ভারতের সাথে যেসব আলোচনা করেছেন তার সবই জাতির কাছে গ্রহন যোগ্য । তবে এখানেই শেষ কথা নয়, আগামীতে খালেদা জিয়া কি কৌশল অবলম্বন করবেন সেটাই হবে দেখার বিষয় ।