ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

খালেদা জিয়া বলেছেন, তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না । তিনি আরো বলেছেন, সরকার তার পুরো সময় ক্ষমতায় থাকুক তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই তবে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি সরকারকে মেনে নিতে হবে ।

এ’তো গেল খালেদা জিয়ার কথা; বিএনপির আরেক হ্যাভি ওয়েট নেতা তরিকুল ইসলাম কিন্তু মহাজোটকে আর এক মুহুর্তও ক্ষমতায় থাকতে দিতে রাজি নন ।তিনি প্রতিদিনই জনগনকে সঙ্গে নিয়ে অবিলম্বে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছেন ।

যত মুখ তত কথা । যেহেতু দেশে গনতন্ত্র চলছে এত কথা নেতারা বলবেনই । সাকা চৌধুরী, কাদের মোল্লা ও ফখর উদ্দীন সাহেবদের রকমারী কথা তো আর জাতি কম শোনেনি । এবার তরিকুল সাহেবের পালা । এই ভাবেই বাংলাদেশের প্রভাবশালী তান্ত্রিক রাজনীতি চলতে থাকবে । আর যারা সাধারণ জনগন; তাদের অধিকার ইংরেজদের আমলে যা ছিল এখনও তাই আছে এবং আগামীতেও তাই থাকবে, এই হলো বাস্তবতা ।

তা যাই হোক, যেই কথা লিখতে বসেছি তা হলো- বিএনপির তত্বাবধায়ক ব্যবস্থার দাবি মেনে নিয়ে ঠিক বিএনপির স্টাইলে একটি তত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে সেই সরকারের কাছে মহাজোটের ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া উচিৎ । এতে বিএনপির দাবিও পূরণ হয়ে যাবে এবং নিয়ন্ত্রন মহাজোটের হাতেই থেকে যাবে । আর দেশবাসী অশান্তিথেকে রক্ষা পাবে । যেহেতু বিএনপি নিজেও আগে এমন তত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেছিল তাই দলটির এ নিয়ে আপত্তি থাকার কথা নয় ।

আপনারা প্রায় সবাই জানেন বিএনপি তাদের সমর্থিত প্রাসিডেন্ট ইয়াজুদ্দীন আহমেদকে প্রধান পদে রেখে তত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেছিল । শুধু তাই নয়, সেই সরকারের বেশ কিছু সদস্যও বিএনপির পছন্দের ছিল । তাছাড়া, বিএনপির সমর্থক আজিজকে প্রধান করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তাই আওয়ামী লীগেরও ঠিক সেই স্টাইলে লীগের সমর্থক কাউকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান পদে বসানো উচিৎ । এতেও বিএনপির আপত্তি থাকার কথা নয় ।

সর্ব শেষে লিখবো, এরকম দলীয় সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন আমার আকাঙ্খা নয় । আমি শুধু বিএনপির ধ্বংসাত্বক আন্দোলন থেকে মানুষকে বাঁচাতে এই প্রস্তাবটি রাখলাম ।

আপনারাই বলুন, ঐ কোটিপতি রাজনৈতিক নেতাদের আকাঙ্খা পূরণ করতে এই দেশের দরিদ্র জনগন তাদের নিজেদের আকাঙ্খা আর কত কাল পোড়াবে ?