ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

এক সময় বাংলা সিনেমা ও বিটিভির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল যা এখন শুধু স্মৃতির পর্দায় ইতিহাস হয়ে আছে । আমাদের টিভি/সিনেমার এই দূরবস্থার প্রধান কারণ হলো বাংলাদেশে হিন্দুস্তানী টিভি/সিনেমার ডাম্পিং । এই ডাম্পিং-এর জন্য দায়ী হলেন ১, সরকার ২, হিন্দী পাগল দর্শকগন ও ৩, ক্যাবল অপারেটাররা । এই তিন পার্টি মিলে দেশের সিনেমা/টিভির শিল্পের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়েছে । সব সরকারই দেশীয় সিনেমা/টিভি শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে । হিন্দুস্তানী অশ্লীলতা নির্ভর সিনেমা/টিভি যাতে অবাধে বাংলাদেশে চলতে পারে তার লাইসেন্স সরকার দিয়েছে । এই তথাকথিত ভারতের হিন্দী নামের উর্দূ চ্যানেল ও সিনেমা চলার অনুমতি দিয়ে সরকার আমাদের গৌরব উজ্জল ভাষা আন্দোলন কে ম্লান করে দিয়েছে । হিন্দুস্তানী সিনেমা/টিভির ডাম্পিং-এর কারনে আমাদের দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেই দিকে সরকারের কোনো দৃষ্টি নেই ।

এক শ্রেনীর দর্শক আছেন তারা হিন্দুস্তানী টিভি/সিনেমা না দেখে থাকতে পারেন না । তাঁরা নিজেরা তো দেখেই সেই সাথে তাঁদের সন্তানদেরকেও উর্দূ টিভি/সিনেমার মাধ্যমে হিন্দী নামের উর্দূ ভাষা শেখাচ্ছে । এই ধরনের শিশুরা ভবিশ্যতে ভাষা আন্দোলন তথা বাংলা শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি কত খানি শ্রদ্ধাশীল হতে পারবে তা একবার ভেবে দেখুন । সুনাগরিক না হলে ভাল দেশ গড়া যায় না । জনগন যদি দেশের স্বারর্থ রক্ষা করতে অনিচ্ছুক হয় তাহলে সেই দেশের কী দশা হতে পারে তার উদাহরন হলো পাকিস্তান । উর্দূর সাথে পাকিস্তানের কোনো সম্পর্ক নেই, পাকিস্তানের কোনো অঞ্চলের মানুষের ভাষা উর্দূ নয় । পাকিস্তানের চার প্রদেশ বিশিষ্ট যথাক্রমেঃ-
১- সিন্ধু প্রদেশ, ভাষা- সিন্ধী
২- পাঞ্জাব, ভাষা- পাঞ্জাবী
৩- পখতুন খোয়্‌ ভাষা- পশ্তু ও
৪- বেলোচিস্তান, ভাষা- বেলোচী

এখানে উর্দূর কোনো জায়গা নেই, উর্দূ উত্তর ভারতের ভাষা । এই ভাষাটি কে ভারতীয়রা হিন্দী নামে চেনে আর পাকিস্তানীরা উর্দূ নামে চেনে । পাকিস্তানের বর্তমান প্রদেশ গুলির অধিবাসীদের মাঝে অনেক আগে থেকেই উর্দূ ভাষা খুবই জনপ্রিয় ছিল তাই এই ভাষাটি কে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করা হয়েছে । আমার ভয় হল বাংলাদেশে যে ভাবে হিন্দী ভাষার জনপ্রিয়তা বাড়ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যে পাকিস্তানীদের মত হিন্দীর প্রতি ঝুকে যাবে না তার কী নিশ্চয়তা আছে ।

ক্যাবল অপারেটররা টাকার জন্য সব কিছু করতে পারে । ওদের শুধু টাকা চাই তাতে দেশের সিনেমা/টিভির শিল্প ধংষ হয়ে যাক তাদের কিছুই আসে যায় না । এদের না নিজের আদর্শ আছে না দেশের প্রতি কোনো প্রকার দায়ীত্ব বোধ আছে । এদের কারনে বাংলাদেশ আজ হিন্দুস্তানী সিনেমা/টিভির বাজারে পরিনত হয়েছে । ভারতী টিভি/সিনেমার সাথে বাংলাদেশের টিভি/সিনেমার মোকাবেলা এক অসম লড়াই । যারা এমনট ভাবেন তাঁরা নির্বোধ ছড়া আর কিছুই নন । হিন্দুস্তানী টিভি/সিনেমার পেছনে ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মার্কেটের সাপোর্ট রয়েছে । আর বাংলাদেশের মাত্র ১৭ কোটি জনসংখ্যার মার্কেট । বাংলাদেশে যদি হিন্দুস্তানী টিভি/সিনেমার ডাম্পিং রোধ করা যায় তাহলে আমাদের টিভি ও সিনেমা শিল্প অনেক এগিয়ে যাবে এবং এই ক্ষেত্রে হাজার হাজার মানুষের নতুন কর্ম সংস্থান হবে বলে আমার দৃড় বিশ্বাস । এর জন্য স্বচেতন বাংলাদেশীদের কাছে আমার আহবান আপনারা অবিলম্বে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুন ।