ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম


এক সময় বাংলাদেশে অনেক সিনেমা হল ছিল কিন্তু দিন দিন হলের সংখ্যা কমে যাচ্ছে কারন দর্শকরা আগের মতো ছবি দেখতে হলে আসে না । এখন দর্শকরা ঘরে বসে কম পয়সায় বিভিন্ন দেশের ছবি ও টিভি অনুষ্ঠান দেখতে পান তাই বেশি টাকা খরচ করে হলে খারাপ মানের ছবি দেখতে কেউ আগ্রহী না । ঘরে বসে কম পয়সায় ভালো মানের ছবি দেখতে পেলে মানুষ বেশি টাকা দিয়ে হলে খারাপ মানের ছবি দেখতে কেন যাবে ? হলে গিয়ে ছবি দেখার যেই প্রচলন ছিল তা আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে যুগ । এটা ছোট পর্দা আর ক্যাবল টিভির যুগ তাই ছবি নির্মাতাদেরও বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ । যারা ভালো টেলি ফিল্ম, নাটক ও বিভিন্ন প্রকারের ভিডিও ছবি বানাতে পারবে তারাই চলচিত্র ব্যবসায় টিকে থাকবে । তবে তারেক মাসুদদের আবিষ্কৃত বিকল্প ধারার ছবি গুলি যদি আর একটু উন্নত তথা রুচি সম্মত করে বানানো যায় তাহলে এই ছবি গুলির ভবিষ্যৎ উজ্জল । সিনেমা হলের যারা মূল দর্শক তাদেরকে লক্ষ করে ছবি নির্মান করা উচিৎ ।

এক সময় সব চেয়ে বড় মিডিয়া ছিল সিনেমা কিন্তু বর্তমানে টেলিভিশন সব চেয়ে বড় মিডিয়ার জায়গা দখল করে নিয়েছে । তাই ছোট পর্দার প্রভাবে বর পর্দা একে একে মুখ থুবড়ে পরছে । সিনেমা হল গুলো শত শত বিঘা জমি দখল করে রেখেছে, এই জমি যদি বাসস্থান বা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় তাহলে দেশ অনেক লাভবান হবে । তবে বিকল্প হিসেবে ছোট পরিসরের সিনেমা হল সুফল বয়ে আনতে পারে, যেমন বসুন্ধরা সিটির ”স্টার সিনে প্লেক্স” ।
<img src="” alt=”” />
দেশীয় সংস্কৃতিকে বাঁচাতে সরকারেরও শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে যেমনঃ-
বাংলাদেশের ক্যাবল টিভি ও ভিডিওতে যে সব চলচিত্র চলবে সেগুলো বাংলাদেশের হতে হবে এর জন্য সরকারকে নীতিমালা তৈরী করতে হবে । ক্যাবল টিভির দর্শকদের পকেটের টাকা নির্মাতাদের পকেটে পৌঁছানোর ব্যবস্থা সরকারের করতে হবে । হিন্দী টিভি চ্যানেল ও ছবির ভিডিও যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সেই ব্যবস্থা সরকারের করতে হবে ।

বাংলাদেশের ব্রোডকাস্টাররা বেশি উদারতা দেখিয়ে নিজেদের পায়ে কুড়োল মারছে । আমি ব্রোডকাস্টারদেরকে পরামর্শ দিতে চাই যে আপনারা ফ্রি টু এ্যার চ্যানেল গুলোকে পে টিভি করে ফেলুন । এবং বিজ্ঞাপনের সংখ্যা হ্রাস করুন । ক্যাবল অপারেটররা বিদেশী চ্যানেলের কার্ড কিনে দেখাতে পারলে দেশী চ্যানেলের কার্ড কেন কিনতে পারবে না ? আপনাদের প্রতি দিন বাংলাদেশি ছবি দেখানো উচিৎ ।

বাংলদেশের কম পক্ষে ১০০ টিভি চ্যানেল থাকা দরকার । এর মধ্যে সব ধরনের বিশেষ চ্যনেল থাকতে হবে যেমনঃ- বাংলা সংবাদ,বাংলা ছায়াছবি, ইংলিশ ফিল্ম, নাটক, বাংলা কার্টুন, স্পোর্টস, তথ্য চিত্র, সঙ্গীত, বিজনেস, শপিং, রান্না বান্না, ফ্যাশন ইংলিশ নিউজ, কৃষি বিষয়ক ইত্যাদি ইত্যাদি । এই ধরনের একশটি চ্যানেলের প্রোগ্রাম দেশে প্রস্তুত হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে ।
সারিকা
বাংলাদেশের অধিকাংশ চিত্র নির্মাতারা এখনো হিন্দুস্তানি ছবির দর্শক মাত্র । তাদের ছবি দেখলে সহজেই বোঝা যায় যে তারা হিন্দী ছবি দেখে তার কপি করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন । ঠিক করে কপিও করতে পারেন না । তাদের শিল্প কর্ম এতটাই কাঁচা যে পাশের বাড়ির খোকাও ভুল ধরতে পারে । তাঁদের শিল্পী চয়নের একটা নমুনা এখানে দিচ্ছি– যেমন নাম করা নায়িকা মৌসুমী, আজকের যুগে এরকম মোটা নায়িকা কি চলে ?

তার পর বাচন ভঙ্গির একটা ব্যাপার আছে, ছবিতে দুই ভাই থাকলে দুই ভাই দু’রকম করে কথা বলে যেমন- জাহিদ হাসান আর শিমূল কে দুই ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করিয়ে দিল । একই বাপের দুই সন্তান যারা একই বাড়িতে ও একই অঞ্চলে থেকে বড় হয় তাঁরা দু’রকম করে কথা বলে না । নাটকের নায়িকা শ্রাবন্তীর কথাই ধরুন গ্রামের অশিক্ষিতা মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করুক বা শহরের উচ্চবিত্ব ঘরের মেয়ের অভিনয় করুক বাচন ভঙ্গি সেই একই । শ্রাবন্তীর সংলাপ- ” এই তুমি এখানে বসে রইছ আমি যে তোমারে সারা ঢাকার শহরে খুজতেছি, কি মজা পাও আমারে কষ্ট দিয়া” ? সব জায়গাতে একই ভাষা, আর তার বাচন ভঙ্গি তো আপনাদের জানাই । সমস্যা হল আমাদের দেশের শিল্পীরা নিজ নিজ পরিবারে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন তাই তাদের এই অবস্থা । নতুনদের অভিনয় মোটামুটি ভালো হলেও বাচন ভঙ্গি একাবারেই গেঁয়ো মার্কা । এগুলো ঠিক করে নেয়ার কাজ পরিচালকদের কিন্তু পরিচালকদের মধ্যে সেই গুন থাকা চাই । তাদের নিজেদের ভাষারই ঠিক নেই এমতাবস্থায় অন্যের ভাষা কি করে ঠিক করবে । এই ক্ষেত্রে কোল্কাতার বাংলা সিনেমা থেকে কিছু শেখার আছে ।

আরেকটি সমস্যা হলো স্লো ডায়লগ বলা । ছবিতে দ্রুত ডায়লগ বলতে হয় কিন্তু ঢাকার ছবিতে এত স্লো ডায়লগ বলে যে ডায়লগ বলার আগে আপনি বুঝে ফেলবেন অভিনেতা কি বলতে যাচ্ছে । ডায়লগ শুনতে ভালো না লাগলে কে শুনবে বলুন ? উদাহরন দিতে পারি রাজ্জাক, আলমগীর, রোজিনার, তাঁদের ডায়লগ শুনতেই মন চায় । ভাষা শ্রুতি মধুর না হলে তা কি শুনতে ভালো লাগে ? শুধু তাই নয়, ডলিউডের (ঢালিউড) পরিচালকরা ছবি বানাতে গিয়ে তথ্য চিত্র বানিয়ে ফেলেন । সিনেমার টিকেট কেটে তথ্য চিত্র কোন পাগল দেখবে ?

তার পর আলোর একটা ব্যাপার রয়েছে । বাংলাদেশের ছবি গুলোতে আলোর অভাব দারুন ভাবে লক্ষ করা যায় । আলো এরকম হতে হবে যাতে দৃশ্যের প্রতিটি বস্তু ফুটে ওঠে । এবং ছবির প্রিন্ট খুব বাজে টাইপের হয়ে থাকে । এই ডিজিটাল প্রিন্টের যুগে বাংলাদেশে চিত্র পরিচালকরা এনালগ দিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন । যদিও টিভি নাটকের প্রিন্টের মান বেশি ভাগই ভালো ।

দৃশ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া খুবই জরুরী । যেহেতু সিনেমা দেখার বিষয় তাই দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য বড় একটা ভূমিকা পালন করে । বেশির ভাগ দৃশ্যে অভিনেতা অভিনেত্রীদের ক্লোজাপ থাকা অত্যন্ত জরুরী । ক্লোজাপ তারকাদের কাছে নিয়ে আসে এতে দর্শকরা অনেক বেশি প্রভাবিত হয়ে থাকে । হলিউডের ছবি গুলোতে দেখার মতো দৃশ্য থাকে তাই যারা ইংলিশ বোঝে না তারাও ইংলিশ ছবি দেখে । প্রোডিউসারদের এই ব্যাপারে লক্ষ দেওয়ার দরকার যে কাহিনী নির্ভর ছবি না বানিয়ে দৃশ্য নির্ভর ছবি বানালে তা বেশি চলবে ।

আর পর্ন মুভি তো দেশে কখনই বন্ধ করা যায়নি আর যাবেও না তাই এই সব মুভি বিদেশ থেকে না এনে দেশেই বানানো যেতে পারে । এতে দেহ ব্যবসায়ী নায়িকাদের জীবন মান উন্নত হবে এবং দেশও লাভবান হবে ।
গ্রেডেশন করে ছবি বানানো যেতে পারে । ছবিতে বয়স নির্ধারন করে দিতে হবে যে কোন ছবি কোন বয়সের দর্শক দেখতে পারবে ।

চিত্র পরিচালকদের উচিৎ থার্ড ক্লাস হিন্দুস্তানিদের অনুকরন না করে হলিউডের ছবি গুলো ভালো করে দেখুন এবং তা থেকে ভালো কিছু শেখার চেষ্টা করুন । এবং নিজেদের ছবিতে হিন্দী টিভি ও সিনেমাকে স্বরন করা থেকে বিরত থাকুন । হিন্দুস্তানিদের যশ গেয়ে নিজের পায়ে কুড়োল মারবেন না ।