ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

আ মরি বাংলা ভাষা

আবার ফেব্রুয়ারি, আবার বাংলা ভাষা নিয়ে লেখার ঝড় । তবে আমি কেন এই ঝড়ের সাথী হবো না ? অনেক দিন ধরে একটা বিষয় নিয়ে ভাবছিলাম লিখবো লিখবো করে লেখা হয়নি । বিষয়টি হলো ‘বাংলা ভাষার বানান বিভ্রাট’ ।

বাংলায় অনেকেই লেখেন কিন্তু বেশির ভাগ লেখকই সঠিক বানান পদ্ধতিকে অনুসরন করেন না । যার যেমন ঠিক মনে হচ্ছে সে তেমন বানান লিখে যাচ্ছে । বানান বিভ্রাটটা প্রধানত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে তবে কিছুটা বিশেষ্য-এর ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে ।

প্রথমে ক্রিয়ার ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করে নিই- যেমন করব এই শব্দটিকে অনেকে করবো লেখেন কারন করবো উচ্চারণের সাথে মেলে । ছিল কে অনেকে ছিলো লেখেন । এরকম অনেক শব্দের বানান লেখকরা উচ্চারণ ভিত্তিক লিখে থাকেন যদিও এই সব বানান বাংলা একাডেমী দ্বারা অনুমোদিত নয় ।

বিশেষ্য-এর ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে তা হলো- ঈ-এর যায়গায় ই ব্যবহার করা । যেমন- বাঙালি, ইরানি, জাপানি ইত্যাদি । উচ্চারণ ভিত্তিক বানান এরকম হওয়া উচিৎ- বাঙালী, ইরানী, জাপানী

আমি নিজেও বানান বিভ্রাটের ঝড়ের সাথী । তবে আমি মনে করি এই ব্যাপারে বাংলা একাডেমীর দ্রুত ভূমিকা পালন করা উচিৎ ।

দুই বাংলার বাংলা একাডেমীর বানান পদ্ধতি দু’রকম যেটা সত্যিই হতাশা জনক । ঢাকা ও কোলকাতা বাংলা একাডেমীর সমঝোতার ভিত্তিতে দুই বাংলায় অভিন্ন বানান চালু করা উচিৎ । এবং অবশ্যই সেই বানান উচ্চারণ ভিত্তিক হতে হবে ।

এতো গেল বানানের কথা । সঠিক বানানের পাশাপাশি শুদ্ধ বাংলা বলাটাও জরুরি । যেমন- অনেক উচ্চ শিক্ষিত ব্যাক্তিদেরকেও অশুদ্ধ বাংলা বলতে দেখা যায় যেটা কোনো ভাবেই কাম্য নয় । আমি কয়েকটি দেশ ঘুরেছি কিন্তু শিক্ষিত ব্যাক্তিদের মধ্যে অশুদ্ধ ভাষায় কথা-বার্তা কোথাও দেখিনি । উচ্চ শিক্ষা অর্জন করার পর সবাই নিজেকে উন্নত ভাবে প্রকাশ করতে চায় আর এই ক্ষত্রে ভাষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । অশুদ্ধ ভাষা একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যাক্তির ভাবমূর্তিকে ম্লান করে দেয় । বাঙালির ভাষার প্রতি প্রেম উদাহরণ সৃষ্টি করেছে । ভাষার শুদ্ধতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশীদের উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে ।

শুদ্ধ ভাষা প্রচলন ব্যাপক করতে যা করনীয় তা হলো, এই বিষয়ে সরকারের কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে, যেমন- সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নির্ভুল শুদ্ধ বাংলায় ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলা বাধ্যতা মূলক করতে হবে । এবং বিদ্যালয় গুলোতে ভাষা সহ সার্বিক শিক্ষা কেমন হচ্ছে তা দেখতে নিয়মিত স্কুল পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে । (আমি বছরে এক বারের বেশি সরকারি পরিদর্শকদের স্কুল পরিদর্শন করতে দেখিনি) ।

আরো করনীয় হল- পরিক্ষায় শুদ্ধ বাংলা ভাষার বিশেষ মৌখিক পরিক্ষা চালু করতে হবে । এবং দেশের সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মী নিয়োগের সাক্ষাৎকারে শুদ্ধ বাংলা কে প্রাধান্য দিতে হবে ।

বাংলা হোক বিশ্বের জনপ্রিয় ভাষা । বাঙালির মুখের ভাষা হোক আরো সুন্দর ও শ্রুতি মধুর এই প্রত্যাশা নিয়ে ইতি টানছি । সবাই সুখে থাকুন, আপনাদের জীবণ ফুটন্ত ফুলের মতো ।