ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

মোদের গরব মোদের আশা

আ মরি বাংলা ভাষা

অনেকে গর্ব করে বলে থাকেন যে বাংলা অনেক বড় ভাষা কারন বিরাট বড় জনসংখ্যা এই ভাষায় কথা বলে । এই কারনে আমিও বাংলা ভাষা নিয়ে গর্ব করি । এবং সকল বাঙালির গর্ব করা উচিৎ ।

আপনারা যারা বিভিন্ন দেশের ওয়েব সাইট সার্চ করেন তাঁরা লক্ষ করে থাকবেন এরকম অনেক সাইট আছে যেই সাইট গুলির ভাষার অপশনে বাংলার নাম গন্ধও খুঁজে পাওয়া যায় না অথচ ইউরোপের ছোট ছোট ভাষা সেখানে থাকে । আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা ভাষার যেই মর্যাদা হওয়ার কথা ছিল বাঙালিরা তা করতে এখনও ব্যর্থ । বাংলা ভাষাকে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে যা করনীয় বাঙালিরা তার উল্টোটা করে । আপনার বাড়িটা তখনই দূর থেকে দেখা যাবে যদি আপনার বাড়িটা অনেক উঁচু হয় । দেশের ভেতরে যদি বাংলার অবস্থান শক্ত হয় তাহলে বিদেশেও বাংলার অবস্থান মজবুত হবে ।

আমাদের নেতারা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন নিয়ে স্লোগান দিলেও কার্যত বাংলা ভাষার প্রতি তাঁরা এতটুকু যত্নবান নন । যদি তা না হতো তাহলে যেই হিন্দুস্তানি ভাষার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে রফিক-জব্বাররা প্রাণ দিলো সেই হিন্দুস্তানি ভাষায় বাংলাদেশের মাটিতে কনসার্ট হতো না । (হিন্দুস্তানি ভাষা হিন্দী-উর্দূর অভিন্ন নাম) । জামাত-বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সব সরকারের নেতারাই উর্দূ বা হিন্দী ভাষায় অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়েছেন । কনসার্ট ছাড়া বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল গুলোতেও মাঝে মাঝে হিন্দী বা উর্দূ ভাষায় গান পরিবেশন করতে দেখা যায় । তার পর হিন্দুস্তানি সিনেমা, টিভি চ্যানেল ও সিডি-ডিভিডি তো আছেই । আমাদের নেতারা আবার এই দেশে বাংলার সামনে হিন্দুস্তানি ভাষাকে দাঁড় করিয়েছেন । আজ নিজের দেশেই বাংলাকে লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে । তখন তো জিন্নাহর দোষ দিয়েছেন এখন কাকে দোষারোপ করবেন ? এই রকম রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে কি আশা করা যায় ?

জীবিত নেতাদের মধ্যে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদকে ছাড়া আর কাউকে বাংলার পক্ষে দাঁড়াতে দেখা যায়নি । আমি তখন ছোট ছিলাম এরশাদ সরকার সকল অবাংলা সাইন বোর্ড নামিয়ে ফেলেছিল । সত্যি আমার কাছে এরশাদের বাংলা প্রেম খুব ভালো লেগেছিল । এরশাদ ক্ষমতায় এসে বাংলার জন্য অনেক কিছু করেছিলেন তা সব লিখতে গেলে পোস্ট অনেক বড় হয়ে যাবে । এরশাদের ক্ষমতা ছাড়ার পর বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং আবার বাংলা ভাষার কপাল পুড়ে । সেই আগের মতই বাংলাকে এক কোনায় বসিয়ে দিয়ে ইংরেজীর ব্যবহার শুরু হয়ে যায় । বিএনপি বিটিভি ওয়ার্ল্ডের শুরুতেও উর্দূ গান চালিয়েছিল ।
বঙ্গবন্ধুর পর এরশাদ, এই দুই নেতাকে ছাড়া আর কোনো নেতাকে বাংলা ভাষার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে দেখা যাননি । প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছুটা বাংলার জন্য কাজ করেছেন তবে মনে রাখতে হবে বর্তমান সরকারের আমলেও উর্দূ-হিন্দী বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি হুমকি হয়ে আছে । এরশাদ বর্তমান সরকারের অংশিদার হলেও তাঁর কররার মতো তেমন কোনো সুযোগ নেই সেটা সবারই জানা ।

যাই হোক, নেতাদের কথা লিখতে গিয়ে দলের নাম এসেছে । আমার উদ্দেশ্য বাংলা ভাষার উন্নতি, কোনো দলের বিরোধিতা নয় । নেতারা বাংলার পক্ষে কাজ করুক বা না করুক এই দেশের সচেতন নাগরিকরা বাংলা ভাষার জন্য অবশই কাজ করবেন এই প্রত্যাশা নিয়ে শেষ করছি ।