ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

বেশ কিছুদিন আগে যৌনকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত একটা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম । আমেরিকান দূতাবাসের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের যৌন কর্মীদের নানা সমস্যা তুলে ধরা হয় । সরকারি হিসেবে খোদ ঢাকাতেই প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার যৌনকর্মী আছে । এদের মাঝে ১ লাখ হল নারী যৌনকর্মী । বাকিরা শিশু ও হিজরা গোষ্ঠী । তবে বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যাটা আরও বেশি। এক জরিপে দেখা যায় যে সব যৌনকর্মী হোটেলে কাজ করে তাদের গড় বয়স ২২ বছর আর যেসব যৌনকর্মী ভাসমান তাদের গড় বয়স ২৬ বছর। বেশিরভাগ হোটেল যৌনকর্মীদেরই স্বামী বা স্থায়ী সঙ্গী আছে।বেশিরভাগ যৌনকর্মীরাই সন্তান নিতে অনাগ্রহী । কেননা সন্তান জন্ম দিলে তাদের যৌন ব্যবসায় তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে । কেউ সন্তান নিলেও একটির বেশি নিতে আগ্রহী না । যার কারণে যৌনকর্মীরা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে বেশ আগ্রহী ।জরিপে দেখা গেছে প্রায় শতকরা ৯৫ ভাগের বেশি যৌনকর্মীরা যৌন কাজে কনডম ব্যবহারে আগ্রহী। কারণ তারা জানে কনডম একই সাথে জন্ম নিয়ন্ত্রণও করে এবং এইডস থেকেও বাঁচায়। তবে কনডমের পাশাপাশি তারা খাওয়ার পিলও খায় । কেননা যৌন কাজ করার সময় বেশিরভাগক্ষেত্রেই কনডম ছিঁড়ে যায়। তবে বেশিরভাগ খদ্দেররাই যৌন কাজ করার সময় কনডম ব্যবহার করতে চায় না । এই কারণে কনডম ব্যবহার করার কারণে যৌন কর্মীদের মারধরও খেতে হয়। অনেক যৌনকর্মীর অভিযোগ তারা কনডম ব্যবহার করার কারণে তাদের খদ্দেররা অন্য যৌন কর্মীদের কাছে চলে গেছে।

এত গেল হোটেল আর ভাসমান যৌনকর্মীদের কথা । আমাদের দেশে কর্পোরেট ও আবাসিক যৌনকর্মীদের সংখ্যাটাও নেহায়েত কম নয় । তবে আবাসিক এবং কর্পোরেট যৌন কর্মীরা বেশিরভাগই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া । তাদের বেশিরভাগই আসে মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে । তাই তাদের সঠিক সংখ্যাটা জানা খুবই কষ্টের কাজ । তবে এদেশে যৌন কর্মীরা মানবেতর জীবন যাপন করে । পরিবার, সমাজ ,সংসার কিংবা ভালবাসার মানুষ । কারো কাছেই এদের মূল্য নেই । সব জায়গাতেই এরা উপেক্ষিত । সেমিনারে এই তথ্যটাই উঠে এসেছে বারবার । এমনকি মৃত্যুর পরেও এদের লাশ কবর দেয়া হয় গোপনে । অনেকের ক্ষেত্রে সেটাও জুটে না।