ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

বিশ্বায়নের এই যুগে ইংরেজি আমাদের শিখতেই হবে । আমি এতে দোষের কিছু দেখি না । কিন্তু বুকের ভেতর কষ্ট লাগে তখনই যখন দেখি আমার মায়ের ভাষা বাংলাকে কেউ অপমান করে কিংবা বাংলাদেশী হয়েও কেউ যখন নিজের দেশের ইতিহাস না জানে । ব্যক্তিগতভাবে বেশ কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। আজ সেগুলো নিয়েই আমার এই লেখা।

ঘটনা-১: কিছুদিন আগে একটা ব্যাংকের মৌখিক পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম । আমার আগে যে মেয়েটি ছিল তিনি স্বনামধন্য একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছেন । মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসা সবার সাথে তিনি ফটফট করে বাংলিশ উচ্চারণে কথা বলে চলেছেন(হালের এফএম বেতারের কল্যাণে এখন অনেকেই বাংলিশ উচ্চারণে কথা বলতে পছন্দ করে)। মৌখিক পরীক্ষায় মেয়েটির ডাক পড়ল । তাকে নাকি জিজ্ঞেস করা হয়েছিল “বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কবে?” মেয়েটির উত্তর ছিল “২১ শ ফেব্রুয়ারি”। মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর মেয়েটি লজ্জায় তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেল ।

ঘটনা-২: আমার এক বন্ধু ভাল গান গায় । পাশাপাশি সে একটা ছেলেকে গান শেখায় যে ঢাকার নামকরা একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ে । প্রথম দিন বন্ধুটি গান শেখাতে গিয়ে হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাবার মত অবস্থা । কারণ আমার বন্ধুর ছাত্রটি বাংলিশ উচ্চারণে গাচ্ছিল,”শুযযো ডয়ে টুমি,শুযাস্টেও টুমি,ও আমার বেংলাডেশ ফ্রিও জন্মবুমি”। আমার বন্ধুর অবস্থা তখন কাহিল । সে পরদিনই গান শেখানো বাদ দিল।

ঘটনা-৩: বাঙালি রীতিতে পহেলা বৈশাখ শুরু হয় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে । কিন্তু প্রত্যেকবারই পহেলা বৈশাখ আসলে আমার মেজাজ গরম হয়ে যায় যখন রাত ১২ টা বাজতেই সবাই নববর্ষের শুভেচ্ছা জানায় । মানুষ যখন একবার ভুল করে সেটা তখন ভুল থাকে কিন্তু বার বার ভুল করলে সেটা অভ্যাস হয়ে যায় । খুব খারাপ লাগে যখন কেউ পহেলা বৈশাখে খুদে বার্তা পাঠায় “হ্যাপি নিউ ইয়ার”।

আমি জানি না আমাদের গন্তব্য কোথায় । তবে আমি আশাবাদী । দিন বদলাবে । জাতি হিসেবে আমরা সচেতন হব । নিজেদের শেকড়কে আমরা ভুলে যাব না।