ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

তদন্ত পুলিশি কাজের প্রাণ। যে পুলিশ বিভাগ তদন্ত জানে না বা করে না, তারা পুলিশ নয়, অন্য কিছু । বড় জোর তারা পাহারাদার হতে পারে। এদের সাথে প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ডদের তেমন কোন পার্থক্য নেই ।

বলা বহুল্য, তদন্ত সব সময় একটি বিশেষ ধরণের পুলিশি কার্যক্রম। সবাইকে দিয়ে সঠিক তদন্ত হয় না। সঠিক ও মান সম্মত তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তার দরকার সংজ্ঞামূলক আইন( যেমন, দণ্ডবিধি) ও পদ্ধতিগত আইনের স্বচ্ছ জ্ঞান। তাকে উদ্ধার, গ্রেফতার, তল্লাশী, আলামত জব্দকরণ ও সংরক্ষণ এবং তা সঠিক সময়ে সঠিক উপায়ে আদালতে উপস্থাপন করার যাবতীয় বিধি ও পদ্ধতির উপর পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে হবে ।

নির্দেশ দিলে আমার কনস্টেবল অডার্লীটি আমাকে এক গ্লাস পানি সরবরাহ করতে পারে, বাজার থেকে একটা সুস্বাদু আনারস কিনে আনতে পারে। কিন্তু, আমার নির্দেশে আমার অঘা মার্কা সাব-ইন্সপেক্টর বা ইন্সপেক্টরটি তদন্তের মাধ্যমে কোন অজানা তথ্য বের করে আনতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

সঠিক তদন্ত পুলিশ অফিসারদের অভিজ্ঞতার ফসল। ছাত্র জীবনের সকল পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতার পদে অধিষ্ঠিত হলেই দক্ষ তদন্তকারী কর্মকর্তা হওয়া যায় না। অন্যদিকে, তদন্তকারী কর্মকর্তার পদবী নিয়ে আদালত উদ্বিগ্ন হলেও শুধু পদবী দিয়ে তদন্তের গুণাগুণ পরিমাপ করা যায় না। একজন সাব-ইন্সপেক্টরের চেয়ে একজন এএসপি বড় বেশি দক্ষ দতন্তকারী কর্মকর্তা হবেন — এমন কোন নিশ্চয়তা নেই।

তদন্ত একাধারে একটি বিজ্ঞান ও একটি কলাবিদ্যা । বিজ্ঞান তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে বাস্তবের সম্মিলনে পূর্ণ হয়। কিন্তু, কলাবিদ্যার জন্য একাগ্রচিত্তের অনুশীলন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে একজন পূর্বসূরী গুরুর দিক নির্দেশনায় দরকার পড়ে। বিজ্ঞান পঞ্চইন্দ্রীয়ের বাইরে যাওয়ার তাগিদ দেয় না। কিন্তু, তদন্ত মানুষের ষষ্ট ইন্দ্রীয়কে সক্রিয় হতে তাগিদ দেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তদন্তের ক্ষেত্রে মগজের সাথে তাই মনেরও সঞ্চালন করতে হয়।

তদন্ত দীর্ঘদিনে অনুশীলনের ফসল; কঠোর অধ্যবসায়ের প্রতিদান । তাই এই বছর পুলিশে যোগ দিয়ে, আগামী বছর ডিটেকটিভ গল্পের সার্লক হোমস হওয়া অসম্ভব। যারা অনুশীলন করেন না, তারা দক্ষ তদন্তকারী কর্মকর্তাও হতে পারেন না।

ইদানিং অনেকে আমজনতার মধ্যে এই ধারণা ঢুকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে পুলিশের কাজটি খুবই সহজ। রাস্তায় টহল দেওয়া থেকে শুরু করে ক্লুলেস বা সূত্রবিহীন হত্যা মামলার রহস্য যে কেউ উদ্ঘাটনে সক্ষম হতে পারে। একজন দক্ষ ব্যাংক ম্যানেজার দায়িত্ব পেলে রাতারাতি সিআইডি অফিসার বনে যেতে পারে। কিন্তু, এদের অনুসিদ্ধান্ত বড়ই অনুমান নির্ভর। তারা মনে করেন, তদন্ত করতে হলে একজন সরকারি কর্মচারি হতে হয়। ব্যাংকের ম্যানেজার একজন সরকারি কর্মচারি। অতএব, ব্যাংকের ম্যানেজার একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এই তদন্তকর্মের অতি সরলীকরণে ব্যস্ত এই সব তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের জন্য আমার একটি ছোট্ট কবিতা মনে পড়ে।

কুমারে ব্যবসা করে
কামার হইছে পাল,
নাপিতে দারোগা হইছে
কে চাঁচিবে বাল?

তাই বলি, সবাই পুলিশ হইলে ভবিষ্যতে চুল কাটিবার নাপিত পাওয়া দুষ্কর হইবে।