ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

পুলিশের ক্ষমতা, কর্তৃত্ব কাজের ধরণ এমনিই যে দায়িত্ব পালনের যে কোন পর্যায়েই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা যায়। আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করলেও পুলিশ অহরহ আইন ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। ঘুষগ্রহণ থেকে শুরু করে পুলিশের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ, ক্ষমতার অপব্যবহার, রুক্ষতা, রূঢ়তা এমনকি সাধারণ মানের ফৌজদারি অপরাধ যেমন, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, মাদক ব্যবসা ইত্যাদির অভিযোগে উত্থাপিত হয়। এই সব অভিযোগের সবই মিথ্যাও নয়, সত্যও নয়।

পুলিশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গ্রহণ, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা পুলিশ বিভাগের একটি অন্যতম অগ্রাধিকার খাত। দুর্বল বা শক্তিশালী হোক, বিভাগীয় বা বহির্বিভাগীয় হোক, প্রত্যেক পুলিশ বিভাগেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ খতিয়ে দেখার জন্য পৃথক ইউনিট বা বিভাগ থাকে।

লন্ডন মেট্রোপলিটনসহ ইংল্যান্ড ওয়েলসের পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগসমূহ অনুসন্ধান করে তার ভিত্তিতে আইনগন ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিস করার জন্য ব্রিটেনের পুলিশ সংস্কার আইন-২০০২ এর আ্‌ওতায় ২০০৪ সালে একটি স্বাধীন পুলিশ অভিযোগ কমিশন’ (আইপিসিসি) গঠন করা হয়[1]। এই কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কেউই পুলিশ সদস্য নয়। কিন্তু পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আনিত যে কোন অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে এই কমিশনের সদস্যরা নিয়মিত পুলিশ অফিসারদের সকল ক্ষমতাই প্রয়োগ করতে পারে।

২০০৪/০৫ সালে অর্থাৎ কমিশন গঠনের প্রথম বছর পুলিশের বিরুদ্ধে সর্বমোট অভিযোগ জমা পড়েছিল ২২,৮৯৮ টি। ২০০৯/১০ সালে ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৩৩,৮৫৪ টি। গত বছর, মানে ২০১০/১১ সালে এই সংখ্যা কিঞ্চিত কমে হয়েছিল ৩৩,০৯৯টি। এখানে প্রতি এক হাজার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গড়ে ২২৫টি অভিযোগ জমা পড়ে[2]।

ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে কোন নাগরিক সরাসরি আইপিসিসি অফিসে অভিযোগ জমা দিতে পারেন। অন্যদিকে পুলিশের বিভিন্ন অফিসে‌ও তারা তাদের অভিযোগ জানাতে পারেন। পুলিশ বিভাগ নাগরিকদের অভিযোগ সমূহ সাধারণত আইপিসিসি এর নিকট প্রেরণ করে। আইপিসিসি প্রাপ্ত অভিযোগের সিংহভাগই আবার স্থানীয় পুলিশকে দিয়েই অনুসন্ধান করায়।

কোন অভিযোগ প্রাপ্তির পর আইপিসিসি চার ধরণের পন্থা অবলম্বন করে[3]।

প্রথমত, একজন কমিশনারের অধীন কমিশনের নিজস্ব তদন্তকারী কর্মকর্তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই তদন্তকার্য চালাতে পারেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ তদন্তকারী কমিশন কর্মকর্তাকে সকল প্রকার তথ্যাবলী প্রদান ‌ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে।

দ্বিতীয় পন্থায়, এই সব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগের শৃঙ্খলা ইউনিটই তদন্ত পরিচালনা করে। কিন্তু এর নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হাতেই থাকে।

তৃতীয় পন্থায় স্থানীয় পুলিশ বিভাগ নিজেদের দায়িত্বেই তদন্ত কার্য পরিচালনা করে। কিন্তু কমিশন থেকে তদন্তের ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা দেয়, কিছু শর্ত বা কর্মপন্থা স্থির করে দেয়। স্থানীয় পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনের নিকট প্রেরণ করে।

চতুর্থ শ্রেণির অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে যাবতীয় ব্যবস্থা স্থানীয় পুলিশই গ্রহণ করে। এখানে কমিশন তেমন হস্তক্ষেপ করে না।

বলাবাহুল্য, যে সকল অভিযোগের তদন্ত কমিশন নিজে করে না সেই সব অভিযোগের তদন্ত সম্পর্কে অভিযোগকারীর কোন আপত্তি থাকলে তারা কমিশনের কাছে সেই তদন্তের বিরুদ্ধে আপীল করতে পারে।

আইন, বিধি ও কর্মপদ্ধতি অনুসারে কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পুলিশ বিভাগগুলো বলতে গেলে সম্পূণ স্বাধীন| কিন্তু তাই বলে পুলিশ যাচেছতাই করতে পারে না। স্বাধীন পুলিশের সম্ভাব্য স্বেচ্ছাচারিতার মুখে লাগাম পরানোর জন্য ব্রিটিশ জনগণ পুলিশের উপর নজরদারির জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অনুসন্ধান করতঃ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের শুপারিস করার ব্যবস্থা এই নাগরিক নজরদারির অন্যতম।

সূত্র:
[1] http://www.ipcc.gov.uk/en/Pages/default.aspx as on 28 July, 2012 at 05:00 hours.
[2] http://www.ipcc.gov.uk/en/Pages/stats.aspx as on 28 July, 2012 at 05:00 hours.
[3] http://en.wikipedia.org/wiki/Independent_Police_Complaints_Commission ; as on 28 July, 2012 at 05:30 hours