ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

ইটালীর ভেরোনা শহরের ক্যাপুলেট পরিবারের মেয়ে জুলিয়েট যুবক রোমীওর প্রেমে মশগুল। দিনে-রাতে, গোপনে-চোপনে চলে তাদের প্রেমের খেলা, আড়ালে-আবডালে চলে অভিষেক। কিন্তু জুলিয়েট হটাৎ করে আবিষ্কার করে তার প্রেমিক রোমিও মন্টেগু পরিবারের সদস্য। ভেরোনার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পরিবার মন্টেগু ও ক্যাপুলেট। রোমিও জুলিয়েটের প্রেমের কাহিনী জানাজানি হলে দুই পরিবারের কেউই তাদের প্রেম মেনে নিবে না। তাই কিশোরী জুলিয়েট রোমিওকে ভবিষ্যতে না পাওয়ার দুশ্চিন্তায় পাগলপ্রায়। স্বগোক্তিতে সে কামনা করে রোমিও ক্যাপুলেট না হয়ে মন্টেগু হল কেন? কেনই বা তার নাম মন্টেগু। রোমিও কি তার আত্মীয়দের অস্বীকার করে মন্টেগু নামটি পরিত্যাগ পূর্বক ক্যাপুলেট হতে পারে না; কিংবা হতে পারে না সম্পূর্ণ নামহীন কোন আদম সন্তান? অথবা রোমিও আমার প্রেমের নামে শপথ করুক। আমিই ক্যাপুলেট ত্যাগ করে মন্টেগু হব।

জুলিয়েটের সেই আবেদনভরা স্বগোক্তি বিশ্বসাহিত্যের এক অমর বাণী। জুলিয়েটের ভাষায়—

“What’s in a name? That which we call a rose
By any other name would smell as sweet.”

নামে কি আসে যায়? গোলাপকে যে নামেই ডাকি না কেন, সে একই রকম সুগন্ধ ছড়াবে।

কিন্তু কিন্তু ফুলের নাম আর মানুষের নামের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। ফুলি নিজের নাম নিজে রাখতে পারে না। কোন মানুষই তার একটি নাম দেয়। আর মানুষের নামের বাস্তবতা একটি ব্যাপক বিষয়; একটি অলঙ্ঘণীয় রীতি। নামে অনেক কিছুই এসে যায়। নাম ছাড়া কোন কিছুই হয় না; হতে পারে না। পৃথিবী স্বয়ং একটি গ্রহের নাম। পৃথিবী পৃষ্ঠের সব কিছুই ভিন্ন ভিন্ন নাম নিয়েই অস্তিত্ববান হয়।

সৃষ্ট জগতের সব কিছুই নাম দিয়েই শুরু, নাম দিয়েই শেষ হয়। পবিত্র কোরআনের প্রথম পাঠ আল্লাহ তার রাসুলকে দিয়েছিলেন এভাবেঃ

‘পড় তোমার প্রভূর নামে। যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন’।

পবিত্র কোরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াতের সুদূর প্রসারী অর্থ হল, বলতে-চলতে-পড়তে-শিখতে – সবখানেই মানুষসহ সকল বস্তুর এক একটি নামের প্রয়োজন। যার কোন নাম নাই, তার কোন দাম নাই। প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিতগণ আমাদের হাতের চারটি আঙ্গুলের নাম দিতে পারলেও একটি আঙ্গুলের নাম দিতে পারেন নাই। কিন্তু কালক্রমে এটার নামও হয়ে গেল ‘অনামিকা’। ইংরেজগণ একে বলেন, রিং ফিংগার বা আংটি পরার জন্য নির্ধারিত আঙ্গুল।

মানুষের নাম তার ভাষা, জাতি, ধর্ম, গোত্র, বর্ণ, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা মাত্রা বহন করে। শুধু নামের মাধ্যমেই একজন মানুষকে অন্যজন থেকে, এক জাতিকে অন্য জাতি থেকে, এক ধর্মের মানুষকে অন্য ধর্মের মানুষ থেকে পৃথক করা যায়। তাই নাম যেমন ঐক্য সৃষ্টি করে, তেমনি বিভেদও সৃষ্টি করে।

মানুষের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নামের সূত্র ধরেই উদ্ঘাটন করা যায়। কিন্তু অনেকে মানুষের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়টাকে ধর্মের আড়ালে ঢেকে দিতে চায়। বাংগালী মুসলমানগণ তাদের আরর ভাইদের অনুকরণে নবজাতকদের এমন সব নাম রাখেন যেগুলোর অর্থ বড়ই বিদঘুটে। এমনকি এই সব ক্ষেত্রে স্বয়ং মহানবী(সা) পর্যন্ত নিষেধ করেছেন।

অনেক মেয়েদের নাম ‘আছিয়া’ বলতে শুনেছি। ‘আছিয়া’ শব্দের অর্থ হল ‘পাপীয়ষী’। কারো নাম ‘পূণ্যবান’ বা ‘পূণ্যবতী’ রাখা যেতে পারে। কিন্তু তার নাম ‘পাপী’ রাখা হবে – এমনটি কেউ আশা করে না। উল্লেখ্য ‘আছিয়া’ নামটি ছিল ফেরাউনের স্ত্রী যিনি আমাদের নবী হযরত মূছা(আ) কে নদী থেকে তুলে এনে খোদ ফেরাউনের প্রাসাদেই লালন পালন করেছিলেন। তাই, হযরত মূছা(আ) এর পালিত মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনেকে তাদের আদোরের মেয়েটির নাম ‘আছিয়া’ রাখেন। কিন্তু এই নামের সানে নুজুল যাই থাক এর অর্থই বলে দেয়, বাচ্চাদের এই নামে ডাকা উচিৎ নয়।

মধ্য প্রাচ্যের আরবী বা মুসলিম নামগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বিদঘুটে অর্থ প্রকাশ করে। অনেক ক্ষেত্রে এই সব নামের পিছনে হাস্যরসের ঐতিহাসিক কাহিনী থাকে। যেমন, আবু হুরাইরা। এই নামটি একজন বিখ্যাত সাহাবীর। কিন্তু এটি তার পিতৃপ্রদত্ত নাম নয়। এই সাহাবির বিড়াল খুব পছন্দ ছিল। তিনি প্রায় তার চাদরের নিচে তার পোষা বিড়ালটি রাখতেন। তাকে আদোর করতেন। তার বাড়াবাড়ি রকমের বিড়াল প্রীতির প্রতি কটাক্ষ করেই মহানবী(স) তাকে বলতেন, ‘আবু হুরাইরা’ বা বিড়ালের বাপ। এই সাবাহীর ওফাতের পর আরবগণ তাদের আর কোন সন্তানের নাম হুরাইরা রেখেছিলেন কিনা, তা রীতিমত গবেষণার বিষয়। কিন্তু আমাদের বাংগালী মুসলমানগণ এখনও তাদের আদরের সন্তানদের নাম রাখেন আবু হুরাইরা বা বিড়ালের বাপ।

প্রত্যেক জাতি বা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর নামের বিন্যাসে পৃথক পৃথক ঢঙ বা স্টাইল থাকে। যেমন অনেক জাতি তাদের নামের সাথে তার নানার নামটি জুড়ে দেয়, কেউ বা নামের সাথে তার বাপের নামটি জুড়ে দেয়। কোন কোন জাতির লোক বিবাহের পরে তার পিতৃপ্রদত্ব নামটি চিরতরে জলাঞ্জলি দিয়ে তার নামের সাথে স্বামীর বা স্বামীর পরিবারের নামটি জুড়ে দেয়। এটা খ্রীস্টান বা ইংরেজদের মধ্যে দেখা যায়। যেমন, ইংরেজদের স্ত্রীগণের নাম বাদ দিয়ে বলা হয় মিসেস গর্ডন বা মিসেস ইউলিয়াম। এই অনুকরণ ইদানিং ভারতীয় সমাজেও প্রবেশ করেছে।

আরব সন্তানদের নামের সাথে প্রায় ক্ষেত্রে তাদের গোত্র বা পিতার নাম জড়িত থাকে। যেমন আবু। আবুল হাসেম অর্থ হল হাসেমের পিতা। আবুল কাসেম মানে হল কাসেমের পিতা। আমাদের দেশেও বৃদ্ধ লোকদের আমরা নাম ধরে না ডেকে বলি, ছলিমের বাপ কিংবা রহিমার মা। এমনকি ভোটার আইডি কার্ডেও এমন নাম বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু যখন কোন নব জাতকের নাম রাখা হয় আবুল হাসেম, তখন এটা বড়ই হাস্যকর হয়। এক মাস বয়সের বাচ্চার নাম হল হাসেমের পিতা। যে আরবদের অনুকরণে আমরা এই বিদঘুটে নাম রাখি, সেই আরবগণ এটা জেনে নিশ্চয়ই বড় মজা পায়?

বাঙালির মুসলমানগণ তাদের সন্তানদের নাম আরবিতে রাখতেই পছন্দ করেন। অনেকে এটা বড় পূণ্যের কাজ বলেও মনে করে। কেউ কেউ নব জাতকের নাম রাখার জন্য স্থানীয় পীর-ফকিরের শরণাপন্ন হয়। পীর-ফকিরগণ তাদের মতের অনুরূপ একটা কিছু নাম দিয়ে তাদের মুরিদানদের তুষ্ট করে। কিন্তু অনেক আরবী নামের বাংলা অর্থ করলে তা কোন পশু পাখির নাম হয়ে যায়। যেমন, আমাদের দেশের বহুল পরিচিত নাম হল ‘জামাল’ বা ‘আবু জামাল’। এর অর্থ কী? আরবী ‘জামাল’ শব্দের অর্থ হল উঁট। আর ‘আবু জামাল’ মানে হল ‘উটের বাপ’। আরে ভাই, উট বা উটের পিতা কি কারো নাম হতে পারে?

মহানবী বলেছেন, বাচ্চাদের সুন্দর সুন্দর নাম রাখ। তিনি তো বাচ্চাদের নাম আরবিতে রাখতে বলেন নাই। সেই ক্ষেত্রে কারো নাম যদি আরবিতে হয় ‘নূর’, তাহলে তা বাংলায় হবে ‘আলো’। এখন ‘নূর’ নামটি গ্রহণযোগ্য হলে ‘আলো’ নামটি কি কারণে অগ্রহণযোগ্য হবে তা আমার মাথা ঢোকে না।

আমাদের ভারতীয় মুসলমানগণ বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদের নামের প্রথমেই ‘মোহাম্মদ’ শব্দটি জুড়ে দেওয়া থাকে। কোথাও কারো নাম বলার বা লেখার প্রয়োজন হলে শুধু বলুন, আপনার নাম ‘করিম’। লেখক আপনার নামটি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে লিখে নিবেন ‘মোঃ আব্দুল করিম’। আপনার নাম বলুন ‘কামাল’, লেখা হবে ‘মোঃ কামাল’। ভারত উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলা ভিন্ন অন্য কোথাও নামের পূর্বে ‘মোহাম্মদ’ বা শেষে ‘আহম্মদ’ যোগ করার কোন স্বয়ংক্রিয় রীতি নেই। আরব শেখদের খেতাবে কমপক্ষে এক ডজন নাম থাকে। এই নামের সাথে তাদের কয়েক পুরুষের নামও যোগ করা হয়। কিন্তু কোন শেখের নামের সাথে ‘মোহাম্মদ’ যুক্ত নেই।

বঙ্গ-ভারতের মুসলমানদের নামের শুরুতে ‘মোহাম্মদ’ যুক্ত করার রীতিটির প্রচলনও সম্ভবত হিন্দুদের থেকে নিজেদের কিছুটা পৃথক করা এবং কিছুটা হিন্দুদের রীতিকে ধারণ করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। কারো নামের সাথে ‘মোহাম্মদ’ যুক্ত থাকলে বোঝা যাবে সে হিন্দু নয়। অন্য দিকে হিন্দুদের নামের আগে ‘শ্রী’ শব্দটি যুক্ত থাকে। এই ‘শ্রী’ শব্দের অনুকরণে মুসলমানগণও তাদের নামের সাথে ‘মোহাম্মদ’ যুক্ত করেন।

তবে নামের আগে ‘মোহাম্মদ’ যুক্ত করার শানেনুজুল যাই হোক না কেন বর্তমানে নামের আগের ‘মোহাম্মদ’ উপসর্গটি পাশ্চাত্য জগতে মুসলমানদের, বিশেষ করে ভারতীয় মুসলমানদের বড়ই ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। মার্কিন প্রশাসনের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ দমনের চলমান যুদ্ধে ‘মোহাম্মদ’ নামটি বড় পরিচিত। ‘মোহাম্মদ’ নাম মানেই হল মুসলমান। আর মুসলমান মানেই মার্কিন প্রশাসনের কাছে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী। তাই নামে আগে ‘মোহাম্মদ’ থাকলে তিনি যেমন সহজেই পাশ্চাত্য দেশের ভিসা পান না, তেমনি পাশ্চাত্যের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সীমা পার হতেও তিনি অনাকাঙ্খিত বিড়ম্বনায় পড়েন।

অনেকেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে মহাপুরুষদের নাম ধার করে তার সন্তানদের নামকরণ করে থাকেন। এটা অবশ্য সব সংস্কৃতিতেই লক্ষ্য করা যায়। তবে অনেকে ঐতিহাসিক পুরুষদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারেন না। যেমন, আমাদের দেশে অনেক ব্যক্তির নাম ‘হিটলার’ রয়েছে। হিটলার হল জার্মান শ্রেষ্ঠত্ববাদী যুদ্ধবাজ নেতা যার বদলৌতে বিশ্ববাসী সর্বগ্রাসী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকায় পতিত হয়েছিল। এই পৃথিবীতে আর কেউ হিটলার হোক, তা সম্ভবত হিটলারের স্বজাতি জার্মানরাও কামনা করে না।

তবে মহাপুরুষকে অনুকরণ করতে গিয়ে নিজেদের সন্তানের মহাপুরুষ হবার পথটি যেন রুদ্ধ করা না হয়। যেমন, রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল আমাদের বাংলা সাহিত্যের দুই দিকপাল। তাদের নামের অনুকরণে আমরা আমাদের সন্তানদের নাম রবীন্দ্রনাথ বা নজরুল রাখতে পারি। কিন্তু আমাদের বাচ্চারা যদি সত্যিই সত্যিই সাহিত্যে অবদান রাখতে শুরু করে তাবে রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের সাথে তাদের নামীয় সংঘর্ষ হবে। নজরুলকে অনুসরণ করতে গিয়ে আমরা যদি আর একজন নজরুলই জন্ম দেই তাহলে আমাদের সাহিত্যের অগ্রগতি কোথায়? তাই ভিন্ন ভিন্ন নামেই মহাপুরুষের জন্ম হওয়া ভাল।

অন্য বিবেচনায় বলা যায় নামের কারণে স্বপ্নের মহাপুরুষের নামটিও ভুলুণ্ঠিত হতে পারে। সক্রেটিস নামের সন্তানটি যদি গণ্ডমূর্খ হয় কিংবা তেরেসা নামটি যদি অত্যাচারী শাশুড়ির হয়, তাহলে এই নাম দুটির মর্যাদা রক্ষা হয় না।

কোন এক সময় বাঙালিরা ব্রিটিশদের দরবারে চাকরি পেত না। তবে অনেক শিক্ষিত বাংগালী আইনজীবী হবার স্বপ্ন দেখত। যারা এই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন, তারা বেঁচেই গেছেন। মানুষ তাকে হয়, উকিল নয়তো মোক্তার নামে ডাকে। কিন্তু যারা এটা হতে পারেননি তারা তাদের সন্তানদের নাম রাখতেন উকিল বা মোক্তার। বাংলার গ্রামাঞ্চলে এখনও উকিল মোক্তার নামের ছড়াছড়ি।

বাঙগালির নামের বাহার নিয়ে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা না বললেই নয়। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে পদোন্নতি পেয়ে ২০০৬ সালের আগস্টে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিয়েছি মাগুরা জেলায়। একদিন সন্ধ্যারাতে থানার টহল গাড়ির অফিসার থানার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বার্তা দিচ্ছে,

অফিসারঃ কিলো-ওয়ান ফর ইকো ওয়ান, ওভার।

থানা কন্ট্রোলঃ ইকো-ওয়ান, সেন্ট ওভার।

অফিসারঃ কিলো-ওয়ান, ডিসিকে ৫০ পুরিয়া গাঁজাসহ এই মাত্র গ্রেফতার করলাম।

থানা কন্ট্রোলঃ ইকো-ওয়ান, রিসিভ। ধন্যবাদ।

এই মুহূর্তে পুলিশ সুপার জনাব লুৎফর রহমান মিয়া কথোপকথনের মধ্যে ঢুকে পড়লেন।

পুলিশ সুপারঃ ইকো-ওয়ান, ডিসিকে গাঁজাসহ গ্রেফতারের আজব সংবাদটির মানে বুঝলাম না।

অফিসারঃ কিলো-ওয়ান ফর আলফা ডেল্টা-ওয়ান, স্যার, ডিসি মাগুরার পারনানদুয়ালী এলাকার একজন মাদক ব্যবসায়ীর নাম।

পুলিশ সুপারঃ বুঝলাম। তো ডিসি সাহেব যখন ধরলেন, এসপি সাহেব তখন বাইরে থাকবেন কেন?

অফিসারঃ স্যার, আর এক ভাইয়ের নাম এসপি। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সুপারঃ ভাল! ডিসি-এসপিরাও যখন মাদক ব্যবসা শুরু করেছে, তখন আর থাকল কী?

এক শ্রেণির বাঙগালি কোন প্রকার বাছ বিচার ছাড়াই হুজুগের বসে তাদের সন্তানের একটি যেনতেন নাম দিয়ে বসেন। এদের মধ্যে কিছু আছে বড় আকারের অর্থপ্রেমিক। তাদের কাছে বিদেশি মূদ্রা পরম পূজণীয়। এই ক্ষেত্রে শীর্ষে আছে মার্কিন মূদ্রা ডলার। রাস্তার সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে অনেক নেতা-খেতার নামও ডলার। এর পর আছে ইয়েন, লিরা, দিনার ইত্যাদি। আমার পরিচিত এক সরকারি কর্মকর্তার ছেলেটির নাম ইয়েন আর মেয়েটির নাম লিরা। কারণ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে জাপান আর ইটালির প্রতিই বেশি অনুরক্ত।

পরিশেষে বলব, বাঙগালি নবজাতকের নাম বাংলায় রাখুন। যদি মনে করেন আপনার ধর্মীয় পরিচিতি রক্ষা করতে হবে তাহলে আরবী নাম বাংলা নামের সাথে যুক্ত করা যেতে পারে। ফুল, পাখি, নদী, সাগর, ঝর্ণা, তরু-লতা, বৃক্ষরাজি, পর্বতমালা, আকাশ, বাতাস সব কিছুই মানুষের নামের উপযোগী হতে পারে। কিন্তু সব অবস্থাতেই নব জাতকের সুন্দর সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখুন। নাম যে কোন ভাষার শব্দের সমন্বয় হতে পারে। কিন্তু তা যেন সুন্দর হয়। যদি কীটস বলেন, ‘একটি সুন্দর বস্তু চিরকালই আনন্দদায়ক’; আমি বলব, ‘একটি সুন্দর নাম সর্বত্রই সৌন্দর্য্যবর্ধক’।

বিঃদ্রঃ জনাব আরিফ এর পোস্ট http://blog.bdnews24.com/arif151/119042 এর প্রতিক্রিয়ায় লিখিত।