ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকাণ্ড ও সেবাদান প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্ট বাঙালিরা প্রায়শই নিজ দেশের পুলিশকে অন্যান্য দেশের পুলিশের সাথে তুলনা করে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ বিদেশের পুলিশকে অপার্থিব গুণাবলীতে ভূষিত করে নিজ বাংলাদেশ পুলিশকে অসুরের স্তরে নামিয়ে আত্মতুষ্টিও লাভ করেন।

এমন এক দিন ছিল যখন কতিপয় সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও সরকারি কার্মকর্তারা ছাড়া দেশের আমজনতা বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পেত না। কিন্তু বর্তমানে বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার বিস্তৃত হওয়ায় ও অগণিত ছাত্র-ছাত্রী বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়ায় দেশের নাগরিকদের একটি বড় অংশ বিদেশ ভ্রমণ ও পরদেশে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন।

বিদেশে যাতায়াত বা বসবাসের ফলে তারা বিদেশের অনেক কিছুর সাথে বাংলাদেশের তুলনা করতে শিখেছে। এ সবরে মধ্যে পুলিশ পরিসেবার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। কারণ, বিদেশ ভ্রমণ বা বিদেশে বসবাস একটি আইনী প্রক্রিয়া। এই আইন প্রয়োগ করে পুলিশ।

দেশ ত্যাগের সময় কোন বিদেশগামী বাঙালি যে মানুষটির সাথে সর্বশেষ দেখা বা আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য হন, তিনি এক একজন পুলিশ অফিসার। অন্যদিেক বিদেশের মাটিতে পা দিয়েই প্রত্যেক প্রবাসী যার মুখোমুখি হন তিনিও একজন পুলিশ অফিসার।

এমতাবস্থায়, এই দুই দেশের দুই আদমের মধ্যে মানুষ নিজেদের অজান্তেই তুলনা করে বসেন। আর তুলনা করতে গিয়ে নিজ দেশের পুলিশকে তারা যখন বিদেশের পুলিশের উপরে স্থান দিতে পারেন না, তখন তাদের অবচেতন মন একটি কষ্টকর গূঢ়ৈষায় (Complex) পতিত হয়। বিদেশের মাটিতে গিয়ে বাংলাদেশ পুলিশকে নিন্দা করার এই প্রবণতা, আমি মনে করি, প্রবাসীদের এই মনস্তত্ত্বেরই বহিঃপ্রকাশ।

কিন্তু বাস্তবতা হল, প্রাত্যহিক জীবনে একজন সাধারণ মানুষ যতই পুলিশ-নির্ভর হন না কেন, পুলিশ সম্পর্কে তারা খুব কমই জানেন। এটা নিজ দেশের পুলিশের জন্য যদি সত্য হয়, তাহলে, বিদেশের পুলিশের জন্য আরো বেশি সত্য। কারণ, পুলিশী প্রক্রিয়ার মারপ্যাঁচে না পড়লে পুলিশের ভিতরের খবর জানার উপায় নেই। আমার এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য হল, পৃথিবীর কয়েকটি দেশের পুলিশ ব্যবস্থা সম্পর্কে পাঠকদের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া যাতে তারা বাংলাদেশ পুলিশকে অন্য দেশের পুলিশের সাথে তুলনা করার সময় অধিকতর বস্তুনিষ্ঠ হতে পারে।

জাপানের পুলিশ-ব্যবস্থা[1]

জাপানের পুলিশ-ব্যবস্থা সম্পূর্ণ কেন্দ্রীভূত। জাতীয় পুলিশ এজেন্সি বা এনপিএ এর ২,৯১,৪৭৫ জন সদস্যের পুলিশ বাহিনীর পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে। জাপানের পুলিশকে দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করার জন্য পুলিশের তত্ত্বাবধানের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের হাতে। এই কমিশন স্বরাষ্ট্র দফতরের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করলেও এটা মন্ত্রীর আজ্ঞাধীন নয়। এমনকি জাপানের প্রধান মন্ত্রীও এই কমিশনকে কোন নির্দেশ দিতে পারে না।

জাতীয় পুলিশ বাহিনীর অধীন জাপানের প্রত্যেকটি অংগরাজ্য বা প্রিফেকটারে রয়েছে পৃথক পুলিশ ইউনিট। এটাকে বলা হয় প্রিফেকচারাল পুলিশ এজেন্সি। প্রিফেকচারাল পুলিরশ এসেন্সির মোট সংখ্যা হল ৪৩ টি।

জাপনানের রাজধানীর জন্য রয়েছে পৃথক পুলিশ ইউনিট । এর নাম হর টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ। টোকিও পুলিশ প্রধান হলেন জাপানের জাতীয় পুলিশের দ্বিতীয় ব্যক্তি। এ ছাড়া্‌ও জাপানের ওসাকা, কিয়োটো ও হোক্কাইডো এলাকার জন্য পৃথক পুলিশ ইউনিট রয়েছে।

জার্মানির পুলিশ-ব্যবস্থা[2]

জার্মানীর পুলিশ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো রাজ্য ভিত্তিক। হিটলারের সময় একটি কেন্ত্রীয় পুলিশ বাহিনী ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জার্মানী দ্বিভাজিত হরে পশ্চিম জার্মানী আবার রাষ্ট্রীয় পুলিশ ব্যবস্থায় ফিরে যায়। অন্যদিকে পূর্ব জার্মানী কেন্দ্রীয় পুলিশ ব্যবস্থায় থেকে যায়। কিন্তু দুই জার্মানী পূনরায় একত্রিত হলে বর্তমান জার্মানী পশ্চিম জার্মানীর মতো রাষ্ট্রীয় পুলিশ ব্যবস্থা অব্যহত রাখে। জার্মানীর ১৬ রাজ্যের প্রত্যেকটির জন্য পৃথক পৃথক পুলিশ বাহিনী রয়েছে যাদের বলা হয় Landespolizei । এরা পৃথক পৃথক আইন দিয়ে চলে।

তবে বর্ডার রক্ষার এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধের তদন্তকার্য পরিচালনার জন্য ফেডারেল পুলিশ সংগঠন রয়েছে[3]। অপরাধ তদন্তের জন্য ফেডারেল পুলিশের জার্মান ভাষার নাম হল Bundeskriminalamt যার সংক্ষিপ্তরূপ হল বিকেএ। ইংরেজিতে এর নাম ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ। এরা আন্তঃরাষ্ট্রীয় কিছু অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি নিয়ে বাছাই করা ক্ষেত্রসমূহে কর্তব্য পালন করে। বিকেএ এর সদস্য সংখ্যা মাত্র -৫,২০০ জন।

জার্মানীতে কিছু কিছু মিউনিসিপ্যাল পুলিশের অস্তিত্ব রয়েছে। তবে এরা রাষ্ট্রীয় বা ফেডারেল পুলিশের মতো সাধারণ পুলিশি ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী নয়। কেবলমাত্র পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যালিটি আইনে নির্দেশিত অপরাধ সমূহ প্রতিরোধ বা এসব অপরাধ ভঙ্গের দায়ে জরিমানা জাতীয় দায়িত্ব তারা পালন করতে পারে। গ্রেফতারের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা অন্যান্য সাধারণ মানুষকে প্রদত্ব আইনী ক্ষমতার চেয়ে বেশি কিছু নয়। বড় ধরণের কোন অপরাধ সংঘটিত হলে বা গ্রেফতারের প্রয়োজন হলে তারা রাষ্ট্রীয় পুলিশ সংগঠনের কাছে তা হস্তান্তর করে।

জার্মানীর মিউনিখ শহর হল বেভারিয়া রাষ্ট্রের রাজধানী। এই শহরের জন্য একটি বিশেষ পুলিশ বিভাগ রয়েছে যাকে জার্মান ভাষায় বলে Polizeipräsidium München –। বা মিউনিখ পুলিশ[4]। মিউনিখ পুলিশ হল বেভারিয়া রাষ্ট্র পুলিশেরই একটি বিভাগমাত্র। এটাকে বাংলাদেশের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাতে তুলনা করা যায়। এর সদস্য সংখ্যা মাত্র ৭,১০০ জন।

ফরাসী পুলিশ-ব্যবস্থা[5]

ফ্রান্সের পুলিশ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ জাতীয় ভিত্তিক। এখানে সারা দেশে অধীক্ষেত্র সম্পন্ন দুইটি পৃথক পুলিশ বাহিনী রয়েছে। এদের একটি সম্পূর্ণ বেসামরিক যাকে বলা হয় জাতীয় পুলিশ বাহিনী বা পুলিশ ন্যাশনাল। ২০০৮ সালের হিসেব মতে এই বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ১,৪৫,৬৯৯ জন। এর অধীক্ষেত্র হয় বড় বড় শহরগুলোতে। প্যারিস ফ্রান্সের রাজধানী এবং সবচেয়ে বড় শহর। স্বাভাবিকভাবেই প্যারিসের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা তথা পুলিশী কার্যক্রমের দায়িত্ব পড়ে পুলিশ ন্যাশনালের উপর।

অন্য দিকে ফ্রান্সের পুলিশ ব্যবস্থার সবচেয়ে বনেদি সংগঠন হল জাতীয় জেন্ডামারী। এই পুলিশ হল ফ্রান্সের সশস্ত্রবাহিনীর অংশ। ২০০৭ সালের হিসেব মতে এই বাহিনীর সর্বমোট সদস্য সংখ্যা ১,০৫,৯৭৫ জন[6]। যদিও বর্তমানে এই পুলিশ বাহিনী ¯^ivóª মন্ত্রণালয়ের ( মিনিস্ট্রি অব ইন্টেরিয়র) অধীনে কাজ করছে, তবু্‌ও এর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ হয় সশস্ত্রবাহিনী থেকেই। এই জেন্ডামারির অধীক্ষেত্র হল ছোট ছোট শহর, গ্রামাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকাসমূহ।

ইটালির পুলিশ-ব্যবস্থা[7]

ইটালির পুলিশ-ব্যবস্থা কেন্দ্রীভূত ও বহুধা বিভক্ত। ফ্রান্স তথা নেপলিয়নিক ব্যবস্থার মতো এখানে সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত পুলিশের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। ১৯৮১ সালের পূর্বে এই দেশের সব পুলিশিই সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রিত ছিল।

ইটালিতে সমগ্র দেশে অধিক্ষেত্র সম্পন্ন প্রায় ৮ টি পৃথক পুলিশ বাহিনী রয়েছে। সকর বাহিনী মিলে ইটালির পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ৩,২৪,৩৩৯ জন। জনসংখ্যা অনুপাতে ইটালির পুলিশের সদস্য সংখ্যা ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশগুলো মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এমন কি এই সংখ্যা বৃটেনের তুলনায় প্রায় দিগুণ।

এদের মধ্যে ফ্রান্সের জাতীয় জেন্ডারমারি ধরণের Arma dei carabinieri সংক্ষেপে কারাবিনারি রয়েছে। এর পুলিশ অত্যন্ত বনেদি। এর জন্ম হয়েছিল লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিষ্ঠারও ১৫ বছর আগে ১৮১৪ সালে। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২০০১ সালে কারাবিনারিকে একটি পৃথক বাহিনী হিসেবে সশস্ত্রবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কারাবিনারিদের মোট সংখ্যা ১,১৭,৯৪৩ জন।

কারাবিনারি মূলত একটি সশস্ত্রবাহিনী। ইটালির ভিতরে ও বাহিরে বিভিন্ন দূতাবাসের নিরাপত্তা, ভিভিআইপ নিরাপত্তা, মাফিয়া দমন, সন্ত্রাস দমন ইত্যাদি কাজে কারাবিনারিদের ব্যবহার করা হয়। অধিকন্তু সারা বিশ্বে জাতিসংঘ বা অন্যকোন আন্তর্জাতিক সংস্থার অধীন শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে মূলত কারাবিনারিগণই অংশগ্রহণ করে।

ইটালির আসল পুলিশি ক্ষমতাসম্পন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হল Polizia di Stato বা স্টেট পুলিশ। গোটা দেশব্যাপী এই পুলিশ বিস্তৃত। সাধারণ পুলিশিং ছাড়াও মহাসড়কের নিরাপত্তা, কাস্টম আইন প্রয়োগ, রেলপথ ও বিমান বন্দর সমূহের নিরাপত্তার দায়িত্ব স্টেট পুলিশ পালন করে। ফৌজদারি অপরাধের সাধারণ তদন্তের ভারও এই পুলিশের উপর ন্যস্ত। ইটালিয়ান স্টেট পুলিশের অনুমোদিক সদস্য সংখ্যা হল ১,১৫,০০০।

ইটালির অন্যান্য পুলিশ বাহিনীগুলো বিশেষ বিশেষ কাজের জন্য নিয়োজিত। যেমন, ট্যাক্স ফাঁকি প্রতিরোধ, চোরাচালান, অর্থ পাচার রোধ, মাদক চোরাচালান ইত্যারি জন্য রয়েছে Guardia di Finanza বা অর্থনীতি সংক্রান্ত পুলিশ; জেলখানা ব্যবস্থাপনার জন্য রয়েছে Polizia Penitenziaria; বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ; দাবানল নিভান ইত্যাদির জন্য রয়েছে Corpo Forestale dello Stato| এ ছাড়াও প্রাদেশিক পর্যায়ে কিছু কিছু প্রাদেশিক পুলিশ রয়েছে যারা শুধু স্থানীয় আইন প্রয়োগ করে । তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইটালিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অধীন কোন স্থানীয় পুলিশ সংগঠন নেই।

সৌদি আরবের পুলিশ-ব্যবস্থা[8]

সৌদি আরব হল একটি ইসলামী রাষ্ট্র। এর বিচার ব্যবস্থা শরিয়াহ্‌ আইন দ্বারা পরিচালিত। অন্য দিকে এই দেশের শাসন ব্যবস্থা হল রাজতান্ত্রিক। তাই গণতান্ত্রিক দেশের পুলিশ-ব্যবস্থার সাথে এর পুলিশ ব্যবস্থা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে সৌদি আরবের পুলিশ-ব্যবস্থা অতিমাত্রায় কেন্দ্রীভূত। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সৌদি পুলিশ বাহিনীর অধীন তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা- সাধারণ অপরাধ নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ, গুপ্ত পুলিশ ও ধর্মীয় পুলিশ। পুলিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রাজপরিবারের একজন সদস্যের উপর ন্যাস্ত করা হয়।

জেদ্দা হল সৌদি আরবের একটি শহর। এই শহরের পুলিশ-ব্যবস্থা সৌদি আরবের অন্যান্য শহরের অনুরূপ। সৌদি আরবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা বাংলাদেশের মতো নয়। তাই এই দেশে স্থানীয় সরকারের তত্ত্বাধানে পুলিশ পরিচালনার প্রশ্নই ওঠে না।

নরওয়ের পুলিশ-ব্যবস্থা[9]

নওয়ের পুলিশ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ কেন্দ্রীভূত। একজন মাত্র জাতীয় পুলিশ কমিশনারের অধীনে সমগ্র পুলিশ বাহিনী কর্তব্য পালন করে। সারা দেশে নরওয়েজিয়ান পুলিশের ৭ টি বিভাগ ও ২৭ টি জেলা রয়েছে। এই বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা মাত্র ১১,০০০। রাজধানী অসলো এর দায়িত্বে রয়েছে অসলো জেলা পুলিশ যার অধীক্ষেত্র গোটা অসলো কাউন্ট্রি।

সূত্রাবলীঃ
[1] http://en.wikipedia.org/wiki/Law_enforcement_in_Japan; as on 25 May, 2012
[2] ( http://en.wikipedia.org/wiki/Municipal_police_%28Germany%29) ; as on 25 May, 2012
[3] (http://en.wikipedia.org/wiki/Federal_Criminal_Police_Office_%28Germany%29) ; as on 25 May, 2012
[4] ( http://en.wikipedia.org/wiki/Polizeipr%C3%A4sidium_M%C3%BCnchen) ; as on 25 May, 2012
[5] http://en.wikipedia.org/wiki/National_Police_%28France%29; as on 25 May, 2012
[6] (http://en.wikipedia.org/wiki/French_Gendarmerie) ; as on 25 May, 2012
[7] http://en.wikipedia.org/wiki/Law_enforcement_in_Italy ; as on 25 May, 2012
8] http://en.wikipedia.org/wiki/Saudi_Arabia_Police#Law_enforcement; as on 25 May, 2012
[9] http://en.wikipedia.org/wiki/Norwegian_Police_Service; as on 25 May, 2012