ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সভ্য মানুষ সভ্য উপায়েই তার বিপথগামী নাগরিকদের সুপথে নিয়ে আসে; আইনে নির্দেশিত উপায়েই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনে। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে সংক্ষিপ্ত উপায়ে আইন বহির্ভূতভাবে আইনগত স্বার্থ উদ্ধার করা কোন জাতির মোক্ষ হতে পারে না।

অপরাধীগণ কোন শত্রু রাষ্ট্রের নাগরিক নয়। তাই তারা রাষ্ট্রের শত্রুও নয়। অন্যদিকে, পুলিশও কোন শত্রু এলাকায় দায়িত্ব পালন করে না। অপরাধীগণ আইন ভঙ্গকারী। পুলিশ আইনের রক্ষক। আইন ভঙ্গকারীদের আইনে নির্দেশিত উপায়েই আইন মানাতে হয়। তাদের বিচার করতে হয়।

যদিও বলা হয়, যুদ্ধের ময়দানে সব কিছুই বৈধ, তবুও যুদ্ধ আইন অমান্যকারীদের অভয়ারণ্য নয়। যুদ্ধেরও আইন আছে; বিধি-বিধান আছে। তাইতো যুদ্ধ শেষে এমনকি যুদ্ধ চলাকালীনও যুদ্ধাপরীদের বিচার করা হয়। তাই, আইন ভঙ্গ করে আইনের প্রয়োগ করা শান্তিকালীনই নয়, যুদ্ধক্ষেত্রেও চলে না।

সক্রেটিস ছিলেন গ্রিসের প্রচলিত ধারণার বিরুদ্ধপন্থি দার্শনিক। দ্বান্দ্বিক দর্শনের যাতাকলে তিনি গ্রিসের প্রচলিত শিক্ষা, নৈতিকতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখোমুখী দাঁড় করিয়েছিলেন। এথেন্সের যুবকদের তিনি নতুন পথে পরিচালিত করছিলেন।

সক্রেটিস মনে করতেন, গ্রিসের তৎকালীন আইন ছিল অমানবিক, নিষ্ঠুর এবং স্বাধীন চিন্তা বিকাশের পথে অন্তরায়। কিন্তু তারপরও তিনি ছিলেন আইন মান্যকারী গ্রিক নাগরিক। আইন তাকে হেমলক পানে মুত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিল। তিনি সে দণ্ড মাথা পেতে নিয়েছিলেন। তবে সক্রেটিসকে জোর করে হেমলক পান করাতে হয় নাই। আইন অনুসারে তিনি নিজেই তা পান করেছিলেন। পান করার পর সারা শরীরে বিষ সঞ্চালনের জন্য মৃদু হাঁটাহাঁটি করার নিয়ম ছিল। তিনি তাও করেছিলেন।

মানবিক না হলেও সক্রেটিসের সাজা রাষ্ট্রীয় আইনেই হয়েছিল। একজন সুনাগরিক হিসেবে সক্রেটিস তা মেনে নিয়েছিলেন এবং দণ্ড কার্যকরকরণের বিধানগুলোও যথাযথভাবে পালন করেছিলেন। সক্রেটিসকে বন্দিশালা থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, অনুরোধ করা হয়েছিল ও যথেষ্ঠ সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সক্রেটিস তা করেননি। তিনি পালিয়ে যাননি। কারণ, বন্দিশালা থেকে পালিয়ে যাওয়াও আইনসিদ্ধ ছিল না।

রাষ্ট্রীয় আইনের বাইরে যাহাই হবে; তা হবে আইন রক্ষার কাজে শপথকারীদের প্রকাশ্য দুর্বৃত্তায়ন। আইন বহির্ভূত সহিংসকর্ম জনপ্রিয়ও হতে পারে। নাগরিকগণ শিশুর মতো তা অধীকমাত্রায় ও অধিক পরিমাণে চাইতেও পারে। কিন্তু এটা সভ্যতা হতে পারে না।

যা আইনে নাই, রাষ্ট্র যদি তা তার আইন প্রয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে এবং কোন সমাজ যদি তা প্রতিবাদহীন অনুমোদন করে, তবে সেই রাষ্ট্র ও সমাজ সভ্যতার পথে নয়, অসভ্যতার পথে চলে।