ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

তার নাম ‘অন্য’। পেশার সাথে তার নামটির বড় মিল রয়েছে। অন্যরা তাকে দেখতে পেলেও ‘অন্য’ অন্যদের দেখতে পায় না। বান্দরবান জেলার পর্যটনস্থান নীলাচলে ‘অন্য’ একটি ঢোল বাজায় আর গান গায়। অন্য সম্পূর্ণ অন্ধ।

আজ থেকে সাত বছর আগে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ‘অন্য’ তার দুই চোখ হারায়। ‘অন্যের’ অবস্থা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিবে টাইফয়েড কত বড় অসুখ। দুই চোখ হারিয়ে অন্যর আয়-রোজগারের অন্যান্য পথ বন্ধ হয়ে যায়। তবে আল্লাহ তাকে একটি গানের কণ্ঠ দিয়েছেন। তার বেঁচে থাকার রুটি-রুজির যোগান দেয় এই গানের কণ্ঠই।

অন্যর বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায়। সে মূলত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। আমি যতবার নীলাচল ভ্রমণ করেছি ততোবারই অন্যের গান শুনেছি। তার গানের নির্ধারিত কোন মূল্য নেই। গান শুনে কেউ তাকে দশ-বিশ টাকা দিতেও পারেন, নাও দিতে পারেন। তবে অনুরোধ করলেই সে গান গাবে। আমি যতবার বান্দরবানে যাই ততোবারই নীলাচলে ছুটে আসি। নীলাচল থেকে বান্দরবান শহরসহ আশাপাশের পাহাড়ের যে মনোরম দৃশ্য দেখা যায় তার আকর্ষণের চেয়েও অন্যর গান আমার বেশি পছন্দের। অন্যের গাওয়া যে গানটি আমার সবচেয়ে ভাল লাগে এবং যে গানটি বারবার তার কণ্ঠে আমি শুনে থাকি তা হলঃ
তোঁয়ারে ছাড়া হাল্লা ঘরত
ক্যানে থাইকুম আই,
তুই যাইবা সোনাদিয়া বন্ধু
মাছ মারিবার লাই।

অন্ধ শিল্পী অন্য পেটের দায়ে গান গাইলেও সে আমাদের লোক-ঐতিহ্যের একটি ধারাকে লালন করছে। শহুরে-ব্যান্ড আর পপ গানের হালকা মেজাজে আমাদের গ্রাম বাংলার সহজ-সরল মাটির গানগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। শহরের অনেক নকলনবীশ তথাকথিত তারকাগণ গ্রাম বাংলার সাধারণ মালিকানার সংগীতগুলোকে চুরি করে নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছে।

আমরা কি পারি না এই অন্যদের সামান্য চাওয়াটুকু পূরণ করে তাদের লালন করতে?

আমার সহব্লগারগণ, আমরা চাইলেই আমাদের এলাকায় বসবাসরত কিংবা পথ-চলতে কাছে পাওয়া অন্যর মতো শিল্পীদের সম্পর্কে বিস্তারিত লিখে তাদের জন্য জনমত তৈরি করতে পারি না কি?