ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

পটভূমিঃ কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন বাংলাদেশে পুলিশ সংস্কারের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক প্রথমবারের মত প্রণীত কৌশলগত পরিকল্পনায় কমিউনিটি পুলিশিং ছিল দ্বিতীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত। এ কৌশলগত পরিকল্পনা তৃণমূল পর্যায়ে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিতকল্পে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও কমিউনিটি পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কমিউনিটির প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ সাপেক্ষে পুলিশের সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে একটি অনুকরণযোগ্য মডেল হিসেবে গ্রহণ এবং কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং স্ব-উদ্যোগে আলাপ-আলোচনা এবং কার্যকর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কমিউনিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এটি সহায়তা করবে।

বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং: কমিউনিটি পুলিশিং এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে অপরাধ এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের মাধ্যমে একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে কমিউনিটি এবং পুলিশের মধ্যে সমান অংশীদারিত্ব তৈরিতে কমিউনিটি পুলিশিং কাজ করছে । এ উদ্দেশ্য পূরণে বাংলাদেশ পুলিশ দুই স্তরের অংশীদারিত্বকে চিহ্নিত করেছে, সেগুলো হলঃ
• কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং
• প্রায়োগিক অংশীদারিত্ব।
কৌশলগত অংশীদারিত্ব শুরু হয় স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত সচিবের নেতৃত্বে আন্তঃ মন্ত্রণালয়/বিভাগের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের মাধ্যমে এবং শেষ হয় পুলিশের রেঞ্জ/বিভাগীয় পর্যায়ে একটি অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নীতিমালা প্রণয়ন এবং জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা তৈরি এবং কার্যকর সমন্বয় সাধন করা হয়। অন্যদিকে প্রায়োগিক অংশীদারিত্ব শুরু হয় জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার/মেট্রো পর্যায়ে কমিশনার কার্যালয় থেকে এবং শেষ হয় থানা পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে। প্রসঙ্গত এখানে উল্লেখ্য যে, প্রত্যেকটি জেলা ‌ও থানায় একটি করে কমিউনিটি পুলিশিং সেল রয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম(সিপিএফ) গঠনের মাধ্যমে এ অংশীদারিত্ব শেষ হয়। এই সিপিএফগুলো এলাকার জনগণের মতামত ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সাথে এর কার্যকর অংশীদারিত্ব বিদ্যমান, যা তৃণমূল পর্যায়ে সমস্যা সমাধানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূণ ক্ষেত্র।

বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়টি একেবারে নতুন কোন বিষয় না হলেও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে মাত্র কয়েক বছর আগে। বাংলাদেশ পুলিশ তাদের প্রথম কৌশলগত পরিকল্পনা ২০০৮-২০১০ এ বিষয়টি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই পুলিশ সংস্কার কর্মসূচির বাংলাদেশ পুলিশকে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সহায়তা প্রদান করছে। বিভিন্ন ধরণের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ পরিচালনার পাশাপাশি কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজনের বিষয়টি এই সহায়তার অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এছাড়াও পিআরপির সহায়তায় বাংলাদেশ পুলিশের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল ও কমিউনিটি পুলিশিং সার্ভিস ম্যানুয়েল প্রণয়ন এবং কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক বিভিন্ন ধরণের শিক্ষা বিষয়ক প্রচারপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। পিআরপি মডেল ইউনিয়ন পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে সারাদেশে ৮,৪০০ সিপিএফকে সরাসরি সহায়তা প্রদান করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে।

বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জসমূহঃ কমিউনিটি পুলিশিং ধারণাটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ লেখায় এ চ্যালেঞ্জগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে এবং কিভাবে এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা যায়, সে সর্ম্পকে কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছেঃ

কমিউনিটি পুলিশিং ধারণার অস্বচ্ছতাঃ কমিউনিটি পুলিশিং ধারণাটিই এখনো অনেকের কাছে পরিষ্কার নয়। বেশীরভাগ পুলিশ কর্মকর্তাই কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়টিকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এলাকায় পাহারাদল নিয়োগ দেয়াকেই বোঝায়। বিভিন্ন ধরণের বিরোধ নিষ্পত্তি করাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা/ইউনিট-ইন-চার্জগণ তাদের অর্জন বলে মনে করেন। মূল ধারণায় সাদৃশ্য না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম যেনতেন ভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা এবং কমিউনিটির লোকজন কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন।

কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার(সিপিও)দের ঘনঘন বদলিঃ প্রত্যেক থানায় একজন উপ-পরিদর্শককে সিপিও হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। সিপিওদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সুষ্ঠুরূপে পালন তখনি সম্ভব যখন কোন একজন সিপিও তাঁর কর্মক্ষেত্রে কমপক্ষে দুইবছর একই পদে কর্মরত থাকবেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে, খুব কম সংখ্যক সিপিওকে একই কর্মএলাকায় দুই বছর বা তার অধিক সময় রাখা হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষজন ছাড়াও সিপিওদের ঘন ঘন বদলি কমিউনিটির সাথে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর অংশীদারিত্ব বাস্তবায়ন অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশের মধ্যম পর্যায়ে কর্মকর্তাদের অনীহাঃ মাঠ পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে মধ্যম পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যকর ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশে পরিদর্শক ও উপ-পরিদর্শক পর্যায়ের কর্মকর্তারাই মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এ ধরণের সৃজনশীল উদ্যোগ মধ্যম পর্যায়ের কর্মকতাদের মধ্যে খুবই কম দেখা যায়।

উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সীমীত উদ্যোগঃ ঐতিহ্যগতভাবে পুলিশ সেবা ব্যবস্থায় ডেভিড এইচ. বেইলি এর মতে, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাজ হচ্ছে একজন নিরীক্ষকের ভূমিকা পালন করা, আইন-কানুন পালনের মাধ্যমে দৈনন্দিন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা তা দেখার চেয়ে সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে সংস্থার লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা পালন করছেন কিনা তা দেখা হয় । বাংলাদেশ পুলিশও এর ব্যতিক্রম নয়। কর্মরত উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অধিকাংশই এখনো সেই ধাঁচের পুলিশ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে এবং সৃজনশীল কার্যক্রম বাস্তবায়নে এখনো অনেক কম আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

জনউদ্বুদ্ধ করণের ব্যর্থতাঃ কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে কমিউনিটিকে উদ্বুদ্ধ করাটা একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কমিউনিটির লোকজনকে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদে সম্পৃক্ত রেখে কমিউনিটি সাথে একটি টেকসই অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠ পর্যায়ে আমার কাজের অভিজ্ঞতা এবং কমিউনিটির সাথে যৌথ কর্মশালা বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এ ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত খুব কমই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে কিছুটা অগ্রগতি হলেও সমাজে বিদ্যমান অন্যান্য সংগঠনগুলোকে উদ্বুদ্ধ করাটা এখনো পুলিশ কর্মকর্তাদের চিন্তার বাইরেই রয়ে গেছে।

রাজনৈতিক প্রভাবঃ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের আওতার সম্পূর্ণ বাইরে রাখার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অতিরিক্ত সংখ্যায় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামে অন্তর্ভূক্তি ফোরামগুলোকে অনাকাঙ্খিত রাজনীতিকীকরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরাম্বিত করবে। বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বোঝা যায় যে, ফোরামগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভারে জর্জরিত। ফোরামগুলোতে রাজনৈতকি ব্যক্তিদের অধিক সংখ্যায় অন্তর্ভূক্তিকরণ এদের নিরেপক্ষ এবং অ-রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ভূমিকা পালনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণঃ স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা সরাসরি বিভিন্ন নেতৃ পর্যায়ের পদে আসীন হচ্ছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এলাকার সাধারণ জনগণ ফোরামগুলোতে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কিংবা নিম্ন পর্যায়ের পদগুলো হচ্ছে।

নারী প্রতিনিধিত্ব সন্তোষজনক নয়ঃ কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামে নারী পুলিশের প্রতিনিধিত্ব খুবই কম। কমিউনিটি পুলিশিং সার্ভিস ম্যানুয়েল অনুসারে প্রত্যেকে ফোরামে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে । কিন্তু বাস্তবে এ পর্যন্ত এ ধরণের কিছুই হয়নি। যদিওবা ফোরামগুলোতে কিছু নারী প্রতিনিধিত্ব আছে, কিন্তু তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

জেলা ও মেট্রো পর্যায়ের কমিউনিটি পুলিশিং সেলগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে নাঃ মেট্রোপলিটন এবং জেলা পর্যায়ে স্থাপিত কমিউনিটি পুলিশিং সেলগুলোর ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। কিছু ক্ষেত্রে এ কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ধারণাও খুবই সীমিত।

কার্যক্রম মূল্যায়নের পদ্ধতির অনুপস্থিতিঃ পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে দেশের সব পুলিশ ইউনিটে এখনো সেই পুরানো ধাঁচে মূল্যায়ন করা হয়। গ্রেপ্তারের ও পরোয়না তামিলের সংখ্যা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, এবং মামলা রুজুর সংখ্যার উপর ভিত্তি করে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। যদিওবা মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হতে বলা হয়, কিন্তু এ কাজগুলোকে মাসিক মূল্যায়নের মধ্যে ধরা হয় না।

পূর্ণ স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নিঃ পিআরপির কার্যক্রম বাস্তবায়নের ধরণ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের বোঝার মধ্যে একটি বিরাট ফারাক লক্ষ্য করা হচ্ছে। কিছু পুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন, পুলিশের সংস্কারে পিআরপিই সব কাজ করবে। এ সমস্ত চিন্তাধারা পুলিশ এবং পিআরপির মধ্যে দুরত্ব সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনেক পুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন যে, এ ধারণাটি কমিউনিটি পুলিশিং ধারণাটি পিআরপি কর্তৃক আরোপিত একটি ধারণা।
এ চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবেলায় সুপারিশ সমূহঃ
• কমিউনিটি পুলিশিং অফিসারদেরকে ঘনঘন বদলি করা উচিত না। কমিউনিটি পুলিশিং অফিসারদের বদলির ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং সেলে পাঠাতে হবে। যদি অনিবার্যকারণ বশতঃ কাউকে বদলি করতে হয়,সে ক্ষেত্রে তার নতুন কর্মক্ষেত্রেও তাঁকে কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা উচিত।

• মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য জনউদ্বুদ্ধ করণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে আরো সৃজনশীল কার্যক্রম হাতে নেয়া উচিত।

• জেলা ও মেট্রো পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং সেলগুলোকে আরো কার্যকর ফোরাম হিসেবে গড়ে তোলা উচিত।

• কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামকে স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণের একটা সীমারেখা থাকা উচিত। পুলিশ কর্মকর্তাদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উপর নির্ভরশীল থাকা উচিত নয়।

• রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বর্তমান বাস্তবতায় মেনে নিতে হবে। অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আরো অধিকহারে ফোরামে সম্পৃক্তকরণ এবং সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত।

• কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামে কমপক্ষে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। ফোরামে নারীদের উ”চতর পদে নিয়োগ ত্বরাম্বিত করতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। প্রত্যেক প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় একাধিক নারী সদস্যের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

• পুলিশ কর্মকর্তা ও কমিউনিটির লোকজনের জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রকাশনা আরো সহজলভ্য করা উচিত।

উপসংহারঃ আশার কথা বেশ কিছু পুলিশ কর্মকর্তা কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়টিকে তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়নের কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে তারা কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করছেন। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম নিয়ে প্রচারমাধ্যমগুলোতে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রতিবেদন/সাফল্যের কথা ছাপানো হচ্ছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে স্থাপিত ক্রাইম প্রিভেশন সেন্টারটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। এই কেন্দ্রটি এখন পিআরপির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ে দাতাসংস্থাগুলোর ক্রমবর্ধমান আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সব ঘটনা প্রমাণ করে যে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়টি ক্রমশ নাগরিকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের ২০১২-২০১৪ সালে প্রণীত কৌশলগত কর্মপরিকল্পনায় স্থান পেয়েছে। তবে কমিউনিটি পুলিশিং কর্মসূচির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অনেকাংশে নির্ভর করছে নেতৃস্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের উপর।