ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

শাহবাগের ব্লগারদের মানবতাবিরোধী/যুদ্ধ অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য অবস্থান, জামাত-শিবিরসহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর ইসলামকে বাঁচানোর জন্য কথিত আন্দোল, হরতাল, বিক্ষোভ, পুলিশের গোলাগুলি, আহত, নিহত, হামলা, মামলা, গ্রেফতার, ধাওয়া-ধাওয়ী ইত্যাদি হাজারো ঘটনার ভীড়ে অনেক খবর হয়তো কারো চোখেই পড়ে না। কিন্তু, পুলিশ সংক্রান্ত খবরগুলো যেহেতু আমি মনিটর করি, সংগ্রহ করি এবং সংরক্ষণ করি, তাই, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩ তারিখের মানব জমিন পত্রিকায় প্রকাশিত পুলিশ সংক্রান্ত ছোট্ট খবরটি আমার নজর এড়ায়নি। তাহলে কি ছিল এই খবরটি?

‘সিরাজগঞ্জে পুলিশের পিটুনিতে যুবক নিহত লাশ নিয়ে মিছিল’(১)

পুলিশ-অসদাচরণ বা police misconduct নিয়ে ভবিষ্যতে একটি বই লেখার ইচ্ছা রয়েছে। তাই সারা দেশের যেখানেই পুলিশের বিরুদ্ধে কোন খবর প্রকাশিত হয়, তা আমার আগ্রহের বস্তুতে পরিণত হয়। সিরাজগঞ্জে পুলিশের পিটুনিতে যুবক নিহত হওয়া একটি বড় ধরণের পুলিশ-অসদচারণ। কেননা, পুলিশের কাজ যান-কবজ করা নয়, যান রক্ষা করা। হাজারও হত্যা মামলার গ্রেফতারকৃত আসামী থেকে শুরু করে, প্রেসক্লাবের সামনে নিরবে প্রতিবাদকারী কোন একক ব্যক্তির জীবনও পুলিশ সমানভাবে রক্ষা করবে। খুনির যান আদালতের নির্দেশানুসারে জল্লাদের হাতেই কবজ হবে, পুলিশের হাতে নয়। এমতাবস্থায়, পুলিশের হাতে সিরাজগঞ্জে যুবকের মৃত্যু অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য।

তবে কেন মরণ হল এই কথিত যুবকের? পত্রিকার খবরটি ছিল এই:

প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের খালা হাসিনা বেগম জানান, রাতে সদর থানার দারোগা আবদুস সালাম ও সেলিম ফরিদের বাড়িতে ঢোকে। পুলিশ দেখে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ পুকুর পাড়ে তাকে ধরে কিলঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ফরিদ অচেতন হয়ে পড়লে স্ত্রীকে খোঁজার নাম করে ওই দুই দারোগা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে। ফরিদকে উদ্ধার করে হাসপাতলে নেয়ার পথেই তিনি মারা যান।

এর অর্থ হল এই ফরিদ পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। কেন সে পালাচ্ছিল? পত্রিকার খবরে তারও ব্যাখ্যা রয়েছে।

নিহতের পিতা মাদক ব্যবসায়ী রহিজ উদ্দিন জানান, সকাল সোয়া ১১টার দিকে এসআই সেলিম তার কাছে ১০ হাজার টাকার জন্য মোবাইল ফোন করেছিল। টাকা না দেয়া তারা তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

পত্রিকার খবর অনুযাযী নিহত ফরিদ একজন মাদক ব্যবসায়ী। নিহতের বাবা রহিজ উদ্দিন একজন মাদক ব্যবসায়ী। নিহতের বোন শিল্পীও একজন মাদক ব্যবসায়ী। আর পুলিশের বাড়তি তথ্য, ফরিদ শুধু মাদক ব্যবসায়ীই নহে, একজন মাদকসেবীও। আর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু মারপিট করে হত্যাই নয়, মাদক ব্যবসা চলতে দেওয়ার জন্য নিয়মিত ঘুষ না পেয়েই তারা ফরিদের উপর চড়াও হয়েছে। নিহতের বোন শিল্পী বলেন:

তাদের (নিহতের বোনসহ অন্যান্যরা)অভিযোগ, পুলিশকে ঘুষ দিয়েই অনেকে মাদকের ব্যবসা করে। ঘুষ না পেলেই এভাবে মারপিট করা হয়।

পুলিশের কর্মকাণ্ডের ফলে কোন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা একটি গুরুতর অভিযোগ। মাদকসেবী হোক আর মাদক ব্রবসায়ীই হোক, সে মানুষ, তার মানবাধিকার সমুন্নত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পুলিশ রাষ্ট্রের পক্ষে মানবাধিকার রক্ষার কাজটি করে। তাই পুলিশকে এই অভিযোগ থেকে কোন ক্রমেই রেহাই দেওয়া য়ায় না। পত্রিকার খবরে আরো বলা হয়েছে:

সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন জানান, ঘটনার তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমরা আশায় থাকলাম তদন্ত শেষে অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে(৩)। তবে এই ক্ষেত্রে আমরা পুলিশি-কূটাভাস সম্পর্কে দুই চার কথা আলোচনা করতে চাই।

মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে মাদক সেবন যতটুকু না আইনগত সমস্যা তার চেয়েও বেশি মাত্রায় সামাজিক সমস্যা। যদি মাদকাসক্তির পিছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করি তাহলে এটাকে পুলিশি সমস্যা না বলে যে কেউ সামাজিক সমস্যাই বলবেন। পারিবারিক অশান্তি, প্রেমে ব্যার্থতা, বেকারত্ব, সম্পর্কের টানা পোড়েন, জীবনে প্রত্যাশিত সাফল্য লাভে ব্যর্থতা এমনকি বন্ধু-বান্ধবদের পাল্লায় পড়ে দু’একবার চেখে দেখতে দেখতে মাদকাসক্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলোও নির্দেশ করে এই সমস্যা কতটা সামাজিক মাত্রাযুক্ত। মাদক সমস্যার সামাজিক মাত্রার আধিক্য বিবেচনায় বিংশ শতকের গোড়ার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পুলিশ প্রধান এর মধ্যে পুলিশকে প্রবেশ করতে দিতেই অনিচ্ছুক ছিলেন। এদের মধ্যে প্রধানতম ছিলেন, যুক্তরাষ্টের পুলিশ পেশাদারিত্বের জনক বলে খ্যাত ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলি পুলিশ-প্রধান আগস্ট ভলমার। ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত ‘পুলিশ ও আধুনিক সমাজ’ গ্রন্থে এই সম্পর্কে ভলমারের মত ছিল:

Stringent laws, spectacular police drives, vigorous prosecution, and imprisonment of addicts and peddlers have proved not only useless and enormously expensive —– but they are also unjustifiably and unbelievably cruel in their application to the unfortunate drug victims(২).

তবে সত্যি হল, ভলমারের মত যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাংশেই গ্রতীত হয়নি। মাদক ব্যবসার সাথে সাথে মাদকাসক্তদের নিয়ে টানা-হেঁচড়া আমাদের দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও হয়। তবে সেই দেশে এই বিষয়টির সামাজিক দিকটি স্বীকার করা হয়। সামাজিকভাবে মাদকাসক্তদের পূনর্বাসনসহ অনেক প্রকার ব্যবস্থা সেখানে রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই সমস্যা আগাগোড়াই একটি পুলিশি সমস্যা হিসেবেই স্বীকৃত। যাহোক, আমরা এই সামাজিক সমস্যাটি মোকাবেলা করতে গিয়ে স্থানীয় পুলিশের কি দুরবস্থায় পড়তে হয় তার একটি বাস্তব অবভঞ্জতাজাতত গল্পের অবতারণা করব।

সারদার প্রশিক্ষণ শেষ করে ছয় মাসের জন্য হাতে-কলমে কাজ শিখতে যোগ দিলাম দিনাজপুর জেলায়। রংপুর থেকে বেডিং পত্র নিয়ে বাসে করে গিয়ে নামলাম দিনাজপুর বাস টার্মিনালে। দিনাজপুর আমার বেশ পরিচিত। এই শহরে একটি বছর শিক্ষকতার কাজ করেছিলাম।

বাস টার্মিনাল থেকে রিকসা নিয়ে ছুটলাম বন্ধুর বাসায়। বন্ধু আব্দুল কাদের বাচ্চু দিনাজপুরের এসি (ফুড)। পুলিশ সুপারের কাছে গাড়ির জন্য বলতে পারতাম। কিন’ তখন্‌ও মুঠোফোন এত বেশি আমজনতার যোগাযোগ যন্ত্র হয়ে ওঠেনি। অকিন’, একজন প্রবেশনার হয়ে পুলিশ সুরারের কাছে যোগদানের পূর্বেই গাড়ির জন্য আব্দার করার সাহসই কুলায়নি। পরে কাদেও বাসায় দুপুরের খাবার খেয়ে কাদেরর গাড়িতেই পুলিশ অফিসে গিয়ে কর্মে যোগদান করেছিলাম। আমার পুলিশ জীবনের প্রথম অফিস খাদ্য অফিসের সরকারি গাড়েতেই হল। সেই বন্ধুকে কি আর ভোলা যায়?

পুলিশে কাজ করতে গেলে হাজারো মানুষের তদবির শুনতে হয়। সেই তদবিরের মধ্যে আত্মীয়-স্বজনদের তালিাকার সাথে যুক্ত হয় বন্ধুদের নামও। দিনাজপুওে থাকাকালিন সর্বপ্রথম তদবিরটি ছিল আমার বন্ধু এসি(ফুড) বাচ্চুরই।

বাচ্চুর তদবিরটি ছিল বড়ই জনগুরুত্বপূর্ণ। দিনাজপুরের খাদ্য অফিসটি ছিল নির্জন স্থানে। অফিস প্রাঙ্গণে কিছু মাদকসেবী রাত-বিরাতে আড্ডা জমায়। তারা শুধু উৎপাতই করে না, ভয়ও দেখায়। অফিসের দারোয়ান-পিওনরা বড়ই ভীতু। তারা মাদকসেবীদের উৎপাতের কাছে বড়ই অসহায়। বাচ্চুর তদবিরটি ছিল, আমি যেন স্থানীয় থানাকে দিয়ে এই সব মাদকাসক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাই; তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করি।

পুলিশ যে ইতোপূর্বে ব্যবস্থা নেয়নি তাও নয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই মাদকাসক্তগণ দ্রুত ছাদে ওঠে পড়ে, পাঁচিল টপকে পাশের বাসাবাড়িতে ঢুকে আত্মরক্ষা করে; পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে সমর্থ হয়। এই ব্যবস্থা যেহেতু থানার দারোগা-কনস্টেবল পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল, তাই সমস্যার সমাধান হয়নি। এখন যেহেতু একজন এএসপি, তাতে আবার বন্ধবর, এই স্থানে পোস্টিং এ এসেছে, আমার বন্ধুরকাছে তার অফিস-সহকর্মীদের বিপুল প্রত্যাশা। এবার মাদকাশক্তদের একটা বিহিত ব্যবস্থা হবে।

দিনাজপুর কোতওয়ালী থানার তৎকালিন অফিসার-ইন-চার্জ ছিলেন জনাব শহীদ সুকরানা। বিপুল বপুর অধিকারী এই পুলিশ ইন্সপেক্টর। সিনিয়র অফিসারদের প্রতি তার শ্রদ্ধার কমতি ছিল না। আমাকে দেখামাত্রই যেখানে যা হাতের কাজ আছে সেই সব সেখানে রেখেই রীতিমত সাবধান হয়ে কুর্নিশ করতে ভুলতেন না। যদি মাথায় টুপি না থাকত, দ্রুত টুপি পরে ত্রস্তই সাবধান হয়ে যেতেন।

আমার সেই সময়ের শিক্ষকও শহীদ সুকরানা। কেননা, তার তত্ত্বাবধানেই আমাকে দুই মাস থানার কাজ শিখতে হবে। যাহোক কয়েকদিন পরেই আমি শহীদ সুকরানাকে দিনাজপুর জেলার খাদ্য-দফতর প্রাঙ্গণের মাদকাসক্তদের সান্ধ্য-আড্ডার বর্ণনা দিলাম। অছি সাহেব বিষয়টি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করলেন। এবার মাদকাশক্তদের বারটা বাজবে নিশ্চয়ই!

কিন্তু অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসার সুকরানা, যিনি পুলিশের শহুরে অফিসার বলেই সমধিক পরিচিত, আমাকে একটু বাড়তি জ্ঞানের কথার সাথে ভবিষ্যৎ সবক দিতে ভুললেন না। তিনি বললেন, স্যার, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে তেমন কঠিন হওয়া যায়না কয়েকটি কারণেঃ

• আইন মাদক সেবনের ব্যাপারে তেমন উচ্চকিত নয়। আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের যত সহজে গ্রেফতার করতে পারি, মাদকসেবীদের ব্যপারে তত সহজে কিছু করতে পারি না।

• মাদকাসক্তদের গ্রেফতার করে কোন ধারায় মামলা নিব? মাদক সেবন-অপরাধের জন্য মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাটি প্রয়োগ করতে হলে মাদক সেবীর প্রথমেই ডাক্তারী পরীক্ষা করাতে হবে। মানে বিষয়টি চলে যাবে ডাক্তারের কাছে।

• মাদকাসক্তদের গ্রেফতারের জন্য মরিয়া হয়ে ধাওয়া দেওয়াও বিপদজনক। এই মাতালগুলোর কাণ্ডজ্ঞান বড়ই সীমীত। এরা নিজেদের শরীরকেই অপরাধের স্থান হিসেবে বেছে নেয়। তাই ছাদের উপর উঠে মাটিতে লাফ দিতেও ইতস্তত করে না।

• যদি মাদকাশক্তদের গ্রেফতার করতে গিয়ে নির্দোষ পুলিশের প্রচেষ্টার ফলে কোন মাদকাসক্ত নিজ চেষ্টায় মরে যায়, তাহলে সারা শহরের মানুষ তাকে মহাপুরুষ বানিয়ে মিছিল শুরু করবে। যে বন্ধু আপনাকে মাদকাশক্ত গ্রেফতারের অনুরোধ জানাচ্ছেন, এমনও হতে পারে, তিনিও সেই মিছিলে যোগ দিচ্ছেন।

’স্যার, মনে কিছু নিবেন না’, চৌকশ সুকরানা প্রদর্শিত বিনয়ে বললেন, ‘যেহেতু শিখতে এসেছেন, তাই এই সম্পর্কে বলা আমার কর্তব্য মনে করছি’। সত্য বলতে কি, আমার পুলিশ পেশার হাতে কলমের শিক্ষক শহীদ সুকরানার কথাগুলো সেই মুহূর্তে খুব বেশি পছন্দ হয়নি; আর এই বিশ্লেষণকে পাত্তাও দেইনি। কিন্তু এখন হাড়ে হাড়ে টের পাই।

পুলিশের অভিযানের কোন পর্যায়ে কেউ যদি মারা যায়, তাহলে, সে যত জঘন্য ব্যক্তিই হোক, আমাদের জনগণ তাকে ধোয়া তুলসির পাতার মতো পবিত্র মনে করে। তার জন্য দরদের অভাব থাকে না। একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীর অধিকতর কুখ্যাত মাদকাসক্ত পুত্রের জন্য আমাদের জনগণ যে দরদ প্রদর্শন করেন, সন্ত্রাসী-পিকেটারদের নির্মম আচরণে নিহত পুলিশ সদস্যদের জন্য তারা সামান্য সমবেদনাও প্রকাশ করেন না। আমাদের জন-মনস্তত্বের্ এ এক বেদনাদায়ক হেঁয়ালী!

সূত্রাবলীঃ

১. http://www.mzamin.com/details.php?nid=NDM2Nzg=&ty=MA==&s=MTg=&c=MQ==
২. http://en.wikipedia.org/wiki/Arguments_for_and_against_drug_prohibition
৩. সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে যদিও আলোচিত ফরিদ পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুবরণ করে নাই, তবুও অফিযোগ উঠায় নিহতের সুরুতহাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে করানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিহতের শরীরের নির্যাতন বা মারপিটের কোন চিহ্ন পান নাই। তবে ময়না তদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে শেষ কথা বলা সম্ভব নয়।