ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কমিউনিটি পুলিশিং একটি নতুন পুলিশিং দর্শন, একটি সাংগঠনিক কর্মকৌশল যা সনাতনী পুলিশিং কৌশলের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক না হলেও বহুক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করে। অনেকের মতে কমিউনিটি পুলিশিং সনাতনী পুলিশিং এর প্রতিদর্শন। আর কমিউনিটি পুলিশিং যেহেতু একটি পুলিশিং দর্শন এবং যে কান দর্শনই সেই বিভাগের প্রত্যহিক কর্তব্য সম্পাদন ধরনে প্রভূত পার্থক্য সূচিত করে। তাই এই দর্শন সম্পর্কে পুলিশ অফিসারদের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় প্রকার জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরী।
যারা পুলিশ সদস্য নন, পুলিশ গবেষক বা অপরাধ বিজ্ঞানী তাদের তাত্ত্বিকজ্ঞানের সাথে ব্যবহারিকর জ্ঞান জরুরী নয়। কিন্তু পুলিশ অফিসারদের জন্য বিশেষজ্ঞ না হলেও কমিউনিটি পুলিশিং এর মৌলিক দর্শন সম্পর্কে স্বচ্চ ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়। পুলিশ অফিসারদের কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জন প্রক্রিয়ার সূচনা হয় পুলিশ একাডেমি বা অন্যান্য পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। কিন্তু এ সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর কতটুকু জ্ঞান বিতরণ করা হয়?

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী সারদায় ২০০৮ সালের পূর্বে কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর তেমন কোন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হত না। আমি ২০০১-২০০২ বছরে সারদায় এএসপিদের মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। সেই সময় কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ে আমাদের কোন ক্লাস ছিল না। ২০০৮ সালে ২৫ তম বিসিএস এর ক্যাডার অফিসারদের প্রশিক্ষণের সময় মাস্টার্স ইন পুলিশি সাইন্স (এমপিএস) ডিগ্রি চালু করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাথে সংযুক্ত এই কোর্সে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর ৫০ নম্বর এর কোর্স রয়েছে। কিন্তু এই ডিগ্রিটা বর্তমানে শুধু শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশি সুপারদেরই দেওয়া হয়। এসআইদের এই ডিগ্রি দেওয়া হয় না। অথচ এসআইদেরই মাঠে এসে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়ন করতে হয়। অন্যদিকে, তাদের এই প্রশিক্ষণে বা ডিগ্রিতে যারা পাঠদান করেন তারা কমিউনিটি পুলিশিং এর তাত্ত্বিক জ্ঞান কতটা সম্মৃদ্ধ সে বিষয়টিও বিবেচ্য।

চারটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) সহ অন্যান্য ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর পৃথক কোন কোর্স বা মডিউল চালু নেই। অন্যান্য সনাতনী কোর্সের মধ্যে একটা বা দুটো ক্লাস সংযোজন করা হয় মাত্র। যেমন, সিআইডি পরিচালিত ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুল(ডিটিএস) এ আমার পরামর্শে এবং প্রাক্তন কমান্ডেন্ট রৌশন আরা স্যারের উদ্যোগে প্রথম দিকে এএসপিদের জন্য পরিচালিত এইড টু গুড ইনভেস্টিগেশন কোর্সে প্রথম একটি এক দিনের কর্মশালা সংযোজন করা হয়। এর পর আরো কয়েকিট কোর্সে একটি কের কর্মশালা সংযোজন করা হয়। পরবর্তীতে এসব কর্মশালা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অনুমোদিত হয়। বর্তমানে প্রত্যেক কোর্সের সাথে একটি কমিউনিটি পুলিশিং লেকচার থাকে। গত প্রায় দুবছর থেকে আমিই এসব ক্লাসে লেকচার দিয়ে আসছি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কথা আমার জানা নেই। পুলিশ স্টাফ কলেজে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ে কোন নিজস্ব প্রোগ্রাম নেই। পিআরপিসহ অন্যান্য এনজিও এখানে কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর মাঝে মাঝে কোর্স পরিচালনা করে। অবশ্য ইউএসএইড আইসিটেপ কর্মসূচির মাধ্যমে সারদায় কিছু কিছু প্রশিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণেনর আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেগুলোও পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষক তৈরি করতে পারেইন।

পুলিশ প্রশিক্ষণে যারা কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর ক্লাস নেন, আমি সন্দেহ করি, তারা কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর খুব বেশি তাত্ত্বিক জ্ঞান রাখেন না। প্রশিক্ষকদের মধ্যে কত জন যে কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর কোন সম্পূর্ণ বই পড়েছেন তাও আমি সন্দেহ করি। কিন্তু অনেক পুলিশ অফিসার মনে করেন, ২০ বছর পুলিশে চাকরি করেছি কিংবা পুলিশের সিনিয়র অফিসার হয়েছি, আমি কমিউনিটি পুলিশিং জানব না, তা কি হয়?

কিন্তু কমিউনিটি পুলিশিং যে একটি ভিন্নতর দর্শন তারা এটা উপলব্ধি করতে পারেন না। কিংবা উপলব্ধি করতে চান না। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্টপতি যতই জ্ঞানী হোন বা ক্ষমতাধর হোন না কেন, তিনি কমিউনিজমের উপর বিশেষজ্ঞ নন। তেমনি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর সভাপতি যতই কমিউনিজম অনুশীলন করুন, তিনি পূঁজিবাদের লীলা খেলার খেলোয়াড় হতে পারেন না। কোন দর্শন বিশেষত যেটা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন রয়েছ তার উপর অফিসারেদর পড়াতে হলে সেই দর্শনের অনুসারী হতে হয়। গির্জার ফাদারকে দিয়ে যেমন ইসলাম-সেবা হয় না, কিংবা মসজিদের হুজুরকে দিয়ে হয় না খ্রীস্টধর্ম প্রচার, তেমনি যিনি কমিউনিটি পুলিশিং দর্শনে বিশ্বাসী নন, যিনি সারা জীবন সনাতনী পুলিশিং চর্চ্চা করেছেন, তাকে দিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কমিউনিটি পুলিশিং পড়াতে তাই কমিউনিটি পুলিশিং অনুসারী অফিসার বা প্রশিক্ষক দরকার ।

আমাদের মাঠ পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা ও এর উপর অফিসার বিশেষ করে সিনিয়র অফিসারদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে সম্মক ধারণা দেয়ার জন্য লেকচারে আমি প্রায়শই একটি বাঁশের বাঁশি নিয়ে যাই। বাঁশের বাঁশি বাজানোর উপমা দিয়ে আমি কমিউনিটি পুলিশিং বাস্তবায়ন সমস্যার প্রতি অফিসারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করি। আমি অফিসারদের কাছে একটি বাঁশি দিয়ে তাদের সেটা বাজাতে বলি। ব্যতীক্রম ক্ষেত্র ছাড়া তারা কেউ বাঁশি বাজাতে পারেন না। আমি তাদের বলি পুলিশে ২০ বছর ধরে চাকরি করছেন অথচ বাঁশি বাজাতে পারেন না। তারা উত্তর দেয়, স্যার, আমাদের তো এখানে বাঁশি বাজানো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নাই। তা ছাড়া আমাদের সিনিয়র অফিসারগণও তো বাঁশি বাজাতে জানেন না। সারদায় আমাদের দাঙ্গাদমন শেখানো হয়েছে, উদ্ধার, গ্রেফতার, তল্লাসির পাঠ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাঁশের বাঁশি বাজানোর তো কোন পাঠ দেওয়া হয় নাই। তাহলে আমরা বাঁশি বাজানোর দক্ষতা অর্জন করব কোত্থেকে?

আমি বলি, পুলিশে ২০ বছর চাকরি করে, একটার পর একটা প্রমোশন নিয়ে উচ্চতর পদে গেলেও কোন অফিসারের যেমন বাঁশে বাঁশি বাজানোর কৌশল অজানা থাকতে পারে, তাদের বাঁশিগত দক্ষতা যেমন শূন্য হতে পারে, তদ্রুপ ২০ বছর ধরে পুলিশে চাকরি করে বা এসপি-ডিআইজি হয়ে কেউ যে কমিউনিটি পুলিশিং বুঝবেন বা বোঝাতে পারবেন এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। এই সহজ বিষয়টি যত সহজেই আমাদের অফিসারগণ, বিশেষ করে সিনিয়র অফিসারগণ বুঝবেন এবং কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর প্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জন করবেন ততো মঙ্গল।

২০০৯ সাল থেকে পিআরপি এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হওয়ার পর কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ গতিশীলতা পায়। খসড়া কৌশলপত্র অনুসারে দেশে কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর গভীর তাত্ত্বিক জ্ঞানের অধিকারী একটি অফিসার পুল গঠনের জন্য চেষ্টা করা হয়। এই ক্ষেত্রে চলে প্রশিক্ষক তৈরিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের তাত্ত্বিজ্ঞানে সম্মৃদ্ধ করার প্রচেষ্টা। পুলিশ স্টাফ কলেজ, মিরপুরে প্রতি বছর প্রায় শতাধিক এএসপি/সিনিয়র এএসপি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এই সব প্রশিক্ষণে মাঠ পর্যায় থেকে আসা সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাগণ তাদের প্রচলিত পুলিশিং কৌশলের সাথে কমিউনিটি পুলিশিং দর্শনকে তুলনা করে কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর তাত্ত্বিক জ্ঞান লাভ করে। এ সব প্রশিক্ষণে তাদের পুলিশিং এর মূল দর্শনগুলোর মধ্যে তুলনা করার সুযোগ করে দেয়া হয়। মাঠ পর্যায়ে ফেরত যাওয়া এই সব অফিসার কমিউনিটি পুলিশিং সংক্রান্ত মাঠের বিশৃঙ্খল অবস্থাকে কিছুটা হলেও সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। পিআরপি প্রতি বছর প্রায় দুই শতাধিক কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার-ইন-চার্জদের নিয়ে কমিউনটি পুলিশিং বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠান করে থাকে। এই সব কর্মশালায় মাঠ পর্যায়ের সমস্যাগুলোর পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং এর তাত্ত্বিক দিকটিও আলোচিত হয়। এর ফলে অফিসারগণ নতুন উদ্যোমে মাঠে গিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং এর আসল রূপটি চর্চা করার চেষ্টা করেন।

কমিউনিটি পুলিশিং হল পুলিশ ও জনগণের যৌথ অংশীদারিত্বের একটি অপরাধ প্রতিরোধমূলক পুলিশি ব্যবস্থা। তাই পুলিশ অফিসারদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এখানে কমিউনিটির সদস্যদেরও কমিউনিটি পুলিশিং এর মৌল তত্ত্বের পাঠ নিতে হবে। কিন্তু গড়পড়তায় কমিউনিটি সদস্যদের শ্রেণিকক্ষে এনে প্রশিক্ষণ বা কমিউনিটি পুলিশিং এর তাত্ত্বিক জ্ঞান বিতরণ প্রায় অসম্ভব। যুক্ত রাষ্ট্রে অবশ্য এটা করা হয়। কিন্তু সেখানেও প্রশিক্ষণ সীমীত পর্যায়ের। যুক্ত রাষ্ট্রের প্রায় ৪৩টি অংগ রাজ্যে কমিউনিটি পুলিশিং প্রশিক্ষণের জন্য পৃথক পুলিশ ট্রেনিং স্টোর রয়েছে। সেখানে পুলিশ অফিসারদের পাশাপাশি কমিউনিটির সদস্যরাও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকে। তবুও তারা সবার কাছে পৌঁছিতে পারে না। এ জন্য অবশ্য তারা কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর প্রচুর সাহিত্য ও প্রচারপত্র তৈরি ও বিতরণের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ সব ব্যবস্থা এখনো কল্পনায় রয়ে গেছে। এখানে পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্যদেরই প্রশিক্ষণ দিয়ে শেষ করা যায় না। তাই সাধারণ জনগণকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এনে কমিউনিটি পুলিশিং প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব নয়।

তবে মাঠ পর্যায়ে ওসি ও সিপিওদের পাশাপাশি সীমীত সংখ্যক কমিউনটি পুলিশিং ফোরামের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে যৌথ কর্মশালার আয়োজন করে পিআরপি সে কাজটির সূচনা করেছে। প্রতি বছরই আর্থিক সহায়তা প্রাপ্ত কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সাধারণ সম্পাদাক, সভাপতি, প্রচার সম্পাদক প্রমূখদের ওসি/সিপিওদের সাথে করে কর্মশালার অনুষ্ঠান করা হয়। এক্ষেত্রে পুলিশ ও কমিউনিটির সদস্যগণ একই টেবিলে বসে তাদের এলাকার সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করে, এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে।

কমিউনিটি পুলিশিং একাধারে একটি দর্শন ও পুলিশি কর্মকৌশল। দর্শনের মূল কাজই হল তার অনুসারীদের মনোভাবের পরিবর্তন। এই পরিবর্তন প্রকাশিত হবে পুলিশ অফিসারদের কর্তব্যপালন পদ্ধতিতে, তাদের আচরণে ও সেবা প্রদানের ধরন বা স্টাইলে। শত বছর ধরে অনুশীলন করা একটি পুলিশিং দর্শনকে রাতারাতি পরিত্যাগ করে নতুন একটি দর্শনে আস্থা স্থাপন করা কোন পুলিশ সংগঠনের পক্ষেই সম্ভব নয়। পুলিশ নেতৃত্ব কখনই পরীক্ষীত একটি দর্শনকে একটি অপরীক্ষিত বা স্বল্প পরীক্ষিত দর্শন দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে চাইবেন না। তাই কমিউনিটি পুলিশিং এর উপর স্বচ্ছ ধারণা ও গভীর তাত্ত্বিক জ্ঞানের অধিকারী অফিসার-ব্যবস্থাপক ও নেতৃত্ব ছাড়া কোন পুলিশ সংগঠনে কমিউনিটি পুলিশিং শেখড় গাড়তে পারে না।

যদি বাংলাদেশ পুলিশ প্রকৃত পক্ষেই কমিউনিটি পুলিশিং দর্শন বাস্তবায়ন করে তার পুলিশিং স্টাইল বা সেবাপ্রদানে পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চায়, তাহলে তাদের কমিউনিটি পুলিশিং এর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয়বিধ জ্ঞানার্জনে প্রত্যয়ী হতে হবে। পুলিশ নেতৃত্বকে নিশ্চিত করতে হবে যে পুলিশের কোন প্রশিক্ষণই যেন কমিউনিটি পুলিশিং এর পাঠ না দিয়ে শেষ করা না হয়। পাশাপাশি এই দর্শনে সাধারণ মানুষকে প্রশিক্ষিত করে তোলারও বাস্তব কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। (০৪/০৪/২০১৪)