ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

গত ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩ তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার তিন কলাম জুড়ে পুলিশ নিয়ে একটি বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, ‘স্বাধীন হতে চায় পুলিশ’[১]। অবশ্য একই প্রতিবেদনের নিচে আর একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল যার শিরোনাম ছিল, বদলী আদেশকে বুড়ো আঙ্গুল’। দুইটি প্রতিবেদনই এমন এক সময় প্রকাশ করা হয়েছিল যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে নব নির্মিত ‘ন্যাশনাল ক্রাইম কন্ট্রোলএন্ড অপারেশন মনিটরিং’ বিল্ডিংটি উদ্বোধনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিঃসন্দেহে এ প্রতিবেদনগুলো পুলিশ ও সরকারের জন্য নেতিবাচক প্রচারণার অংশ। এ ধরনের একটি নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য এ দিনটিকেই বেছে নেওয়ার পিছনে যে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য আছে তা সহজেই অনুমান করা যায়। এমনও হতে পারে এ প্রতিবেদনের পিছনে কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের হাত রয়েছে যারা দেশকে সামনের দিকে নয়, পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। সরকারের একটি বিভাগের সাথে খোদ সরকারেরই দ্বন্দ্বের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়।

বোদ্ধা পাঠক একটু লক্ষ করলেই বুঝতে পারবেন, পত্রিকার শিরনামের সাথে ভিতরের প্রতিবেদনের তেমন কোন মিল নেই। প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত খসড়া পুলিশ আইনের এমন কোন ধারা উল্লেখ করা হয় নাই যা পুলিশকে স্বাধীনতা প্রদান করবে বা করার পাথে নিয়ে যাবে।

একটি প্রশ্ন সাপেক্ষ তথ্য হল, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ পরিচালনার জন্য ঔপনিবেশিক আইনটি পুনঃস্থাপনে একটি যুগোপযোগি আইনের খসড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে গত এপ্রিল মাসে, মানে, আজ থেকে প্রায় ছয় মাস আগে। যদি পুলিশ আইনের খসড়াটি নিয়ে এমন একটি প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূতই হত, তাহলে তা অন্তত ছয় মাস আগেই প্রকাশিত হতে পারত। আবার যদি এটা ততোটা গুরুত্বপূর্ণ মনে না করা হতো, তাহলে, তা আরো ছয় মাস পরে না হলেও অন্তত ছয় দিন পরেও প্রকাশিত হতে পারত।

কিন্তু এসব দিকের কোনটিই বিবেচনায় না নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এসে ভবন উদ্বোধন করা ও পুলিশ অফিসারদের সাথে তার খোলাখুলি মত বিনিময় করার দিনটিকেই কেন বেছে নেওয়া হল পুলিশ সম্পর্কে এমন একটি নেতিবাচক খবর বা প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য, তা পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়ার সাথে যারা জড়িত কিংবা পুলিশের পরিবর্তনের জন্য যারা কায়মন বাক্যে প্রচেষ্টারত তাদের মনে নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। অবশ্য এতে অবাক হবার কিছু নেই। কারণ, এ দেশে পুলিশের উন্নয়ন হোক কিংবা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, এটা অনেকেই চায় না।

প্রতিবেদনটির শিরোনামে বলা হয়েছে , পুলিশ স্বাধীন হতে চায়। পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়ার সূচনালগ্ন থেকেই বেশ কিছু মহল থেকে দেশে এ জাতীয় গুজব রটানো হচ্ছে। কারণ পুলিশের সংস্কার হলে, বর্তমানের পতিত অবস্থা থেকে পুলিশের আধুনিক জনবান্ধব অবস্থায় উত্তরোণ ঘটলে সমাজের বেশ কিছু মহল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যারা অন্যায্য আইন-বিধির শৃঙ্খলে সাধারণ মানুষকে বন্দী রেখে, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে এ দেশের আপামর জনগণকে শোষণ করে নিজেদের আখের গোছাতে ইতোমধ্যেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাদের জন্য এ সমাজের বর্তমান স্থিতিতাবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশের সংস্কার এ শোষণ-বান্ধব স্থিতিতাবস্থাকে ভেঙ্গে দিবে বলেই এ সব মহল পুলিশের পরিবর্তনকে ভাল চোখে দেখে না।

পুলিশের আইনগত দুর্বলতা, পরিচালনা ও তত্ত্বাধানের স্বেচ্ছাচরিতায় একচ্ছত্রভাবে উপকৃত মহলগুলো প্রতিনিয়তে যে গুজবটি ছড়াতে বেশি পছন্দ করে তাহল, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের যে কোন বিচ্যূতিই পুলিশকে সরকার থেকে স্বাধীন করবে। তাই পুলিশকে বাড়ি দেওয়া যাবে, গাড়ি দেওয়া যাবে, অস্ত্র দেওয়া যাবে, বস্ত্র দেওয়া যাবে, খাবার জন্য চাল-ডাল-তেল-চিনি এমনকি ঘি পর্যন্ত দেওয়া যাবে, কিন্তু দেড়শত বছরের সেই ঔপনিবেশিক পুলিশ আইনটি অক্ষত রাখতে হবে।অথচ পুলিশের পরিবর্তন ও সংস্কারের পথে ১৮৬১ সালের আইনটির আমূল পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন অত্যন্ত জরুরি। যারা আমাদের দেশে পুলিশ সৃষ্টির জন্য আইন তৈরি করেছিলেন, সেই ব্রিটিশ ভূখণ্ডের পুলিশের জন্য সবচেয়ে পুরাতন আইনটি পাশ হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। এর পরও প্রতিনিয়তই তা পরিবর্তিত হচ্ছে এমনকি ২০০২ সালেও সেখানে পুলিশ সংস্কার আইন নামে একটি নতুন আইন তৈরি হয়েছে যার মাধ্যমে পুলিশের সংস্কার চলছে।

যারা পুলিশকে স্বাধীন হওয়ার জুজুর কথা বলেন, তারা কিন্তু খোলাসা করে কখনই বলেন না, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের গণতান্ত্রিক শাসনের অধীনে থেকে কোন একটি সরকারি সংস্থা কিভাবে স্বাধীন হতে পারে। এটা যে তারা ইচ্ছে করেই বলেন না, তা নয়। এটা না বলার পিছনে বড় কারণ হচ্ছে, আসলে তারা নিজেরাই জানেন না পুলিশ কিভাবে স্বাধীন হতে পারে বা হওয়া সম্ভব।

‘স্বাধীনতা’ শব্দটির বিভ্রান্তিকর অপপ্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘পুলিশের স্বাধীনতা বিষয়টি’ সম্ভবত সবচেয়ে বেশি অপপ্রয়োগের স্বীকার হয়েছে। একটি দেশ স্বাধীন হয়। দেশের ভিতর কোন বিধিবদ্ধ সংস্থা সীমীত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান স্বাধীন বা স্বায়ত্বশাসিত সুবিধা নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে দেশের সংবিধানে তা সুস্পষ্ট করে বলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ আইনে পুলিশকে এমন কোন বিধিবদ্ধ সংস্থা বা কমিশনের বিধান নেই বা ভবিষ্যতে থাকবেও না যার ফলে পুলিশের পূর্বে স্বাধীন শব্দটি জুড়ে দেওয়া যায়। কারণ সংবিধান অনুসারেই পুলিশিং রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের আওতাধীন।

বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রের তিনটি অংগ তথা সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের পৃথক পৃথক কাজ ও দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে। সংসদ ও বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন। সংসদ ও বিচার বিভাগ সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু নির্বাহী বিভাগ সংসদ ও বিচার বিভাগের উপর আইন অনুসারে কোন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। কোন গণতান্ত্রিক আধুনিক দেশে এইটিই কাম্য।

পুলিশ বলি, প্রশাসন বলি আর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা বলি, এদের সবই নির্বাহী বিভাগের অধীন। পৃথিবীর কোন স্বাধীন দেশে সাংবিধানিক পুলিশ নেই, স্বায়ত্বশাসিত পুলিশ নেই, আবার পরাধীন পুলিশও নেই। ‘পরাধীন পুলিশ’ অভিধাটি যদি কোন পুলিশ সংস্থার পূর্বে জুড়ে দেওয়ার মতো হয় তবে, তাহল কোন ঔপনিবেশিক শাসকদের অধীনে ন্যাস্ত পুলিশকেই বুঝতে হবে। কেননা, উপনিবেশের পুলিশ পরাধীন জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশের শাসনভার ন্যস্ত থাকে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর। আর পুলিশ তাদের সে ভার বহনের অন্যতম বাহক। এমতাবস্থায়, স্বাধীন পুলিশের তো কোন প্রশ্নই ওঠে না।

আধুনিক জনপ্রশাসনের একটি স্বাভাবিক অনুসিদ্ধান্ত মতে পুলিশী কর্মকাণ্ডের বহুলাংশ বিচার ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত। পুলিশ ফৌজদারি বিচার ব্যাস্থার দ্বার নিয়ন্ত্রণ করে। এমতাবস্থায়, পুলিশকে আইন অনুসারে এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয় যা চূড়ান্ত বিচারে আদালতে সরকার বা জনগণের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। তাই পুলিশের কর্মপদ্ধতিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়ে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে, এমনকি, অনেক উন্নয়নশীল দেশের পুলিশ সংস্থাগুলোর দিকে তাকালে আমরা দেখব যে, তাদের পুলিশ আইন ও পদ্ধতির মধ্যে অযাচিত বহির্বিভাগীয় হস্তক্ষেপ সীমিত করা এবং অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব করে তোলার মতো আইনী সুরক্ষা রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে যথেষ্ঠ পশ্চাৎপদতা রয়েছে। আমাদের দেশের পুলিশ আইনটি তৈরি হয়েছিল ১৮৬১ সালে। তখন আমাদের দেশ ছিল একটি ব্রিটিশ উপনিবেশ। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে, দেশের সরকারকে অনেকাংশেই পুলিশের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সরকার পুলিশকে একজন ব্যক্তির মতো ব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে, পুরিশের তত্ত্বাবধানের ভার সরকারের উপরই ন্যাস্ত থাকে। এমতাবস্থায়, সরকার পুলিশকে কিভাবে তত্ত্বাবধান করবে তার একটি সুনির্দিষ্ট আইনী নির্দেশনা থাকা দরকার।

কিন্তু একটি পরাধীন দেশের আইন তার পুলিশকে যেভাবে পরিচালনা করতে চাইবে, একটি স্বাধীন দেশ ও সেই দেশে যখন গণতান্ত্রিক সরকার অধিষ্ঠীত থাকে, তারা অভিন্নভাবে চাইতে পারে না। একটি ঔপনিবেশিক সরকারের উদ্দেশ্য হল সর্বাধিক কঠোরতা, নিষ্ঠুরতা ও অধিকারহীনতা বজায় রেখে উপনিবেশের সম্পদ আহরণ করে সরকার পরিচালনাকারীদের নিজ দেশে তা নিয়ে গিয়ে পূঁজি সৃষ্টি করা। কিন্তু একটি স্বাধীন দেশের সরকারের উদ্দেশ্য হবে তার দেশের জনগণের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।

বলা বাহুল্য, এ সব ভিন্নতা পরিলক্ষিত হবে সে দেশের আইন-কানুন ও বিধি বিধানের মাধ্যমে। পুলিশ আইন এমনি একটি আইন মাত্র। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অধীন হওয়ার পরও কোন সংস্থা নিজেকে স্বাধীন মনে করবে এমন কথা গুজবের আকারে প্রকাশ করা গেলেও তার ভিতর বাস্তবতা নেই।

মনে করা হয়, পৃথিবীতে সবচেয়ে বহির্বিভাগীয় হস্তক্ষেপহীন পুলিশ হল ব্রিটিশ পুলিশ। ব্রিটিশ পুলিশ সম্পর্কে বলা হয়,

English Policemen from the earliest days of the Metropolitan Police thought of their force as separate from the rest of the apparatus of the state, and would have hotly denied any responsibility to the government; an English policemen of today will still distinguish between the government and the law, and will declare that he obeys the latter and not the former[2].

আইন, বিধি ও ঐতিহ্যগতভাবেই ব্রিটিশ পুলিশ নিজেদেরকে সরকারের অংশের চেয়ে রাষ্ট্রের অংশ বলে মনে করে। সরকারের গৃহীত নীতি জনগণের জন্য নিপীড়ণমূলক হলে সেই নীতি ব্রিটিশ পুলিশকে দিয়ে বাস্তবায়ন করা কঠিন। কারণ ব্রিটিশ পুলিশ সদস্যরা নিজেদের সরকারের অধীন নয়, আইনের অধীন বলে মনে করে। রাষ্ট্রের আইন সরকারের পক্ষে না হলে ব্রিটিশ পুলিশ সরকারের পক্ষে থাকে না। তারা সরকারের চেয়ে আইনকেই বেশি মান্য করে।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে ব্রিটিশ পুলিশ ব্রিটিশ সরকার থেকে স্বাধীন। বরং পুলিশের জবাবদিহিতা সেখানে বিভিন্ন বিধিবদ্ধ পদ্ধতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ব্রিটিশ পুলিশের জবাবদিহিতা সম্পর্কে নিম্নের পর্যবেক্ষণটি প্রণিধানযোগ্য-

Operational accountability in British policing has several facets. The chief officer is answerable to the police authority directly for the operational implementation of policing priorities, answerable also to the Home Office for implementation of national directives regarding policing priorities, and to the Inspectorate for overall efficiency of policing — Nevertheless, they(the chief constable) were appointed by their police authorities, and could be dismissed by them, but only with Home Office approval[3].

বাংলাদেশে পুলিশ সংস্কারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তার অনেক মাত্রার মধ্যে একটি আইনগত মাত্রা রয়েছে। প্রায় দেড়শত বছরের পুলিশ আইনটির পরিবর্তে একটি আধুনিক পুলিশ আইন প্রবর্তন করা তারই একটি অংশ। এই আইনে এমন কোন ধারা থাকবে না, কিংবা এমন কোন ধারা সংযোজিত হলে তা সংসদ কর্তৃক পাশ করা হবে না, যা পুলিশকে জবাবদিহীতার বিপরীতে একচ্ছত্র ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব দিবে। আর বাংলাদেশ পুলিশ নেতৃত্বও এমন কোন ক্ষমতা বা দয়িত্ব চাইবে না যা দেশের সরকারের বৈধ কর্তৃত্বকে খর্ব করবে। কেননা, সরকার জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে, আর পুলিশ সরকারের অধীনে জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।

দৈনিক কালের কণ্ঠের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত পুলিশ আইনে খসড়ার যে উদ্ধৃত সমূহ দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত একপেশে, স্থূলধারণা সম্বলিত ও অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল দ্বারা প্রভাবিত। এই ক্ষেত্রে তাদের উচিত-
• ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনটি ভাল করে পড়া,
• বর্তমান খসড়াটির আগাগোড়া ভালভাবে পড়া,
• পুলিশের পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান, জবাবদিহিতার প্রচলতি বিধি-বিধানগুলো পর্যালোচনা করা,
• আধুনিক উত্তম-ব্যবহারগুলোর সাথে তাদের তুলনা করা,
• উন্নত দেশের পুলিশ আইনগুলো সম্পর্কে অন্তত সাধারণ ধারণা গ্রহণ করা,
• সাবেক উপনিবেশগুলোর পরিবর্তিত পুলিশ ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা,
• ভারতীয় উপমহাদেশের বর্তমান পুলিশ ব্যবস্থা, বিশেষ করে পাকিস্তান, শ্রীলংকা এবং ভারতের পুলিশ ব্যবস্থার আধুনিক হাল সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া, এবং সর্বশেষ
• বাংলাদেশের বর্তমান পুলিশ সংস্কার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পক্ষপাতহীন জ্ঞানার্জন করা।
(১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩)

সূত্রাবলী:
1. http://www.kalerkantho.com/national/2013/09/15/5347
2. Pioneers in Policing By Philip John Stead; McGrow-Hill UK :1977
3. Changing Policing Theories for 21st Century Societies by Charles Edwards,p-231